icon

নির্বাসন থেকে ফিরে দেখাঃ এক চাকমা ব্যক্তির অভিজ্ঞতা (পর্ব ০৩)

Sayak Chakma

Last updated Jul 15th, 2020 icon 1325

এ পর্বে আছে মুক্তিযুদ্ধের শেষদিকে লেখকের বাড়ি ফেরার প্রচেষ্টা, যাত্রাপথে পদে পদে বিড়ম্বনা ও আদিবাসীদের প্রতি মুক্তিবাহিনীর অবিশ্বাস, ফলশ্রুতিতে স্বাধীনতার প্রাক্কালে জমাট বাঁধা জাতিগত বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ এবং আদিবাসীদের নিজভূমে পরবাসী হওয়ার সূচনা

দ্বিতীয়বারের ভয়াল যাত্রা, ঢাকা থেকে রাঙামাটিঃ

ডিসেম্বর মাস, ১৯৭১ এ ঢাকা বিমানবন্দরে তুমুল গোলাবর্ষণ হয়। জনসাধারণকে ঢাকা ত্যাগের আহবান জানিয়ে ভারতীয় বিমান থেকে অসংখ্য প্রচারপত্র (Leaflet) ফেলা হয়।

আমার সহপাঠীরা পরীক্ষা ফেলে রেখেই ঢাকা শহর ত্যাগ করে। ৩রা ডিসেম্বর আমি সদরঘাট যাই। আমি চট্টগ্রামগামী একটি স্টিমারে উঠব এটিই ছিল আগে থেকে ঠিক করা। কিন্তু প্রচণ্ড যুদ্ধের কারণে ঘাটটি আগে থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সেখানে ক’জন বাঙালির সাথে আমার আলাপ হয়। তারাও চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। আমি তাদের সাথে যোগ দিই একমাত্র আদিবাসী ব্যক্তি হিসেবে। একটি ট্যাক্সি নিয়ে আমরা প্রথমে নারায়ণগঞ্জ পৌঁছাই।

সেখান থেকে নৌকায় চড়ে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। আমরা চাঁদপুরে পৌছালেও সেখানে বিমান হামলা চলাকালীন থাকায় আমরা দ্রুত সরে যায়।

এক একজন এক এক দিকে চলে যান। কয়েক ঘন্টা পর আমি আমাদের দলের সবাইকে খুঁজে পাই। তারপর আমাদের আরেকটি ভয়ঙ্কর ও বিপজ্জনক যাত্রা আরম্ভ হয়।

কিছু সময় পায়ে হেঁটে ও কিছুটা রিকশা দিয়ে আমরা ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে থাকি।

রাস্তায় আমরা অসংখ্য মৃতদেহ প্রত্যক্ষ করি। শকুনের ঝাঁক দলবেঁধে এসে লাশগুলোকে খুবলে খুবলে খাচ্ছিলো।

সীতাকুণ্ড পৌছালে আমরা মুক্তিবাহিনীর হাতে আটক হই। আমার ভ্রমণসঙ্গীদের সামান্য জিজ্ঞাসাবাদ করেই অব্যাহতি দেওয়া হয়।

চাকমা গ্রাম,
Image Source: Genocide in the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh, Wolfgang Mey (ed.), IWGIA Document 51

কিন্তু আমাকে আটকানো হয় একটি আলাদা কক্ষে। প্রায় এক ডজন মুক্তিযোদ্ধা আমাকে ঘিরে ছিলেন। তাদের মধ্যে সকলেই সশস্ত্র এমনকি অনেকে তাদের অস্ত্র উদ্যত করে রাখে আমার দিকে।

তারা আমাকে গালিগালাজ করতে থাকে। তারা আমাকে একপর্যায়ে মারধোরও করে। আমি রীতিমত বাঁচার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। অত্যাচারের এক পর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।

জ্ঞান ফিরলে আমি আমার একজন সহযাত্রীকে দেখতে পাই। তার সাথে যাত্রাপথে আমার বেশ হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।

সেই সহযাত্রীটি মুক্তিযোদ্ধাদের বুঝাতে চেষ্টা চালাচ্ছিলেন যে তারা আমাকে বহুদিন যাবৎ চেনেন এবং আমি বহু আগে থেকেই আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক।

মুক্তিযোদ্ধারা সে কথায় মোটেই কর্ণপাত করেনি। তারা সাফ জানিয়ে দেয় যে তাদের নেতা না আসা পর্যন্ত আমাকে ছাড়া হবে না।

সেই নেতা উপস্থিত হন এবং কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেই আমাকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি যে একজন ছাত্র নেতা ছিলেন তা আমি পরে জানতে পারি।

সেখান থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে আমি আমার সহযাত্রীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা সত্যিই আমাকে অনেক সাহায্য করেছিল।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিই মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের বাহিনীকে আমরা এড়িয়েই সামনে অগ্রসর হবো।

বোমাং সার্কেলে বৌদ্ধ বিহার,
Image Source: Genocide in the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh, Wolfgang Mey (ed.), IWGIA Document 51

আমরা জঙ্গলের মধ্যে রাস্তা ধরে রাউজানের কিছুদূরে এসে পৌঁছাই। সেখানে যে আরেকটি মুক্তিবাহিনীর শিবির ছিল তা সম্পর্কে আমরা জ্ঞাত ছিলাম না।

তারা আমাদের থামতে বলে এবং আমাকে আটক করে। আমাকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেটি ছিল একটি পরিত্যাক্ত বিদ্যালয়। তাদের ভাষ্যমতে আদিবাসী বৌদ্ধ রাজারা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সহায়তাকারী এবং মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী।

তারা বলতে থাকে যে এর আগেরদিন একজন আদিবাসী গুপ্তচরকে আটক করে তারা তাকে হত্যা করে। তারাও আমাকে গুপ্তচর ভেবে নেয়।

কিন্তু এবার তারা মারধোরের চেয়ে মানসিকভাবে আমার উপর নির্যাতন চালাতে থাকে। ঘন্টার পর ঘন্টা তারা আমার দিকে অস্ত্র তাক করে রাখে।

আমাদের দলটির বন্ধুবৎসল সহযাত্রীটি এবারও এগিয়ে আসেন আমাকে রক্ষা করতে। তিনি মুক্তিবাহিনী ক্যাম্পের একজন নেতার সাথে কথা বলেন এবং আমার ব্যাপারে তাকে নিশ্চিত করেন। আমি বিকাল নাগাদ ছাড়া পাই।

আমার অনুরোধে মুক্তিবাহিনী থেকে আমাকে একটি পাস বা ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। যেন ভবিষ্যতে অনুরূপ হয়রানি ও বিড়ম্বনা থেকে আমি বেঁচে যাই।

আমি আমার বন্ধুপ্রতিম সহযাত্রীর প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ ও ঋণী। ছাড়া পাবার পর আমাদের দলের সকলকেই আমি খুশি হয়ে উঠতে দেখি।

স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মতে রাউজান থেকে রাঙামাটির সড়কটির পুরোটাই ছিল পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। এখান থেকে আমার গন্তব্য আলাদা হয়ে পড়ে।

আমার সহযাত্রী ও বন্ধুরা অন্য আরেকটি পথে তাদের গন্তব্যে আগাতে থাকেন। আমরা একে অপরের ঠিকানা আদানপ্রদান করি। পরবর্তীতে একে অপরকে চিঠি পাঠাব এ প্রতিজ্ঞা করে আমি বিদায় নিই।

তাদের ছেড়ে আসার পর আমি আমার ছাড়পত্রটি (Pass) জুতার মধ্যে লুকিয়ে রেখে বাস স্টেশনের দিকে যেতে থাকি। পথিমধ্যে চিৎকার শুনি, “হল্ট!”। এক পাকিস্তানী সৈন্য সশস্ত্র অবস্থায় আমার দিকে এগিয়ে আসে।

ঐতিহ্যবাহী দাবায় (বাঁশের তৈরি হুক্কা বিশেষ) তামাক সেবনরত চাকমা ব্যাক্তি, বেতছড়ি, খাগড়াছড়ি জেলা; Image Source: Christian Erni

তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে সে আমাকে আমার ব্যাগ খোলার নির্দেশ দেয়। আমি তার নির্দেশ মেনে ব্যাগ খুলে তাকে সব দেখাই। কিন্তু ভিতরে ভিতরে আমি ভয়ে কাঁপছিলাম ঠিকই। কারণ আমার কাছে ছিল মুক্তিবাহিনীর দেওয়া ছাড়পত্র।

আমাকে বরাবরের মতই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন একজন ব্যক্তি যিনি সৌভাগ্যক্রমে স্থানীয় চেয়ারম্যান। তিনি আমাকে দেখে আমাকে সাহায্য করতে আসেন। অথচ আমাদের দুজনের মধ্যে কোনো পূর্বপরিচয়ই ছিল না।

ঐ ব্যক্তি পাকিস্তানী সৈন্যটির কাছে আমাকে চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ের সম্প্রদায়ভুক্ত বলে পরিচয় দেন। তিনি এও বলেন যে ত্রিদিব রায় পাকিস্তানী বাহিনীকে সহায়তা করে আসছেন।

এ বক্তব্যে সৈন্যটি খুব একটা সন্তুষ্ট না হয়ে অনিচ্ছার সাথেই আমাকে যেতে দেয়। চেয়ারম্যান আমাকে অতিসত্বর আমাকে এলাকা ত্যাগ করার পরামর্শ দেন।

অন্যথায় আবারও আটক হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। অনেক সময় পাকিস্তানী সৈন্যরা মূল্যবান জিনিস লুট করার জন্যও অনেককে আটক করে থাকে।

সৈন্যটির চোখের আড়াল হতেই আমি দৌড়াতে থাকি। ছোট একটা ট্যাক্সি ধরতে সক্ষম হই এবং তাতে চড়ে আমি একটা মারমা গ্রামের রাস্তার সামনে এসে পৌছালাম। গ্রামটির নাম ছিল “তারাবন্যে মগ পাড়া”।

পালিয়ে বেড়ানো এবং বারবার আটক হওয়ার ঘটনায় আমি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। জঙ্গলের রাস্তায় এসে যে কাজটি সবার আগে করলাম তা হল ছাড়পত্রটি চিড়ে টুকরো টুকরো করে উড়িয়ে দেওয়া।

মনে হচ্ছিল কোনোরকম কাগজপত্র না থাকাই আমার জন্য সুবিধাজনক। একজন মারমা ব্যক্তি আমাকে তার বাড়িতে আশ্রয় দেন। তার উষ্ণ আতিথেয়তায় আমি যেন ভ্রমণকালীন সকল দুর্দশাই ভুলে যাই।

তিনি আমাকে পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি বড় গ্রামে পৌঁছাতে সহায়তার জন্য একজন পথপ্রদর্শককে সাথে দেন। গ্রামটি ছিল চট্টগ্রাম-রায়ানোক সড়কে এবং ঘাগড়া নামে পরিচিত। ঘন জঙ্গলে আচ্ছাদিত ছিল সেই গ্রামে পৌছাবার রাস্তা।

আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি নিশ্চিত ছিলাম যে আদিবাসীরা যে কাউকেই বিপদের সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করত না। হোক সেই ব্যক্তি চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা কিংবা বাঙালি।

সুরিদাত পাড়ায় চাকমা গ্রাম, খাগড়াছড়ি জেলা, Image Source: Christian Erni

১৯৭১ সালে ভারতগামী বাঙালিদের স্থানীয় আদিবাসীরা সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগিতা করেছে। অথচ সমতলের নোয়াখালি, চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লা জেলার দিকে  সীমান্ত পাড়ি দেওয়া বাঙালিদের সহায় সম্বল চুরি আর লুট করে নিয়ে যায় সেখানকার বাঙালিরাই।

ঘাগড়া পৌঁছাবার পর আমি আরেকটি ট্যাক্সিতে করে রাঙামাটির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। ৮ অথবা ৯ ডিসেম্বর নাগাদ আমি রাঙামাটিতে আমাদের বাড়িতে এসে পৌঁছাই।

আমার পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজন আগ্রহ নিয়ে আমার যত গা শিউরে ওঠা যাত্রার কাহিনী শুনলেন। আমার নিরাপত্তার তাগিদে আমাকে তারা পরামর্শ দিলেন।

তারা বলেন আমাকে শ্রমণ (শিক্ষানবিশ ভিক্ষু) হয়ে যেতে, যা আমার জন্য সবথেকে নিরাপদ বলে প্রতীয়মান হচ্ছিল।

যেহেতু আমি নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছি, সেজন্য আমার উচিত বৌদ্ধ বিহারে গিয়ে শ্রমণ হওয়া এবং আমাকে রক্ষাকারী মঙ্গলকারী ও কল্যাণকর ধর্মের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার। এতে করে হয়ত অন্যান্য ঝামেলা থেকেও আমি মুক্ত থাকতে পারব।

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আমি শ্রামণ্য ধর্মে দীক্ষিত হই। বিহার বা কিয়াং এর প্রধান ভান্তে (ভিক্ষু) আমার মাথা মুড়িয়ে দিয়ে হলুদ রঙ এর কাপড় (চীবর) প্রদান করেন।

আমি নিজেকে পরিষ্কার করে গোসল করি, হলুদ চীবরটি গায়ে জড়াই এবং শ্লোক উচ্চারণের মাধ্যমে শ্রামণ্য ধর্ম গ্রহণ করি।

প্রথমদিকে এ জীবনে আমার বেশ কষ্টই হত। ভিক্ষু এবং শ্রমণেরা বেলা ১২ টার পর থেকে কোনো খাদ্য গ্রহণ করতেন না। ফলে রাতে উপোস থাকা শুরুতে সমস্যা হলেও কিছুদিন পরে আমার অভ্যাস হয়ে যায়।

এ বিহারে আমি আদিবাসীদের হত্যা ও উচ্ছেদের অজস্র ভয়াবহ কাহিনী শুনি। রামগড় মহকুমা (Sub-division) (বর্তমানে খাগড়াছড়ি) এর ফেনী ভ্যালিতে এ ঘটনাগুলো ঘটে।

ইতিপূর্বে ভারত যাওয়ার আগে যে ব্যক্তির বাসায় আমি কিছুদিন থেকেছিলাম, তিনি বর্তমানে নিঃস্ব ও ভূমিহীন। অন্যান্য বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়দের সহায়তায় তিনি জীবনযাপন করছিলেন।

অথচ তিনি ছিলেন একজন অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তি। যুদ্ধের শেষদিকে সেই এলাকায় উগ্র বাঙালি আগ্রাসন শুরু হয়।

এ সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা স্থানীয়দের উপর হামলা চালায়। যার একমাত্র কারণ ছিল যে স্থানীয় বাসিন্দারা আদিবাসী। তারা অনেককে হত্যা করে এবং জমিজমা ঘরবাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে।


বেইন বুননরত চাকমা নারী, Image Source: Genocide in the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh, Wolfgang Mey (ed.), IWGIA Document 51

আমাদের পরিচিত ব্যক্তিটিও এর শিকার হন। শুধু ফেনী ভ্যালি নয়, চেঙ্গী ভ্যালির দিকেও মুক্তিবাহিনী গিয়ে নিরীহ আদিবাসীদের গ্রামে হামলা চালায়। তারা অগণিত মানুষকে অত্যাচার করে এবং হত্যাও করে।

তবে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের উপর কোনো আক্রমণ চালানো হয় নি। মুক্তিবাহিনীর আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়। আমরা খবর পাই যে রাজস্থলীতে  (চন্দ্রঘোনা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে)  একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা হত্যা করেছে।

সেদিকের মারমা অধ্যুষিত গ্রামগুলোর লোকজন প্রাণভয়ে বার্মা (মিয়ানমার) এর দিকে পাড়ি জমাচ্ছিল।

তখনও পর্যন্ত মুক্তিবাহিনী রাঙামাটি পৌঁছায় নি। ১৩ই ডিসেম্বর একদল ভারতীয় সেনাসদস্য কিছু তিব্বতী সৈন্যকে সাথে নিয়ে রাঙামাটি শহরে প্রবেশ করে।

মিজো গেরিলারা তার আগেই রাঙামাটি শহর ছেড়ে পালাতে চেষ্টা চালায়। অধিকাংশই পালিয়ে যেতে পারলেও কয়েকজন গ্রেফতার হয়। এদিকে কিছু আওয়ামী লীগ নেতা চেষ্টা চালায় চাকমা রাজার রাজবাড়িটি পুড়িয়ে দিতে।

এ কথা উল্লেখ্য যে শেষদিকে কর্তৃপক্ষ চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়কে পাকিস্তানের দূত হিসেবে  বিদেশে প্রেরণ করে। তার উপর দায়িত্ব ছিল বৌদ্ধ দেশগুলি থেকে পাকিস্তানের পক্ষে সমর্থন আদায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের সময়কালে তিনি বিদেশেই অবস্থান করছিলেন।

চাকমারা শুরু করে তাদের আগের বসতি ছেড়ে আরো ঘন জঙ্গলের দিকে গিয়ে বসবাস করতে। আর মারমারা বান্দরবান মহকুমা (Sub-division) দিয়ে বার্মার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ সময়কালে মুক্তিবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে রীতিমত ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে ফেলে।

আরও পড়ুন –

নির্বাসন থেকে ফিরে দেখাঃ এক চাকমা ব্যক্তির অভিজ্ঞতা (পর্ব ০১)

নির্বাসন থেকে ফিরে দেখাঃ এক চাকমা ব্যক্তির অভিজ্ঞতা (পর্ব ০২)

নির্বাসন থেকে ফিরে দেখাঃ এক চাকমা ব্যক্তির অভিজ্ঞতা (পর্ব ০৪)

নির্বাসন থেকে ফিরে দেখাঃ এক চাকমা ব্যক্তির অভিজ্ঞতা (শেষ পর্ব)



মূল লেখাটি প্রকাশিত হয়েছেঃ Genocide in the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh, Wolfgang Mey (ed.), IWGIA Document 51

লেখকঃ এ.বি. চাকমা (ছদ্মনাম)

লেখাটির অনুবাদকারীঃ সায়ক চাকমা, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

Sayak Chakma

Author
No matter how good the video is, every Youtube video has at least one unlike in them. So why wouldn't you question your own choices?

Follow Sayak Chakma

Leave a Reply