icon

দৈংনাক-তৈনটংগ্যা-তঞ্চঙ্গ্যা

Jumjournal

Last updated Mar 10th, 2020 icon 569

দৈংনাক, তৈনটংগ্যা এবং তঞ্চঙ্গ্যা এই তিনটি নাম একই জনগোষ্ঠীর নির্দেশক। বাংলাদেশ, ভারতের অরুনাচল, মিজোরাম এবং ত্রিপুরাতে তারা তৈনটংগ্যা বা তঞ্চঙ্গ্যা নামে চিহ্নিত এবং পরিচিত।

আরাকান তথা মায়ানমারে তাদেরকে দৈংনাক বলা হয়। অর্থাৎ সেখানে তারা দৈংনাক নামেই চিহ্নিত বা পরিচিত। দৈংনাক আরাকানী শব্দ; অর্থাৎ যোদ্ধা।

তঞ্চঙ্গ্যা নাম আরাকান তথা মায়ানমারে তেমন প্রচলিত নয়। সেখানে দৈংনাক নামেই তঞ্চঙ্গ্যাদের অভিহিত করা হয়।

উচ্চব্রহ্মেই সর্বপ্রথম দৈংনাকদের নাম পাওয়া যায়। অদ্যবদি উত্তর মায়ানমার ও আরাকানে দৈংনাক নামেই তঞ্চঙ্গ্যাগণ আছেন।

ইতিহাসের সূত্র অনুসারে একাংশ আরাকানের উত্তর পশ্চিম দিকে সরে আসে এবং মাতামুহুরীর অপর উপনদী তৈনছড়িতে বসতি স্থাপন করে।

দীর্ঘকাল ধরে চাকমাদের পাশাপাশি বসবাস এবং সুখ, দুঃখ, ব্যথা, বেদনা, বিপদ আপদের অংশীদারী বলে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাগণ পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতায় তথাকথিত একই জাতি বলে বিশ্বাসী।

পরবর্তীতে তাই দৈংনাকগণ তৈনছড়ি থেকে রাঙ্গামাটির (রাঙামাত্যার) দিকে সরে আসে। চাকমা রাজ সরকারের জুম তৌজিতে তাদেরকে চাকমা বলে উল্লেখ করা হয়নি।

তৈনছড়ি এলাকা থেকে আগত বলে তাদেরকে তৈনটংগ্যা নামে তৌজিভুক্ত করা হয়। এই তৈনটংগ্যা শব্দের পরবর্তী রূপ হচ্ছে তঞ্চঙ্গ্যা।

Tanchangya people by Heronmoy Tanchangya Emon
Tanchangya people by Heronmoy Tanchangya Emon

নৃতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে তঞ্চঙ্গ্যাগণ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মংগোলীয় জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তঞ্চঙ্গ্যাদের ভাষা ভারতীয় আর্য ভাষা সম্ভূত বাংলার আদিরূপের সমতুল্য। বহুপালি, প্রাকৃত ও সংস্কৃত শব্দে তাদের ভাষা পরিপূর্ণ।

তঞ্চঙ্গ্যাদের স্বভাব চরিত্র নম্র, রুক্ষতা বর্জিত বিনয়ী। তারা সাধারণত লাজুক স্বভাবের এবং মেজাজে উগ্রতা বর্জিত সরল, সাদাসিধা এবং বন্ধুভাবাপন্ন ও উপকারীর প্রতি তারা সর্বদা কৃতজ্ঞচিত্ত।

তঞ্চঙ্গ্যাগণ মূলত কৃষিজীবী। কৃষিকার্যে তারা অভিজ্ঞ এবং দক্ষ। কৃষি জমির স্বল্পতার কারণে বর্তমানে উচ্চভূমি বা পাহাড়ে বিভিন্ন ফলের বাগান ও মূল্যবান বৃক্ষের বাগান করে অর্থোপার্জনের উপায় করছে।

উর্বর পাহাড় জমির অভাবের কারণে জুমচাষ পদ্ধতি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ইদানিং উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন বিধায় মরিয়া হয়ে সাধারণ ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা গ্রহণে তারা বদ্ধপরিকর।

অনেকেই প্রযুক্তিগত জীবিকা অবলম্বনের জন্য যোগ্যতা অর্জন নিমিত্ত বৃত্তিমূলক শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হচ্ছে।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ব্যবসায়ে তারা এখনো পশ্চাদপদ তার কারণ যোগ্যতার অভাব নয় বরঞ্চ Scope এর অভাব হয়ত।


লেখক :  বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা

তথ্যসূত্র : তঞ্চঙ্গ্যা পরিচিতি , তঞ্চঙ্গ্যা মহা সম্মেলন ১৯৯৫ ইং।

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

Jumjournal

Administrator

Follow Jumjournal

Leave a Reply