icon

ধূধূক বাবুর মঙ্গল অভিযান- গগন চাকমা

Jumjournal

Last updated May 3rd, 2020 icon 417

চারিদিকে সবুজ শ্যামলে ঘেরা বড় বড় পাহাড়বেষ্টিত একটি গ্রাম। এই গ্রামের পরিচিত সেই ছেলেটির নাম সবারই মুখে মুখে। প্রশংসায় নয় দুষ্টুমিতেই খ্যাত সে। বিশাল এলাকা নিয়ে তাদের গ্রাম।

এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড় পেরিয়ে , অপর এক পাহাড়ে অন্য আরেকটি ঘর। এভাবেই তাদের বসবাস। অনেক সময় তো দুই-তিনটা পাহাড় পরেও প্রতিবেশীর খোঁজ মেলা ভার।

দূরদূরান্তে থাকলে ও তাদের একে অপরের প্রতি সহযোগিতা, আথিত্যেয়তা সহানুভূতির যেন কমতি নেই। গ্রামের প্রায় সবারই, বনে- জঙ্গলে,জুমে বিভিন্ন ফসলের পরিচর্যায় কেটে যায় সারাদিনের জীবন।

সন্ধ্যায় কেরোসিন দিয়ে জ্বালনো ল্যাম্পের নিভু নিভুু আলোতে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমাতে যাওয়া এবং খুব ভোরে উঠে কাজে নেমে পড়াই হচ্ছে এদের ধর্ম।


চার ভাইয়ের একমাত্র পুত্র সন্তান এবং পাঁচ বোনের একমাত্র ভাই অর্থাৎ সেই পরিচিত ছেলেটির নাম ধুধুক। একমাত্র বংশের প্রদীপ,বড়ই আদরের।

দুষ্টুমির যেন অভাব নেই তার। সাথে তার দুই একজন বন্ধু হলে তো কথাই নেই। বন্যপ্রানী বিশেষ করে বানরদের সাথেই কাটে তাদের অধিকাংশ সময়। জুম চাষের ফসল নষ্ট করতে আসা বানরগুলোকে তাড়ানোই তাদের সারাদিনের কাজ।

যদিও বানরগুলোর তাদেরকে কাঁদে করে নিয়ে যেতে খুব একটা অসুবিধে হবে না, তবুও তাদের হাতে ছোট-খাটো দূর-ঘাটক যন্ত্র “বাদোল” থাকায় বেচারা বানরদের অনিচ্ছাকৃতভাবে সামান্য হলেও সম্মান দেখাতে হয়। আর তাতেই তাদের পৃথিবী জয়।

শুধু বানরই নয় ,পাশাপাশি ঘাসফড়িংয়ের পেছনেও ছুটে তারা। মাথায় ধরতে সাহস হয় না বলে লেজই তাদের একমাত্র প্রত্যাশার বস্তু। বন্ধুদের মধ্যে অঘোষিত নেতা সে।

প্রায়ই তার নির্দেশে চলে তাদের সকল কাজ। তারা ছুটে চলে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে শীর্ষদেশে, এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে। ভয় নেই! কীসের ভয়? সব পাহাড়ই তো পরিচিত।

এই পাহাড়গুলোই তাদের প্রতীবেশী, তাদের আত্মীয়। ধুধুকের জন্মের সময় তো ওঁঝার(ধাত্রী) প্রয়োজনীয় সব বনজ ঔষধ তো তাদের বাসার দক্ষিণের পাহাড়টাই দিয়েছিল।

তাইতো পাহাড় তাদের কাছে প্রাণ, পাহাড়ের আনাচে কানাচে তাদের নিরব বিচরণ।
তারা ছুটে, ঘাসফড়িংয়ের পেছনেই ছুটে। নানা রং বেরঙের ফড়িং তাদের সাথে খেলে।

সেসব ফড়িংয়ের নাম জানা নেই তাদের। তাই তাদের দেয়া নামই তারা ব্যবহার করে। মাঝারি আকারের ফড়িংটির নাম দিয়েছে ”পেলেন ফিড়িং” যার অর্থ হেলিকপ্টার ফড়িং।

মাথার উপর দিয়ে অনেক হেলিকপ্টারের চলাচল করতে দেখে সে, যা স্থানীয় ভাষায় “পেলেন” নামে পরিচিত। বাবা বলে,সেটির ভিতর নাকি মানুষ থাকে।

মানুষ উড়ে বেড়ায় সেটি দিয়ে। তারও বড়ই শখ একবার এই পেলেনগুলোতে চড়ার। ঘাসফড়িং তাদের চোখে দেখতে পেলেনের মতো হওয়ায় সে নাম দিয়েছে পেলেন ফিড়িং।

ঘাসফড়িং ছুটে সাথে তার  স্বপ্নও। তাই সেও ছুটে ঘাসফড়িং এর পেছনে।


যাক, সারাদিনটা-ই এভাবে ব্যস্তময় কাটে তার। তাই বিকেলে বাবা-মা’র মতোই ক্লান্ত থাকে সে। তাইতো পরিশ্রমী এই ছেলের ক্লান্ত শরীর রাতকে অপেক্ষা করতে না পেরে, সন্ধ্যা-ই পারি জমায় ঘুমের দেশে।

বয়স বেশি নয় ,আট থেকে নয় বছর হবে বৈকি। এখনো বাবা-মায়ের সাথেই ঘৃুমায়। বাবা-মাও তাদের বংশের প্রদীপকে ছাড়া থাকতে চায় না। বিশেষত মা।


আর যায়হোক, তার একটা বিশেষ কারণও আছে বটে। ছোটবেলার অভ্যাসটি এখনো থাকায় তাকে মাঝে মাঝে চর্চা করতে হয়। অর্থাৎ শত পরিশ্রম করলেও অনেক সময় মায়ের স্তন মুখে না দিলে তার ঘুম হয় না।

তাইতো পড়ালেখারও সমাপ্তি ঘটেছে। গ্রামের আশেপাশে নেই কোন স্কুল। যারা পড়তে চায় তাদেরকে অনেক দূরে গিয়ে পড়তে হয়।

বেসরকারি সংস্থার পরিচালিত একটি স্কুলে তার পড়াশুনার হাতেখড়ি। বেশ পারদর্শীতাও দেখিয়েছে সে, শিক্ষকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছে অনেক।

কিন্তু সেখানে উচ্চতর শিক্ষার কোন ব্যবস্থা না থাকায় তার শিক্ষাজীবনের ইতি সেখানেই টানতে হয়েছে।

এখন গ্রীষ্মকাল, এই রৌদ্রতপ্ত দিনে আজ সারাদিন কাজ করার পর বেশ ক্লান্ত তার বাবা-মা। সারাদিন পরিশ্রম করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে একটুখানি স্বস্তির নিঃশ্বাস নেয় বাড়ির উঠোনে বসে। বেশ কয়েকদিন হলো বাড়ির উঠোনে ঘুমানো হয় না।

তাই গরম এই রাতটি আজ বাইরে কাটানোর প্রস্তাব দিল সে তার বাবাকে। রাতটাও আজ ভারী উপযুক্ত বলতে হয়। হালকা বাতাস বইছে। পূর্ণিমার চাঁদও পূর্ব পাহাড়ের আড়াল থেকে উকি দিচ্ছে।

মাঝ রাতে মাথার উপড়ে-ই আসবে বলে মনে হয়। বাড়ির আশপাশ সবই আলোকিত। চাঁদের আলোতে জোনাকিরা আজ তাদের প্রাধান্যতা হারিয়েছে,সাথে ধূধূক থেকেও। ঘরের ভিতর জোনাকিরা ঘুরে বেড়ায়।

আজকে ও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু সেদিকে খেয়াল নেই ,আজকে তার বাইরে ঘুমানোর ইচ্ছেটাই বেশী। আর পরিবেশ অনুকূলে থাকায় বাবাও সহজেই রাজি। তাই আজকে বিছানা তৈরির দায়িত্বটা সে নিজের ঘাড়েই নিয়েছে।


আহ্! অনেক প্রতীক্ষার রাত আজকের রাতটি। বাবার পাশে গল্পে গল্পে সময় গড়াচ্ছে। একের পর এক গল্প, অবশেষে এলো আকাশের গল্প।

আকাশ সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন তার বাবার কাছে। “জানি না ” উত্তরটি দিয়ে সন্তুষ্ট হয় না বলে, তার বাবা নিজের সৃষ্ট নানা তত্ত্ব দিয়ে তার সন্তানকে ব্যাখ্যা দিতে থাকে।

এতে কিছুটা সন্তুষ্ট হলেও, সে তার বিভিন্ন হিসাব-নিকাশের সমীকরণ তার বাবার তত্ত্ব দিয়ে মেলাতে না পারায় এক পর্যায়ে সে আত্ন-নিমগ্ন হয়ে যায় আকাশের বিভিন্ন গ্রহ-উপগ্রহ, নক্ষত্রের চিন্তা নিয়ে।

ক্লান্ত বাবা ঘুমিয়ে পরে কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই। সে এখন একলা আকাশপানে তাকিয়ে, নানান সব প্রশ্নের সাথে।


চাঁদ জ্বলে কেন ? তারাগুলোই বা কেন জ্বলে ? চাঁদ এত বড় তারাগুলো কেন ছোট ? আরও কত কি! আর আপসোস তো আছে-ই, আকাশ কেন সবসময় তার বরাবর উপড়ে-ই সবচেয়ে উচুতে থাকে!

সে তো পূর্ব-পশ্চিম,উত্তর -দক্ষিণ তাকিয়ে দেখেছে! আকাশ তখন মাটিতে স্পর্শ করেছে। কাছের এক উঁচু পাহাড় থেকেও আকাশটি অনেক কাছের মনে হয়।

অন্ততঃ হাত দিয়ে নাগাল পাওয়ার মতো। কিন্তু যখনি সেখানে যায় তখনি আকাশ আবার সরে যায়।তখনও মনে হয় তার উপরেই সর্বোচ্চ উচুঁতে আকাশটি। কেন সরে যায় আকাশ?

সে যখন এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে, তখন হালকা বাতাসে গাছপালার আড়ালে জ্বলন্ত জোনাকিরা ভাসে। জোনাকিরা কেন জ্বলে সেই প্রশ্নও তার ছিল।

আর সেই রহস্য উদঘাটনের জন্য সে অনেকবার জোনাকিও ধরেছিল কিন্তু মায়ের নিষেধ থাকার কারণে আরও ছেড়ে দিতে হয়েছে।

সে যখন গভীর চিন্তায় মগ্ন তখন হঠাৎ চোখে পড়ে দুটি চাদঁ। সে তো অবাক! এতদিন সে দেখেছিল একটি চাদঁ আজ দুটি, কিন্তু কেন?

তারপর সে নিচের দিকে তাকালে দেখে বিস্ময়ের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। চারপাশের গাছপালা গেল কোথায়? আর মাটি-ই বা লালচে দেখাচ্ছে কেন? সে চারপাশে ঘুরে দেখল।

মাটি ধরে দেখল প্রায় সবগুলোই পাথর। সামনের একটি ছোট পাহাড়ে উঠে চারপাশ ঘুরে তাকায় । সেখানে হঠাৎ চোখে পড়ে সাদা রংয়ের পাহাড়ের মত কিছু একটা।

সেটি দেখে তার মনে কৌতুহল জাগ্রত হল এবং দেখার জন্য সেই সাদা রংয়ের পাহাড়টিকে লক্ষ্য করে সামনে এগুতে থাকে। অনেকদূর হাটার পর মাঝপথে সে কিছুটা ঠান্ডা অনুভব করে।

হ্যাঁ ঠান্ডাই তো! সেখানে হালকা ঠান্ডা হাওয়া বইছে। সে বলে,“একটু আগেই তো আমি গরম অনুভব করছিলাম কিন্তু এখন ঠান্ডা কেন!” সেই সাদা রংয়ের পাহাড়টির দিকে যত এগুতে থাকে ততই ঠান্ডা বাড়তে থাকে সাথে বাতাস। তার আগ্রহ তবুও কমে না।

এতদিন সে সবুজ পাহাড় দেখে এসেছে । কিন্তু এই পাহাড় সাদা। এটি দেখতেই হবে। এই সাদা পাহাড়ের গাছগুলো কেমন? এখানকার বানরগুলো দেখতে কেমন?

পাহাড়টি যতই ঠান্ডা হোক না কেন এখানে হয়ত সে নতুন ”পেলেন ফিড়িং দেখতে পাবে  এমন আশা নিয়ে সামনে এগুতে থাকে।

সে মনে মনে ভাবে, “এখনতো শীতকাল না ! কিন্তু তবুও কেন এত ঠান্ডা?” আকাশের দুটি চাদেঁর আলোয় প্রায় সবকিছুই স্পষ্ট দেখা যায়। সে যতই সাদা পাহাড়টির কাছে যাচ্ছে ততই মনে হচ্ছে পাহাড়টি পাথরের। “হ্যাঁ তাইতো !”


সে এখন সাদা পাহাড়টির খুব কাছে পৌছেছে। কিন্তু যতই কাছে যাচ্ছে ততই যেন ঠান্ডা বাড়ছে। যখন পাহাড়টি স্পর্শ করে দেখল হ্যাঁ !

এটি তো সাদা পাথরের পাহাড়, “উহ্! কি ঠান্ডা! শুধু তাই নয় তার তার মনে আরেকটি প্রশ্ন জাগে, এ বিশাল পাহাড় শুধু একটি পাথরের তৈরি? কৌতুহলের যেন শেষ নেই।


হঠাৎ ঠান্ডা, হঠাৎ গরম। এমন সময়ে একটি বিকট শব্দ শুনতে পেল। এমন বিকট শব্দ শুনে সে কিছুটা ভয় পেয়েছে বটে কিন্তু জানার ইচ্ছে শেষ হল না ।

সে চারপাশ ঘুরে তাকাল কোথায়, কোনদিক থেকে সেই বিকট শব্দটি এসেছে। হঠাৎ দেখতে পেল দূরে আরেকটি পাহাড়। কিন্তু এটি সাদা নয় ।

এই পাহাড়ের চূড়ায় ধোঁয়ার সাথে উড়ছে আগুনের ফুলকা। হ্যাঁ এমন আগুনের ফুলকা সে আগেও দেখেছে।

যখন জুম চাষের স্থানে মৃত গাছপালা পুড়ে ফেলা হয় তখন এরকম আগুনের ফুলকা উড়ে এবং এই আগুনের ধোয়া অনেক্ষণ স্থায়ী হয়। সেসময় ও এমন শব্দ শোনা যায় তবে এত বড় শব্দ নয়।

সে মনে মনে ভাবল “কিন্তু এখানে তো কোনো মানুষ দেখলাম না! গাছপালাও তো দেখলাম না !” এখন নতুন পথে হাটছে সে। গন্তব্য আগুনের ফুলকা উঠা সেই পাহাড়টি। হাটতে হাটতে অনেকদূর হাটছে কিন্তু কোনও কূল কিনারা নেই।

হঠাৎ পিছন ফিরে তাকালে সাদা পাহাড়টির কোন অস্থিত্ব না দেখে সে তো অবাক! সাদা পাহাড়টি গেল কোথায়! সে ভাবল ,“আমি যতক্ষণ ধরে হাটছি এই সময়ে তো সেই পাহাড়টি ফেলে আসার কথা নয়।”

যাক, সেসব কথা ভূলে ধুধুক সামনে এগুতে থাকে। চলতে চলতে হঠাৎ মনে পড়ে জায়গাগুলো কেন জানি পরিচিত পরিচিত মনে হয়। হ্যাঁ,মনে পড়েছে! সে মনে মনে বলে, সেদিন তজিম দাদার বাড়িতে গিয়ে যে একটি বই পেয়েছিলাম, সেই বইয়ের ছবিটার মতই জায়গাটি।

সেদিন তজিম দাদা বইটির ছবিগুলো একটি একটি করে দেখিয়ে আমাকে বলেছিল আরেকটি জায়গা আছে সেটিও পৃথিবীর মতই যাকে মঙ্গল গ্রহ বলা হয়। আর বলেছিল, পৃথিবীর মত নাকি গোল। সেখানে মানুষ নেই।

শুধু মানুষ নয় কোন প্রণীই নেই। কারণ এখানকার বায়ুতে কার্বন-ডাইঅক্সাইড বেশি যা মানুষ গ্রহণ করতে পারে না। আর মানুষের কিংবা অন্য কোন প্রাণীর বেচেঁ থাকার জন্য প্রয়োজন অক্সিজেন।

যদিও কার্বন-ডাই অক্সাইড ও অক্সিজেন কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত, তবুও তজিম দাদার থেকে জানতে পারি আমরা যে প্রশ্বাস গ্রহণ করি সেটি অক্সিজেন, যে নি:শ্বাস ত্যাগ করি সেটি কার্বন-ডাইঅক্সাইড।

হ্যাঁ, সেটিই তো! তজিম দাদা বলেছিল – গ্রহে শুধু বড় বড় বরফের পাহাড়। বরফ আমি চিনতাম না বলে সে বলেছিল পানি যখন অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে শক্ত পাথরের মত হয় তখন সেটি সাদা রংয়ের বরফে পরিণত হয়।

তাহলে কি একটু আগে যে বড় পাথরটি দেখেছি সেটি বরফ!


আর বলেছিল, মঙ্গলে প্রচুর আগ্নেয়গিরি আছে। মানে বড় বড় পাহাড়ের মাটি থেকে আগুন বেড় হয়। আর সেই আগুন নাকি তরল আকারেও বের হয় যাকে লাভা বলে।

আরও রয়েছে বড় বড় গিরিখাদ। সে মনে মনে ভয় পেতে থাকে। ওহ্ হ্যাঁ,“ আমিতো এতক্ষণ ভূলেই গিয়েছিলাম মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহ দুটি।

মানে চাঁদ দুটি। তবে কি আমি মঙ্গল গ্রহে? কিন্তু এখানে তো অক্সিজেন নেই ! তাহলে আমি কিভাবে বেঁচে আছি! কিভাবে আসলাম মঙ্গল গ্রহে? সে নিজেকে প্রশ্ন করে।

কিছুক্ষণ খুব স্মরণ করার চেষ্টা করল সে কিভাবে মঙ্গলে আসলো। কিন্তু হঠাৎ আরেকটি বিকট শব্দ শুনতে পায় সে।

পাহাড়টির দিকে তাকালে সে দেখতে পায় পুরো পাহাড়টি লাল হয়ে আছে এবং ধোঁয়া উড়ছে। লাল রংয়ের লাভা তার দিকে ধেয়ে আসছে।

তখন সে দ্রুত পিছন দিকে ছুটতে থাকে। কিন্ত সে যতই দ্রুত হাটে মনে হয় যেন আর ধীরে হাঁটছে। কারণ লাভা তার চেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছে।

হঠাৎ যখন পিছন ফিরে তাকায় তখন লাভা প্রায় তার পা পর্যন্ত স্পর্শ করছে। কিন্ত সামনে তাকাতেই একটি বড় গিরিখাঁদ যার কোন শেষ সীমা দেখা যায় না।

তার পিছন পিছন ছুঁটছে রঙিন লাভা। সেখানে তার গতিবেগ থামানোর মতো শক্তিও আর নেই। সে দেখতে পায় সেই অন্তহীন গিরিখাঁদটিতে সে পড়ে যাচ্ছে আর উপর থেকে রঙিন লাভা তার উপর ঝড়ে পড়ছে।

তখন সে চোখ বন্ধ করে অসহায়ত্বে ভরা ”মা” বলে চিৎকার করে। আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হতে থাকে “মা..”।

লেখকঃ গগন চাকমা, শিক্ষার্থী

রাজারবাগ পুলিশ লাইন কলেজ

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

Jumjournal

Administrator

Follow Jumjournal

Leave a Reply