icon

এই প্রজন্মের অপুর্ব সৃষ্টি – উন্মেষ

Jumjournal

Last updated Aug 25th, 2020 icon 438

আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রদর্শিত চমৎকার রেইমশো- টা ছিল উন্মেষ টিমের এক অপুর্ব সৃষ্টি। মুগ্ধ শ্রোতা-দর্শক সবার হৃদয়ে অন্যরকম ভাবাবেগ জাগ্রত করেছিল। মাতৃভাষার প্রতি মানুষের যে অপরিসীম ভালোবাসা হৃদয়জুড়ে সর্বদা বিরাজমান থাকে তা তুলে ধরেছিল সুনিপুণ ভাবে, মানবদরদী, স্বপ্ন স্রষ্টা, জাগ্রত ও দুর্নিবার তারুণ্য ‘উন্মেষ’।

বন্দুকভাঙ্গার বর্ষীয়ান গুণীজন বাবু অশ্বিনী কুমার চাকমা উন্মেষ শব্দটির এক নতুন অর্থ যুক্ত করেছেন। তিনি বলেন- উন্মেষ অর্থ হল ভালোবাসার বন্ধন। মানুষে মানুষে ঐক্য-সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধন রচনার জন্য যে স্বপ্ন ও আকাঙ্খা থাকে তারই নাম উন্মেষ।


সর্বত্র সর্বদা মানব সেবায়- উন্মেষ। তারা রক্ত দিয়ে মানুষের জীবন বাচাঁয়। তারা মানুষের মুখে হাঁসি ফোটায়। তারা মানুষকে এগিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখায়।

মা-বাবার বুকে আশা জাগায়। তারা সর্বদা নতুন কিছুতো করে। তারা দেশপ্রেমিক। তারা প্রগতিশীল। সুন্দর সমাজ বির্নিমাণের লক্ষ্য নিয়ে তারা সম্ভাবনার পথে এগিয়ে চলে দুরন্তগতিতে।

দীপেন-শিশির-বিটন- রিপেন-রিপেল-পারমিতা-প্রিয়সী-সুবিমল-রফিকজ্যোতি- বাবু মারমা-বিদ্যুৎ-সায়ন্তনসহ উন্মেষের সকল সদস্যদের তাদের প্রিয় সংগঠনটির ৮ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে অফুরান ভালোবাসা জানাই।

নতুন নতুন স্বপ্ন এবং অনবদ্য সৃষ্টি উন্মেষই রচনা করতে সক্ষম এটা এখন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সবাই।

শিক্ষা-স্বাস্থ্য-পুষ্টি-সমাজিক-সাংস্কৃতিক-সমাজসেবা কার্যক্রম- তরুণ সমাজকে ভালো কাজে সম্পৃক্তকরণ-নারী, শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ, প্রতিবন্ধী ও অবহেলিতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার মনোভাব, দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য জনসংযোগ ও সর্বদা প্রস্তুত থাকা, শিশু নির্যাতন- নারী নির্যাতন- বাল্য বিবাহ রোধ, বিপথগামী যুবসমাজকে ভয়াল নেশা ও মাদকসেবন থেকে বিরত রাখা, অসহায় রোগীদের চিকিৎসা এবং দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার জন্য তহবিল সংগ্রহ করা সর্বোপরি রক্তদান করে মানুষের জীবন বাঁচানো উন্মেষের তরুণদের মানবতাবাদী কর্মকান্ড।

এমন মানব কল্যাণের কাজে যেসকল তরুণ আত্মনিবেদিত হয়েছেন র্সবত্র সর্বদা মানব সেবার ব্রত নিয়েছেন তাদের সকলকে আমাদের পক্ষ থেকেও সর্বত্র-সর্বদা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ খ্রিঃ রোজ শুক্রবার ছিল উন্মেষের ৮ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার খারিক্ষ্যং উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উন্মেষের সভাপতি বিটন চাকমা, সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ চাকমা ও সংগঠনটির উপদেষ্টা স্নেহাশীষ চাকমা আশীষ দা অনেক আগেই আমাকে আমন্ত্রণ জনিয়েছিলেন। এমন সুন্দর আয়োজন যে তারা করে রেখেছিলেন তা আমার জানা ছিল না।

সকালে রাঙ্গামাটির ডিসি অফিস প্রাঙ্গণ থেকে বনরূপা পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত সুন্দর একটা শোভাযাত্রা করা হয়। সেখানে সমাজসেবক আবছার ভাইসহ সংগীত শিল্পী, কবি, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও তরুণ সমাজকর্মীরা অংশ নেন।


আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আমাদের রাঙ্গামাটির আলোকিত মানুষ সবার প্রিয়মুখ শিক্ষাবিদ নিরূপা দেওয়ান। আমার প্রিয় শিক্ষক গুরুজন,শ্রদ্ধেয়জন বাবু সবিনয় দেওয়ান স্যর, শ্রদ্ধাভাজন বাবু কবি প্রগতি খীসা, প্রিয়জন গায়ক বাবু কালায়ন চাকমা, আরেক প্রিয়জন সাংবাদিক বাবু হিমেল চাকমা, মান্যবর ডা. দেবরাজ চাকমা, উন্নয়ন সংস্থা টঙ্গ্যার সম্মানিত পরিচালক বাবু বিপ্লব চাকমা, প্রিয়মুখ সুনীলময় দাদা (লাইব্রেরীয়ান), মানবদরদী পুলিশ কর্মকর্তা প্রিয়দর্শী চাকমা দাদা, উন্মেষের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি-সহসভাপতি দু’জন স্বপ্নের নায়ক দীপেন চাকমা ও শিশির চাকমা ছিলেন বিশেষ অতিথি।

বন্দুকভাঙ্গার আরেক গুণীজন বর্ষয়ান মুরুব্বী প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশ্বিনী কুমার চাকমা সভায় উপস্থিত থেকে সভাকে সত্যিকার অর্থে সুশোভিত করেছেন।

উন্মেষের অনুষ্ঠানকে সুন্দর করতে শিক্ষক বিনয় দাদা, খারিক্ষ্যং উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মহোদয় অনেক সহয়োগিতা করেছেন।

বন্দুকভাঙ্গার বর্ষীয়ান গুণীজন বাবু অশ্বিনী কুমার চাকমা উন্মেষ শব্দটির এক নতুন অর্থ যুক্ত করেন। আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে তার বক্তব্য শুনছিলাম। তিনি বলেন- উন্মেষ অর্থ ভালোবাসার বন্ধন।

মানুষে মানুষে ঐক্য-সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধন রচনার জন্য যে স্বপ্ন তার নাম উন্মেষ। এই গুণীজনের পাদপদ্মে সর্বদা আমার শির নত হবে।

আলোকিত মানুষ নিরূপা দি যেখানে যান সেখানেই আলো ছড়ান। খারিক্ষ্যং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হয়ে গড়ে উঠার তাগিদ দিলেন।

৩৫ বছরের শিক্ষকতা জীবনকে তিনি সমাজকে আলোকিত করার ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন তা সত্যিকার অর্থে প্রেরণাপুর্ণ। রাজস্থলীতে, রাঙ্গামাটিতে শিক্ষাঙ্গণের উন্নয়নে, মেধাবী ও শিক্ষিত জাতিগঠনে কিভাবে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন তা আমরা সবাই জানি।

উন্মেষের মানবতাবাদী কার্যক্রমে একাত্মতা জানিয়ে সর্বদা পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন নিরূপা দি।

কালায়ন দাদার ক্ষুধাময় বাণী, আলোময় কথামালা, রসময় বর্ণনা আলোচনা সভাকে আলোড়িত করেছিল। আলোকিত মানুষ গড়তে বই পড়া, লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করা, মানব কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি নিজেও উন্মেষের পাশে থেকে কাজ করবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। লাইব্রেরীয়ান সুনীলময় দাদাও কালায়ন দাদার সুরে সুর মিলিয়েছিলেন।

চমৎকার বিষয়টা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করালেন বিপ্লব দাদা। চিন্তশীল মানুষেরাই এভাবে চিন্তা করতে পারেন বিপ্লব দা তেমনই একজন চিন্তাশীল মানুষ। বিপ্লব দা বলেন- সম্পর্ক দুই রকমের হয়।

রক্তদানের মাধ্যমে যে সম্পর্ক হয় তা অন্য যে কোন সম্পর্কের থেকেও সুন্দর ও সুদৃঢ় হয়। উন্মেষ মানুষে মানুষে যে রক্তের সর্ম্পক রচনা করে যাচ্ছে তা সত্যিই অতুলনীয়।

আমার শ্রদ্ধেয়জন গুরুজন সবিনয় দেওয়ান স্যার শুধু একজন স্কুল শিক্ষক নন। তিনি সমগ্র সমাজেরই একজন প্রকৃত শিক্ষক। জীবনে তিনি বহুবার রক্তদান করেছেন।

৫৪ বছর বয়স কিন্তু এখনও নিয়মিত রক্তদান করেন। মানবতাই স্যরের ধর্ম। স্যরকে আমি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। নিজের প্রাণপ্রিয় সহকর্মী কিডনি বিকল শিক্ষক বিশ্বমিত্র চাকমার প্রাণ বাঁচাতে সবার কাছে আকুতি জানান সবিনয় স্যার। উন্মেষের কল্যাণমুলক কাজে সর্বদা পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁর প্রেরণাময়ী বক্তব্যের মাধ্যমে।

প্রগতিশীল চিন্তাধারার অধিকারী সমাজ চিন্তক কবি সাহিত্যিক শ্রী প্রগতি খীসা। নামকরণের সার্থকতা এখানেই। কবি প্রগতিখীসা বন্দুকভাঙ্গার কৃতিসন্তান। রাঙ্গামাটির আলোকিত মানুষ।

উন্মেষের অনুষ্ঠানে তাঁর সদাহাস্যময় মুখাবয়ব আমাকে আনন্দ দিয়েছে। মনের ভেতর কিছুটা অহংকার পুষে রাখলেও ভাব প্রকাশে সর্বদা নিরহংকারী মানুষ তিনি। সর্বদা পাশের থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উন্মেষের এই শুভাকাঙ্খী।

তারুণ্যদীপ্ত, বুদ্ধিমান ও কর্মকতৎপর মানুষ সাংবাদিক হিমেল চাকমা। মানুষের দৃষ্টি যেখানে যায় না সবার প্রথমে তার দৃষ্টি সেখানেই পৌঁছে যায়। পার্বত্য চট্টগ্রামে হেপাটাইটিস বি- ভাইরাস সংক্রমণ বিষয়ে তিনি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেন।

এ বিষয়ে উন্মেষ যেনো কার্যক্রম হাতে নেয় সেই আহবান জানান। মানবসেবার কাজে উন্মেষ যেখানে হিমেলও সেখানে সেটাই তার অঙ্গীকার।

আপাদমস্তক ভদ্রলোক ডাক্তার দেবরাজ চাকমা উন্মেষের দাতা সদস্য। তিনিও পাশে থাকার কথা বলেন মানব সেবার মহান কাজে। ফেরার সময় লঞ্চে কথা হয় দেবরাজ দার সাথে। একটা অপ্রিয় কিন্তু চরম সত্য কথা বললেন তিনি। বললেন- আমরা স্বার্থপর।

এই যে ছেলেমেয়েরা উন্মেষ প্রতিষ্ঠা করে মানব সেবা করছে, রক্ত দান, দরিদ্ররোগীদের পাশে দাড়াচ্ছে তাদের জন্য আমরা কিছুই করি না। উন্মেষের অধিকাংশ সদস্য ছাত্র-ছাত্রী। তাদের আয়ের উৎস বলতে কিছুই নেই। টিউশনি করে, বাবা-মায়ের দেয়া খরচের টাকা থেকে টাকা বাঁচিয়ে তারা এসব মহৎ কজ করছে। তারা সত্যিই মহান। আমি দেবরাজ দাদার কথাটিকে ১০০ভাগ সত্য বলে মেনে নিয়েছিলাম।

চৌকষ পুলিশ কর্মকর্তা প্রিয়দর্শী চাকমার বক্তব্য শুনলাম। সংক্ষিপ্ত কথায় আত্মবিশ্বাসী এই মানুষটি বোঝালেন মানব সেবার কাজে তিনি কতটা অগ্রণী। কাজে বিশ্বাস করেন-কথায় নয়। সর্বত্র সর্বদা মানুষের কল্যাণে তিনিও পাশে থাকেন।

উন্মেষের যেকোন মহতী কাজে চিরকাল থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিনম্রভাবে- বিনয়ের সাথে গুণীজনদের শ্রদ্ধা প্রদর্শন করলেন।

জুবদার বাবুমনি দাদার চমৎকার বাঁশির সুরলহরী মুগ্ধ করেছে সবাইকে। তিনি ছায়ানটে বাঁশির অনুশীলন করেন এখন। বাঁশিওয়ালা বাবুমনি দা মানবতারও ফেরিওয়ালা।

মানবতার এই ফেরিওয়ালা উন্মেষের অনুষ্ঠানে বাঁশিওয়ালা হয়ে যে সুরের মুর্ছনা জাগালেন তা অনন্য। অনেকদিন মনে থাকবে তার বাঁশির সুর।

কবি রণজিত দা উন্মেষের পাশে থাকবেন তা আমাদের সবার জানা। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনিও উন্মেষের অগ্রযাত্রাকে স্বাগত জানালেন।

শুরুতেই বলেছিলাম আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে উন্মেষ টিমের মনকাড়া রেইম শো এই প্রজন্মের অপুর্ব সৃষ্টি। রেইম শোর পরে কালায়ন দা, পার্কি চাকমা, তিশা দেওয়ান, রূপেশ চাকমা পরিবেশিত জনপ্রিয় গানগুলো নবীন-প্রবীণ সকলকে উজ্জীবিত করে।

কালায়ন দা’দের গান পরিবেশনের সময় স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষকের স্টেজে উঠে গিয়ে তালে তালে নাচ আর শিল্পী কালায়ন দাদারাও উদার মনে তাদের পাশে রেখে গান পরিবেশন করেছেন সেই দৃশ্যটা চোখে ভাসবে অনেক দিন।

মারমা ভাষায় রচিত অমরসৃষ্টি সুমধুর সেই গানের সুরে সুরে তালে তালে খারিক্ষ্যং উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আকর্ষণীয় নৃত্য সবাইকে মুগ্ধ করেছে। দর্শক শ্রোতাদের করতালিতে আকাশ-বাতাস পুর্ণ হয়ে যায় তখন।

ছোট শিশু বিশাখা চাকমার নাচটিও অনেক সুন্দর হয়েছে। মেনোঘরের শিশু শিল্পীদের নৃত্যটাও দারুণ হয়েছে। মনে মনে ভাবি আমাদের পাহড়ে আরো কত যে প্রতিভা লুকিয়ে আছে। নাচে-গানে-কবিতায়-সাহিত্যে- পাহাড় সর্বদা সমৃদ্ধ।

পলিথন ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব, প্লাস্টিক ব্যবহারের ফলে কি কি ক্ষতি এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে উন্মেষ টিমের অনবদ্য নাটিকা সবার মনে দারুণ প্রভাব ফেলেছে।

বৃক্ষরোপন, পরিবেশ সুরক্ষা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়েও তারা শিক্ষা দেয় নতুন নতুন থিম সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে। জয়তু উন্মেষ। সর্বদা সর্বদা মানব সেবায় উন্মেষ। সর্বত্র সর্বদা কবিতায়-গানে-সাহিত্যে উন্মেষ। শিশুর হাসিতে উন্মেষ।

উন্মেষের লটারীতে বিশেষ পুরষ্কার জিতেছে আমার ছেলে আর্য্য চাকমা। সে এখন মহাসুখি। অনেক খুশি। এ জীবনে এটি তার কাছে একটি বিশাল প্রাপ্তি মনে করে সে। আমিও তাই মনে করি।

উন্মেষের ৮ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীকে সামনে রেখে এই সুন্দর পুরষ্কারটি প্রবর্তন করেছেন আমাদের সবার প্রিয় চলাবাপ আজু (সঞ্চয় চাকমা- ব্যাংক কর্মকর্তা)। আর্য্য বাবুর লটারীতে জয় করা ছবিটিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের সুন্দর ছবি রয়েছে।

যেখানে নীল আকাশ, হ্রদের স্বচ্ছ নীল জলরাশি, সবুজ ধানক্ষেত-জুম, সোনালী রঙের পাকা ধানশীষে ভরা জুম। সুন্দর জুমঘর, দৃষ্টিনন্দন পাহাড়ের সারি এসব অপুর্ব সন্নিবেশ ছবিটাতে রয়েছে। যতই দেখি ততই ভালো লাগে। বাবুটার ছবি জয়ে তার মায়ের মুখেও হাসি ফোটেছে। বাড়ির সবাই মনে করছে আমাদের বাবুটা কতই লাকী!

শুক্রবার সকালে যখন লঞ্চযোগে উন্মেষের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলাম তখন আগের মতই ঘোষণা আসল নাস্তা খাবার পর টিসু পেপার, বিস্কুটের প্যাকেট ও অন্যান্য বস্তু যেন কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ফেলা না হয়।

পরিবেশের প্রতি উন্মেষ’র সযত্ন দৃষ্টি বারে বারে আমার ভালো লাগে। আকর্ষণীয় চাকমা গান সাউন্ডবক্সে গাইতে গাইতে ধীর গতিতে চলতে থাকে লঞ্চ। হ্রদের পানিতে ছোটো ছোটো ঢেউ, পথের ধারে হ্রদের জলে ভাসমান ভিটেগুলোতে সবুজ সতেজ ঘাস-গাছ-গাছালি সবার মন কাড়ে।

আমরা জানতেই পারি না আমাদের হৃদয় পুর্ণ করতে প্রকৃতি সর্বদা সুন্দরভাবে সেজে থাকে। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে দুর পাহাড়ের সুন্দর ছবি দেখতে দেখতে একসময় লঞ্চ পৌঁছে যায় খারিক্ষ্যং উচ্চ বিদ্যালয় ঘাটে।

সেখানে প্রধান অতিথি নিরূপা দি , উন্মেষের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দীপেন চাকমা, বর্তমান সভাপতি বিটন চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ চাকমাকে সংবর্ধনা ও ফুলের শুভেচ্ছা জানান খারিক্ষ্যং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী- শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং বর্ষীয়ান মুরুব্বী প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশ্বিনী কুমার চাকমা। গুণীজনের সাথে গুণীজনের সম্মিলন ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করার মত অপুর্ব দৃশ্য দেখে পুলকিত হয়েছিলাম।

লেখক: বিহারী চাকমা

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

Jumjournal

Administrator

Follow Jumjournal

Leave a Reply