icon

আদিবাসী পাহাড়িদের হাত থেকে পাহাড় রক্ষার ভাবনা!

Jumjournal

Last updated Oct 6th, 2020 icon 27

জুম ও জুমিয়াদের সম্পর্কে কাদের কি ধারণা, এবং কেন*

[‘পার্বত্য চট্টগ্রামে জুমচাষ’ শীর্ষক গবেষণাকর্ম সম্পাদনের সময়] মাঠ সফরকালে … বান্দরবান শহরের চারপাশের পাহাড়গুলির বিরান চেহারা দেখে এই গবেষকদের [প্রশান্ত ত্রিপুরা ও অবন্তী হারুন] একজন স্বগতোক্তি করেছিল,

‘পাহাড়গুলো কেমন খালি খালি দেখাচ্ছে।’

একথা শুনে [আমাদের ভাড়া করা] মাইক্রোবাসের ড্রাইভার মন্তব্য করলেন,

‘জুমচাষ হয় যে!’

বনবিনাশের জন্য জুমচাষকে দায়ী করার ক্ষেত্রে বয়সে তরুণ এই ড্রাইভার, যিনি স্থানীয় একজন বাঙালি, মোটেও একা নন। আর শুধুমাত্র জুমক্ষেতে আগুন লাগানোর দৃশ্য দেখেই অজ্ঞতাবশত স্বল্প-শিক্ষিত সাধারণ বাঙালিরাই এ ধরনের সিদ্ধান্ত টানেন, একথাও বলা যায় না।

বরং পার্বত্য চট্টগ্রামের সাথে নিবিড় পরিচয় নেই, এমন শিক্ষিত বাঙালিদের অনেককেও দেখা যায় জুম-বিরোধী প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে।

সাপ্তাহিক যায় যায় দিন পত্রিকার ‘দিনের পর দিন’ শিরোনামের [শফিক রেহমানের] নিয়মিত লেখায় মইন এবং মিলা নামক যে দু’জন চরিত্র টেলিফোনে পরকীয়া সংলাপের ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন চলতি রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে মতামত দেয়, তাদের কথোপকথন একটি সংখ্যায় [বর্ষ ১৩, সংখ্যা ২৮, এপ্রিল ২৯, ১৯৯৭] শুরু হয় পরিবেশ বিপর্যয় প্রসঙ্গ নিয়ে।

‘বাইরের মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির আভাস’ কথোপকথনের পটভূমি তৈর করে দিয়েছে। এক পর্যায়ে মইন বলল:

আমাদের এই দেশে যেভাবে পরিবেশ ধ্বংস ও দূষিত করা হচ্ছে তার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে কেউ ভাবছে কি?

[একটু পরেই বোঝা গেল, তার মাথায় আসলে খেলছে পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসঙ্গ। মইন বেশ দীর্ঘ সময় ধরে মিলাকে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সমস্যার প্রেক্ষাপট বোঝাল, যে প্রসঙ্গে তার শেষ কথা:]

সামরিক কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের যে বড় উন্নতি হয়েছে এবং যেটা অন্যান্য জেলার তুলনায় আনুপাতিকভাবে বেশি সেটার সুফল এত কম মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

যে বাঙালি মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমি, মালয়েশিয়ার জঙ্গল অথবা কোরিয়ার বরফে গিয়েছে সেই বাঙালি নিজের দেশের উন্নত অংশ থেকে বেশি দিন দূরে সরে থাকবে না।

[পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় উন্নততর, এই অভিনব বক্তব্য মিলার মনোযোগ এড়িয়ে গেল। বরং তার প্রশ্ন:] কিন্তু এত কথার পরেও আমি পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার প্রকৃতি ও পরিবেশগত সমস্যার সম্পর্কটা কি তা বুঝলাম না।

[মইন এ পর্যায়ে জুম চাষের প্রসঙ্গ টানল এবং এটা কি জিনিস কিছুক্ষণ ধরে মিলাকে বোঝানোর পর বলল:] আগের চাইতে বেশি জমির দরকার হচ্ছে বলে বেশি বন পোড়ানো হচ্ছে। বস্তুত এই মুহূর্তে মাইলের পর মাইল বন তারা পুড়িয়ে ফেলছে।

বাংলাদেশের বিস্তৃত সবুজ পাহাড় হয়ে যাচ্ছে রুক্ষ কালো পাহাড়। সারি সারি কালো পাহাড় দেখলেই বোঝা যাবে বাংলাদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ কতো বিপন্ন হয়ে পড়েছ। যার জন্য দায়ী জুম চাষ।

জুমচাষ না করলে উপজাতীয়রা বেঁচে থাকবে কি করে? মিল প্রশ্ন করলো।

সেটাই সবাইকে মিলেমিশে ভাবতে হবে।…মনে রাখতে হবে যেসব যুক্তিতে উপজাতীয়রা তাদের দাবি-দাওয়া পেশ করছে ঠিক সেই একই যুক্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বোবা গাছগুলোও দাবি তুলতে পারে। সেখানে আদিম অধিবাসী ওই গাছ।

বিশ্ববাসীর দৃষ্টি এখন আকৃষ্ট হয়ে আছে নির্যাতিত উপজাতীয়দের প্রতি। তার আগেই উপজাতীয়দের জীবিকার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।

যেমন তাঁত শিল্প, কুটির শিল্প অথবা ছোটখাট কোনো ব্যবসা ইত্যাদি। অথবা নেপাল, চীনের মতো পাহাড়ের গায়ে টেরাস [terrace] চাষ। মইন বলল।

কিন্তু এতদিন যে শুনলাম কিছুসংখ্যক সরকারি কর্মচারি ও বাঙালিরা কিছু পাহাড়িদের যোগসাজশে সেখানে বনসম্পদ উজাড় করছে। তা কি সত্যি নয়? মিলা বললো।

হ্যাঁ। তাও কিছুটা সত্যি। তবে জুমচাষে গোটা পাহাড় পুড়ে যে বন সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে তার তুলনায় ব্যবসায়িক কারণে বন সম্পদ আহরণে ক্ষতির পরিমাণ অতি কম। মইন উত্তর দিল।

মইন মিলার কথোপকথন বেশ খানিকটা উদ্ধৃত করা হল এই কারণে যে, মইনের বক্তব্যে যে দৃষ্টিভঙ্গীর প্রতিফলন ঘটেছে, তার অনেকটাই ব্যাপকতর পরিসরে দেখা মেলে।

একটা বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি যে মইনের আনুগত্য রয়েছে, তা তার বিভিন্ন কথা থেকে স্পষ্টই বোঝা যায় (যেগুলো সবটা উপরে উদ্ধৃত করা হয় নি)। তবে তার দৃষ্টিভঙ্গি শুধুমাত্র এই রাজনৈতিক দল বা মতবাদের অনুসারীদের মধ্যেই সীমিত নয়।

বরং সাধারণভাবে বলা যায়, ‘জুমচাষের ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, জুমিয়াদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে,’ এই দৃষ্টিভঙ্গী দলমত নির্বিশেষে দেশের নীতিনির্ধারক মহল তথা শিক্ষিত সমাজে দৃঢ়ভাবেই প্রতিষ্ঠিত।

মইনের মতই সাধারণ শিক্ষিত বাঙালিদের মধ্যে অনেকেই হয়ত জানেন না যে জনসংহতি সমিতি বা শান্তি বাহিনীতে জুমিয়া কৃষক শ্রেণী থেকে আসা লোকজনের সংখ্যা ছিল নগণ্য।

কিন্তু শুধুমাত্র অজ্ঞতার কারণে যে মইন তার ‘জুম্ম জাতীয়তাবাদ বিরোধী’ রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ‘জুম বিরোধী’ প্রচারণাকে ব্যবহার করেছে, একথা বলা যায় না।

বরং, বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে, মইন জুম চাষের বিধ্বংসী চেহারা তুলে ধরার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের বনজ সম্পদের বাণিজ্যিক ব্যবহারকে যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য হিসাবে প্রতিপন্ন করতে চাচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে এরকম যুক্তি আদৌ কোনো নতুন ব্যাপার নয়। মইন যে কথাগুলো মিলাকে বোঝাচ্ছে, সেগুলো ব্রিটিশরা বলতে শুরু করেছিল দু’শ বছরেরও বেশি আগে।

জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় মাঝেমধ্যে জুমচাষ সংক্রান্ত যেসব লেখালেখি ছাপা হতে দেখা যায়, সেগুলোতে প্রায় অনিবার্যভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ চলে আসে, জুমচাষকে দায়ী করা হয় বন বিনাশের একটি প্রধান কারণ হিসাবে।

যেমন, প্রথম আলোর অক্টোবর ২৮, ২০০০ সংখ্যার ‘খোলা জানালা’ বিভাগের ‘পরিবেশ’ শীর্ষক কলামে জনৈক সোনিয়া আশরাফী মিথুন একটি ছোট ফিচার লিখেছেন ‘পাহাড়কে বাঁচতে দিন’ শিরোনামে, যেখানে এই বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে যে,

‘ঐতিহ্য সংস্কৃতির আর জীবন বোধের নিবিড়তায় যুক্ত যে চাষাবাদ প্রণালী তার ফলে পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিয়েছে মারাত্মকভাবে।’

একইভাবে ভোরের কাগজ-এর এপ্রিল ৩, ২০০০ সংখ্যায় কবি-সাংবাদিক ওমর কায়সারের লেখা একটি ফিচার ছাপা হয়েছে, ‘পাহাড়ে পাহাড়ে জুম, বিরান কান্তার।’

এ ধরনের শিরোনামে প্রকাশিত কোন লেখা পড়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনোদিন যান নি, এমন কোনো ব্যক্তিও যদি জুমচাষের হাত থেকে পাহাড় ও বন বাঁচানোর চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে ওঠেন, তবে সেটা হবে খুব স্বাভাবিক ঘটনা।

সংবাদ মাধ্যমের বাইরে বিদ্যাজগতের পেশাজীবীদের মধ্যেও জুমচাষ সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীর সাক্ষাত মেলে।

যেমন, একটি সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপককে শোনা গেছে জুমচাষকে ‘আদিম’ হিসাবে অভিহিত করতে।

অনুরূপভাবে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পত্রিকা’য় ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত জুমচাষ বিষয়ক একটি প্রবন্ধে আরেকজন নৃবিজ্ঞানী [মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান] লিখেছেন,

‘পার্বত্য বাংলাদেশে পালাক্রম চাষের কুফল সম্পর্কে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজন রয়েছে ঐ অঞ্চলে ভূমির বিকল্প ব্যবহার সুনিশ্চিত করা’।

‘জুমচাষের কুফল’ সম্পর্কে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানও করা হয়। ঢাকা কৃষি কলেজ থেকে পাশ করে বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি সরকারি প্রকল্পে কর্মরত রয়েছেন, এরকম একজন (পাহাড়ি) ব্যক্তির দেওয়া তথ্য সত্য হয়ে থাকলে মৌখিক পরীক্ষায় জুমচাষের পক্ষে কথা বলাতে তাকে কম নম্বর দেওয়া হয়েছিল!

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ বিজ্ঞান অনুষদের একটি বিভাগে পরিবেশ বিষয়ক একটি কোর্সের পরীক্ষায় এবছর [অর্থাৎ ২০০১ সালে] একটি প্রশ্নের ভাষা ছিল এরকম (সংশ্লিষ্ট একজন শিক্ষার্থীর দেওয়া তথ্য অনুসারে): Describe the demerits of shifting cultivation.

ব্রিটিশ শাসনামলের পর ক্রমান্বয়ে জুমচাষ ছেড়ে আসা পাহাড়িদের মধ্য থেকে [যে] শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে উঠেছে, [তাদের মধ্যেও] সাধারণভাবে এই দৃষ্টিভঙ্গী প্রতিষ্ঠিত যে, জুমচাষ আদিম ও পরিত্যাজ্য।

উদাহরণস্বরূপ, বিশিষ্ট পাহাড়ি লেখক-গবেষক সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরার প্রকাশিত একটি গ্রন্থে আমরা দেখি,

‘উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে বৃটিশ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে চাকমাসহ সকল উপজাতিকে ক্ষতিকর জুমচাষ ত্যাগ করে হালচাষ করে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার জন্য উৎসাহিত করেন’।

‘জুমচাষ ক্ষতিকর,’ এই অভিমতকে বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করতে দেখেছি আমরা একজন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকেও, যিনি তাঁর সাক্ষাতকার নেওয়ার সময় আমাদের জানান, ‘পরিবেশের উপর জুমচাষের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা না হয় বাদই দিলাম, এটা জুমিয়াদের নিজেদের জন্য ক্ষতিকর।’

জনসংহতি সমিতির এক কেন্দ্রীয় নেতা তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য [আমাদের জানান যে তাঁদের সশস্ত্র আন্দোলন চলাকালে] তিনি নিজ উদ্যোগে ও একক সিদ্ধান্তে জুমচাষ নিষিদ্ধ করে ‘লাঙল যার জমি তার’ নীতিতে সেখানকার জুমিয়াদের লাঙল কৃষি শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

 জুমচাষের বিবিধ দিক তথা জুমিয়া জীবন সম্পর্কে গভীর প্রত্যক্ষ জ্ঞানের অধিকারী এই নেতার বিশ্বাস ছিল, ‘সামন্তবাদ থেকে পুঁজিবাদে যাত্রার পথে জুমচাষ ছাড়তেই হবে।’

…উপরের পর্যালোচনায় আমরা দেখেছি যে, জুমচাষের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশ বিপন্ন হয়ে পড়েছে, এমন একটি জোরালো প্রচারণা রয়েছে। বিষয়টিকে স্পষ্টতই ক্ষতিগ্রস্তদের উপর দোষ চাপানোর কৌশল (blaming the victim) বলে মনে হয়।

বনবিভাগের মত সংস্থা যে জুম বিরোধী অবস্থানের পুরোভাগে রয়েছে, তা তাৎপর্যপূর্ণ। পার্বত্য চট্টগ্রামে গত কয়েক দশকের মধ্যে ব্যাপক ভূমিক্ষয় ও বনবিনাশ ঘটেছে, এটা সত্য।

কিন্তু ওয়াকেবহাল মহলে এই অবস্থার জন্য বন বিভাগ ও বন শিল্প উন্নয়ন সংস্থাসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থার কর্মকান্ড তথা রাষ্ট্রীয় নীতিমালাকেই মূলত দায়ী করা হয়।

এ অবস্থায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বন বিনাশের ফলে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে লাভবান হচ্ছে, তাদের জন্য রাজনৈতিকভাবে দুর্বল ও অসংগঠিত জুমিয়া কৃষকদের প্রতি দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়া অবশ্যই সুবিধাজনক।

বন উজাড় হয়ে যাওয়াতে, বনভূমি বেহাত হয়ে যাওয়াতে জুমিয়া কৃষকরাই সবার আগে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

পক্ষান্তরে, বৈধ অবৈধ বিভিন্ন উপায়ে বাণিজ্যিকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বনজ সম্পদ আহরণের ব্যবস্থা থেকে প্রচুর অর্থের মালিক হয়েছেন, এমন লোকের সংখ্যা নিশ্চয় নগণ্য নয়।

মইন ও মিলা ঢাকায় বসে তাদের ফোনালাপে যখন পার্বত্য চট্টগ্রামের ‘আদিবাসী’ বৃক্ষগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছিল, তখন তাদের কেউ সেগুনকাঠের কোন সোফায় বা খাটে শুয়ে বসে ছিল কিনা, সেটা আমাদের জানা নেই।

যাই হোক, মইন হয়ত এ বিষয়ে ভাবে নি, যে সেগুন, রাবার প্রভৃতি বৃক্ষ ও ফসলাদির বাগান পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চলকে ক্রমশ প্রতিস্থাপিত করছে, সেগুলোর অধিকাংশ সেখানকার ‘আদিবাসী’ নয়।

ব্রিটিশ আমল থেকে জুমচাষের পরিধি কমিয়ে আনার রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমিকে অক্ষত রাখার উদ্দেশ্যে নয়, বরং তাকে অস্থানীয়দের বাণিজ্যিক স্বার্থের অনুকূলে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে।

সন্দেহ নেই, স্থানীয় পাহাড়িদের মধ্যেও এই বাণিজ্যিক স্বার্থের অংশীদার একটি ক্ষুদ্র শ্রেণি ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে এবং তাদের লক্ষ্য হতে পারে ‘বাঙালি’দের তুলনায় ‘পাহাড়ি’ [বা জুম্ম]-দের লাভের ভাগটা যতটা সম্ভব বড় রাখতে, কিন্তু এক্ষেত্রে ‘পাহাড়ি’ [বা ‘জুম্ম’] স্বার্থ আর জুমিয়া কৃষকদের স্বার্থকে সমার্থক ভাবার কোনো কারণ নেই।

~~~

Jum

*প্রশান্ত ত্রিপুরা ও অবন্তী হারুনের লেখা ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে জুমচাষ’ নামক বই থেকে নেওয়া ‘জুমচাষ সম্পর্কে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের দৃষ্টিভঙ্গী’ শীর্ষক অনুচ্ছেদের (পৃ: ৫৭-৭১) অংশবিশেষ। ঢাকা থেকে সেড (SEHD) কর্তৃক ২০০৩ সালে প্রকাশিত এই বইটির ভিত্তি ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত নৃবিজ্ঞান প্রকল্পের আওতায় জুন ২০০০ থেকে মে ২০০১-এর মধ্যে পরিচালিত একটি গবেষণা, যেটি সম্পাদনে সহায়তা করেছিলেন সন্তোষ বিকাশ ত্রিপুরা ও গীতিকা ত্রিপুরা।

লেখকঃ প্রশান্ত ত্রিপুরা

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

Jumjournal

Administrator

Follow Jumjournal

Leave a Reply