icon

খিয়াংদের ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র

Jumjournal

Last updated Sep 30th, 2020 icon 91

খিয়াংদের ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র:

খিয়াং সমাজে এক সময় বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিজেরা তৈরী করে ব্যবহার করত। তাদের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তারা এই বাদ্য যন্ত্রটি ব্যবহার করে। কালের আবর্তে এই বাদ্যযন্ত্র গুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। খিয়াংদের ব্যবহৃত কিছু বাদ্যযন্ত্রের তালিকা দেয়া হল।

১। হ্ঙিয়াং – ম্রো আদিবাসীদের মত বাঁশি

২। চিং – ঢোল

৩। তেংতেলেহ্ – গোলাকারের ঢোল

৪। ক্রেই/ক্লেই- বাঁশের বাঁশি

৫। চোং- গীতারের মত দেখতে। এই বাদ্যযন্ত্রটিতে তিনটি তার থাকে।

৬। ডিংকোলোকোং- বড় আকারের বাঁশের টুকরাটি ছিদ্র করে তৈরী করা হয়।

৭। খিংখোং- বাঁশের তৈরী। এটি মুখ দিয়ে বাঁজায়।

৮। রাংখোয়াং-জুরি।

১। হ্ঙিয়াং: এই বাদ্যযন্ত্রটি ম্রো আদিবাসীরা বর্তমানে ব্যবহার করতে দেখা যায়। অতীতে এই ম্রো বাঁশিটি খিয়াংরা তাদের বিভিন্ন পূজা-পার্বণে ব্যবহার করত।

খিয়াংরা এই বাদ্যযন্ত্রটি বাঁশের বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরী করে থাকে। খিয়াংদের জীবন থেকে এটি চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই বাদ্য যন্ত্রটি ব্যবহার করতে আর দেখা যায় না।

যখন থেকে হারমোনিয়ামের প্রচলন শুরু হয়, তখন থেকে হ্ঙিয়াং বাদ্যযন্ত্রটির ব্যবহার থেকে বিরত থাকে বলে জানা গেছে। বর্তমানে কিছু কিছু খিয়াং পরিবারে হারমোনিয়াম ব্যবহার করতে দেখা যায়।

 

২। চিং (ঢোল) : আমি ছোট বেলায় রাজস্থলীতে আত্মীয়ের ঘরে দেখেছি নিজেদের বানানো ঢোল। এটি  প্রথমে গাছের ভিতরের অংশ খোদাই করে তারপর শিকার করা হরিণের চামড়া, ছাগলের চামড়া অথবা গয়ালের চামড়া দিয়ে তৈরী করা হয়।

এই ঢোল বেশীর ভাগ ব্যবহার করে জুমের ঘরে । জুমের মধ্যে বন্য প্রাণীদের উৎপাত দেখা দিলে ঢোল বাঁজিয়ে তাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া ঢোল বাঁজিয়ে গান করে।

কোন পরিবারে যদি মৃত দেহ সৎকার করে, তখনো ঢোল বাজিয়ে মৃত দেহকে স্ব-সম্মানে দাহ্ করতে নিয়ে যায়। তাছাড়া কোন গ্রামে যদি কোন লোক মারা যায়, সে সময় মৃত দেহটি দাহ্ না করা পর্যন্ত ঢোল বাজায়।

খিয়াংদের বিশ্বাস মতে, এক ধরনের বড় পাখি এসে নাকি মৃত দেহটি উড়িয়ে নিয়ে যায়। তাই মানুষ মরে গেলে ঢোলটি বাজানো হয়। ঢোলের শব্দে নাকি পাখিটি আসে না বলে তাদের বিশ্বাস রয়েছে।

কয়েক ধরনের ঢোল নিজেরা তৈরী করে ব্যবহার করে। বর্তমানে এই ঢোলগুলো  খিয়াং সমাজে খুবই কম ব্যবহার করতে দেখা যায়। বর্তমানে খৃষ্টান ধর্মাবলম্বী খিয়াংরা চার্চে ঢোল বাঁজিয়ে উপাসনা করতে দেখা যায়।

বর্তমানে ব্যবহৃত ঢোল
বর্তমানে ব্যবহৃত ঢোল

 

৩। তেংতেলেহ্: এটি এক মুখী গোলাকার ঢোল। এই ঢোলটি গলায় ঝুলিয়ে দু’টি লাঠির সাহায্যে বাজানো হয়। অন্যান্যরা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব সাংগ্রাই, বিজু বা বৈসু বলে।

খিয়াংরা এই উৎসবকে বলে সাংলান। সাংলান বা হেনেই ও অন্যান্য উৎসবে এই গোলাকার ঢোলটি(তেংতেলেহ্) ব্যবহার করে থাকে। কালের আবর্তে এই বাদ্যযন্ত্রটিও খিয়াং সামাজ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে এই বাদ্যযন্ত্রটি আর ব্যবহার করতে দেখা  যায় না।

৪। ক্রেই/ক্লেই(বাঁশি) : খিয়াংরা নিজস্ব ধংঙে বাঁশ  দিয়ে বাঁশি তৈরী করে থাকে। বাঁশির উপর তারা নানা রকমের কারুকাজ করতেও দেখা যায়। সাধারণত: জুমে ধান বা অন্যান্য শষ্যাদি রোপণের পর কয়েক মাসের মধ্যে জুমে খিয়াং ভাষায় (পেং ইম) এ স্ব-পরিবারে উঠে।

এ সময় ঘরের যুবক যুবতীরাও চলে যায় তাদের মা বাবাদের সাথে জুম চাষে সাহায্য করতে। তাদের এই জুম চাষকে কেন্দ্র করে যুবক আর যুবতীর মধ্যে কয়েকমাস একে অপরের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয় না।

সে সময় এক পাহাড় থেকে বাঁশি বাঁজিয়ে অন্য পাহাড়ের জুম চাষরত  যুবতীকে যুবক তার বাঁশির সুর দিয়ে উপস্থিতির ঘোষণা দেয়।

এভাবে তাদের মধ্যে একে অপরের মধ্যে বাঁশির সুর চালাচালি করে যোগাযোগ রক্ষা করত।  বাঁশির সুর শুনে কোন যুবক বা যুবতী তাদের মনের কথা ও ভাব বিনিময় বাঁশির সুরে আদান প্রদান করে থাকে। বাঁশির নিজস্ব সুর বলতে আলাদ নেই।

সাধারনত: বলা হয় ছেলে ও মেয়ের সুর। কোন যুবক তার বাঁশির সুরে বিভিন্ন রকমের ফুলের নাম ব্যবহার করে থাকে। সেই ফুলের নামের অর্থ তখন যুবতীটি বুঝতে পারে তার সুরে পাল্টা জবাব দিয়ে থাকে।

খিয়াংদের ব্যবহৃত ক্রেই(বাঁশী)
খিয়াংদের ব্যবহৃত ক্রেই(বাঁশী)

৫। চোং: খিয়াংরা এই বাদ্যযন্ত্রটি নিজেরা তৈরী করে থাকে। এই বাদ্য যন্ত্রটি দেখতে অনেকটা গীটারের মত। তিনটি তার বিশিষ্ট এই বাদ্য যন্ত্রটি যে কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে বাজানো হয়।

৬। ডিংকোলোকোং: এই বাদ্যযন্ত্রটি বড় বাঁশ দিয়ে তৈরী করে থাকে। বড় বাঁশের টুকরা নিয়ে উপরের কিছু অংশ ছিদ্র করে বা ছেঁটে দিয়ে এই বাদ্যযন্ত্রটি তৈরী করে থাকে।

বাঁশের মধ্যে দু’টি লাঠি দিয়ে তালে তালে এটি বাজিয়ে থাকে। এই বাদ্যযন্ত্রটি জুমে ব্যবহার করে থাকে।

জুমের শষ্যাদি বন্য প্রাণীর উৎপাত থেকে রক্ষার জন্য এই বাদ্য যন্ত্রটি ব্যবহার করে থাকে। তাছাড়া বিভিন্ন গীত গানে তালে তালে এটি বাজানো হয়। বর্তমানে এই বাদ্য যন্ত্রটিও আর দেখা যায় না।

৭। খিংখোং : এটি বাঁশের শলা দিয়ে তৈরী করে থাকে। মুখের সাথে লাগিয়ে এটিকে বাজানো যায় । অবসর সময়ে এই বাদ্য যন্ত্রটি বাজিয়ে থাকে।

৮। রাংখোয়াং : বাংলায় এটিকে জুরি বলে। এই বাদ্য যন্ত্রটি পিতল দিয়ে তৈরী করা হয়। সাধারণত: জুরি দু’টি অংশ সমান থাকে। এটির একটি অংশ পিতলের ছোট আকারের থালার মত দেখতে এবং অন্যটি পিতলের ছোট বাটির মত। এই বাদ্য যন্ত্রটিও সাংলান, হেনেই ইত্যাদি উৎসবে ব্যবহার করে থাকে।

Source : http://khyangbd.blogspot.com/2012/05/khyang-musical-instruments.html

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

Jumjournal

Administrator

Follow Jumjournal

Leave a Reply