icon

ত্রিপুরা জাতি ও ইতিহাস সম্পর্কে বান্দরবান সেনা রিজিয়নের বক্তব্য

Jumjournal

Last updated Mar 13th, 2020 icon 383

“ত্রিপুরা – ইতিহাসের বিচারে ভারতীয় উপমহাদেশে ত্রিপুরা একটি প্রাচীন জাতি। বান্দরবানে ত্রিপুরা জনসংখ্যা ১০,৪৭৮ জন। ত্রিপুরাদের অন্যতম প্রধান উৎসব হলো বৈসু। ত্রিপুরাদের সংখ্যা গরিষ্ঠই জুম চাষনির্ভর।

TRIPURA – Tripura is one of the ancient communities in retrospect of of the history of Indian sub-continent. Around 10,478 people of this community live in Bandarban. BOISU is their one of the main festival. Majority of the Tripura depends upon Jhum cultivation.”

Courtesy: Bandarban Military Region (বান্দরবান সেনা রিজিয়ন)

বাংলাদেশে বেশির ভাগ বাঙালি জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি গড়া বাঙালিদের প্রায় সকলেই ত্রিপুরা জাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে কিছুই জানেন না কিংবা কখনোই জানার চেষ্টা করেন না।

বর্তমান বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলই যে একসময় ত্রিপুরাদের ছিল তথা ত্রিপুরা রাজ্যেরই ভূখণ্ড ছিল, এমনকি সেসব ইতিহাসের স্বাক্ষী যে আজও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে – সেসব বিষয়ে বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে তুলে ধরা হয় না,

ইতিহাস গবেষকদের লেখনীতে পাওয়া যায় না, টেলিভিশন-চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকায়, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কখনোই তুলে ধরা হয় না।

ফলে, “ত্রিপুরা জাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতি” সম্পর্কে বাংলাদেশের প্রায় সকল জনগোষ্ঠীই (সম্ভবত ৯৯%) জানার সুযোগ পাননি।

তবে, আমার মনে হয়, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কিছুটা হলেও ব্যতিক্রম। কারণ, দেশ রক্ষার দায়িত্ব পালনের স্বার্থে যেসকল সংস্থা – নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা,

বিশেষজ্ঞ, নীতি-নির্ধারক, উচ্চ মহল প্রভৃতি জড়িত, তাদেরকে “ভূ-রাজনীতি” বিষয়ে সঠিক ধারণা পেতে হলে এবং সেবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে প্রচুর তথ্য-বিশ্লেষণ ও অধ্যয়নের প্রয়োজন পড়ে।

স্বাভাবিকভাবে ধরে নেওয়া যায় যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অবশ্যই ত্রিপুরা জাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে অধ্যয়ন করেছে। উদাহরণ হিসেবে – একটি প্রসঙ্গ যুক্ত করাটা একান্ত আবশ্যক।

“গবেষক প্রভাংশু ত্রিপুরার লেখা “ত্রিপুরা জাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতি” (২০১১) নামক গ্রন্থটি নিঃসন্দেহে বহু মূল্যবান একটি চমৎকার গ্রন্থ।

শুনা যায়, খাগড়াছড়িতে দায়িত্বরত জনৈক সেনা-অফিসার খাগড়াছড়ি বাজারে একটি লাইব্রেরীতে নতুন বই খুঁজতে গিয়ে যখন “ত্রিপুরা জাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতি” গ্রন্থটি আবিষ্কার করেন, তখন তিনি লাইব্রেরীতে থাকা সকল কপি কিনে নিয়ে যান।”

এই উদাহরণটির মাধ্যমে আমি কি বুঝানোর চেষ্টা করছি, তা পাঠক মাত্রই বুঝার সামর্থ্য রাখেন বলে আশা করি। কাজেই বলতে বাধা নেই, “ত্রিপুরা যে এই উপমহাদেশের একটি প্রাচীন জাতি” – এই বিষয়ে রাষ্ট্র, রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা প্রায় সকলেই অবগত।

বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ “বাংলাপিডিয়া”-তেও “ত্রিপুরা জাতি” সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু ত্রিপুরাদের প্রতি যতটা স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়া উচিত ছিল, তা আজও দেওয়া হয়নি।

এরপরও বান্দরবান সেনা রিজিয়নের পক্ষ থেকে স্থাপিত সাইনবোর্ডে “ত্রিপুরা জাতি” যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তা যথেষ্ট মূল্যবান ও প্রশংসাযোগ্য।

“ত্রিপুরা জাতি” সম্পর্কিত এরূপ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-সম্বলিত সাইনবোর্ড, ফলক কিংবা অন্য প্রচারনা-মূলক মাধ্যম যদি বাংলাদেশে ত্রিপুরা অধ্যুষিত সকল অঞ্চলে (রাজবাড়ী, হবিগঞ্জ,

মৌলভীবাজার, সিলেট, কুমিল্লা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি) এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ত্রিপুরা সাম্রাজ্যের স্বাক্ষী তথা ত্রিপুরা মহারাজার স্মৃতি-বিজড়িত স্থান, খননকৃত পুকুর, দীঘি ও স্থাপিত স্কুল, লাইব্রেরী, মাদ্রাসা, মন্দির,

মসজিদ প্রভৃতিতে যদি স্থাপিত থাকতো, তাহলে ত্রিপুরাদের ইতিহাস সম্পর্কে বাংলাদেশের সকল জনগোষ্ঠী অবগত হওয়ার সুযোগ পেতেন।

এমনটি করা হলে, “ত্রিপুরা জাতি” সম্পর্কে বাংলাদেশের কোন বাঙালির আর ভুল ধারণা হওয়ার সুযোগ থাকবে না। এমনটি আশা করাটা বোধয় আমার অপরাধ হবে না।

প্রসঙ্গক্রমে, পাঠকদের (বিশেষ করে যারা পেইজটির নতুন ফলোয়ার) স্বার্থে আমার কিছু পূর্ব লেখার লিঙ্ক এখানে প্রদত্ত হল, যাতে করে পাঠকগণ লিংকগুলো ভিজিট করে “ত্রিপুরা জাতি” সম্পর্কে কিছুটা হলেও সম্যক ধারণা লাভে সমর্থ হনঃ-

(১) “ত্রিপুরা রাজবংশ সম্বন্ধীয় যে লেখাটি বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল”

(২) “১৬১৫ খ্রিস্টাব্দে স্পেনীয় নকশাকার ডিয়েগো দি এস্টরের আঁকা মানচিত্রে ত্রিপুরা রাজ্যের অবস্থান”

(৩) “স্বাধীন ত্রিপুরায় পর্তুগিজদের স্মৃতিচিহ্ন : CHATIGAM ও MARIAM NAGAR”

(৪) “১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত মুঘল সাম্রাজ্যের মানচিত্র অনুযায়ী ত্রিপুরা রাজ্যের বিশালতার প্রমাণ”

(৫) “ষোল শতক থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত আলুটিলার পূর্বনাম ছিল আঁড়বাড়ি, যা মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্যের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান”

(৬) “উনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগেও পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিল ত্রিপুরা রাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ”

(৭) “বাংলাদেশের চারটি জেলা প্রকৃতপক্ষে ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ এবং ত্রিপুরা রাজপরিবারের নিজস্ব সম্পত্তি”

(৮) “অযত্নে ত্রিপুরা মহারাজার কাছারি বাড়ি”

(৯) “ফিরে দেখা ইতিহাসঃ বাংলাদেশে ত্রিপুরা সাম্রাজ্যের সাক্ষী”

(১০) “স্বাধীন ত্রিপুরা সংবিধানই ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান”

(১১) Analysis on Hidden Conspiracy Against the Sovereignty of Tripura Kingdom: “যার আকস্মিক মৃত্যু না হলে ত্রিপুরা আজও স্বাধীন থাকতো”

(১২) “গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সকল ত্রিপুরা মুক্তিযোদ্ধাদের”

(১৩) ভুলে যাওয়া ত্রিপুরা গণহত্যা : “Tripura Genocide – 1977 to 1986”

লেখক: মুকুল ত্রিপুরা

তথ্যসূত্র : https://www.facebook.com/tpr.mukul.ark/posts/441988096648264

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

Jumjournal

Administrator

Follow Jumjournal

Leave a Reply