icon

অযত্নে ত্রিপুরা মহারাজার কাছারি বাড়ি

Jumjournal

Last updated Mar 13th, 2020 icon 273

“অযত্নে ত্রিপুরা মহারাজার কাচারি বাড়ি” – প্রথম আলো, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

“রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে শ্রীমঙ্গল উপজেলার পুরাকীর্তি ও ঐতিহাসিক স্থানগুলো।

ইতিমধ্যে এসব পুরাকীর্তির কোনোটি আংশিক এবং কোনোটি পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। এমনই একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন ত্রিপুরা মহারাজার কাচারি বাড়ি। ১৮৯৭ সালে ত্রিপুরা মহারাজা এ কাচারি বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন।”

ত্রিপুরা মহারাজার কাছারি বাড়ি বিষয়ে প্রকাশিত পুরনো প্রতিবেদনঃ

“ইতিহাসের সাক্ষী শ্রীমঙ্গলের কাছারিবাড়ি” – সাম্প্রতিক দেশকাল, ২ জুন ২০১৬

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন ত্রিপুরা মহারাজার কাছারিবাড়ি।

১৮৯৭ সালে ত্রিপুরা মহারাজা এ কাছারিবাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন। শতাধিক বছরের পুরোনো কাছারিবাড়িটি ৩টি কক্ষ, ৮টি দরজা ও ৯টি জানালাবিশিষ্ট ১তলা ভবন।

বাড়িটি অযত্ন, অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের সম্মুখীন। ভবনটি সংস্কার করা হলে ঐতিহ্যের নিদর্শন হয়ে নতুন প্রজন্ম ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে পরিচিত হতে পারে।

ত্রিপুরা মহারাজার স্মৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক এবং তাঁর রাজত্বকালে নির্মিত কালের সাক্ষী এ ভবনটির আদিরূপ অক্ষুন্ন রেখে দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলের পর্যটনশিল্পের বিকাশকে সামনে রেখে সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পর্যটনশিল্পের কথা ভেবে পর্যটকদের জন্য ঐতিহ্যবাহী এ কাছারিবাড়িটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সরকারি বরাদ্দ চেয়ে পত্র প্রেরণের জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ইতিমধ্যে এ কাছারিবাড়ির সুনির্দিষ্ট ইতিহাস সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যটকদের জন্য এসব কিছুই এখানে সংরক্ষণ করা হবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নুরুল হুদা জানান, সিলেট বিভাগে এ রকম ঐতিহ্যবাহী পুরোনো বাড়ি খুব কম আছে। ১৮৯৬ সালে এক ভূমিকম্পে এ অঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হলে মতিগঞ্জের সদরদপ্তর বিলাসছড়ার হুমকির মুখে পতিত হওয়ায় তা শ্রীমঙ্গলে স্থানান্তর করা হয়।

ওই সময় শ্রীমঙ্গল শহরের হবিগঞ্জ সড়কে কাছারিবাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন ত্রিপুরা মহারাজা। এ কাছারিবাড়িতে তখন খাজনা আদায় হতো।

তিনি সাম্প্রতিক দেশকালকে বলেন, বিশ্বব্যাপী পরিচিত ও দেশের অন্যতম পর্যটন উপজেলা এবং চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের পর্যটনশিল্পের বিকাশ ও এসব বিষয় মাথায় রেখে এ কাছারিবাড়িটি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

“ইতিহাসের সাক্ষী শ্রীমঙ্গল কাছারি বাড়ি” – মানবজমিন, ২৪ জুন ২০১৬

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানা সদরে হবিগঞ্জ রোড (ঢাকা-সিলেট) মহাসড়কের পাশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন ত্রিপুরা মহারাজার স্থাপনা কাছারি বাড়ি।

পাশেই রয়েছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভূমি অফিস ও শান বাঁধানো ঘাটসহ একটি বিশাল পুকুর আর কাছারি বাড়ির নাম অনুসারে নির্মিত হয়েছে ‘কাছারি জামে মসজিদ’। ১৮৯৭ সালে ত্রিপুরা মহারাজা এ কাছারি বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন।

ত্রিপুরা মহারাজার স্থাপিত কাছারি বাড়িটি বেশ দৃষ্টিনন্দন। শতাধিক বছরের পুরোনো কাছারি বাড়িটি ৩টি কক্ষ, ৮টি দরজা ও ৯টি জানালা বিশিষ্ট ১ তলা ভবন, যা প্রস্থে ৩০ ফুট ও দৈর্ঘ্যে ২০ ফুট লম্বা। প্রতিটি দেয়াল ১২ ইঞ্চি চওড়া চুন সুরকি দ্বারা নির্মিত।

বাড়িটি অযত্ন অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের সম্মুখীন। এই ভবনটি সংস্কার করা হলে ঐতিহ্যের দর্শন হয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের শিক্ষণীয় বিষয় হওয়ার পাশাপাশি দর্শন কেন্দ্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শতাধিক বছরের পুরোনো শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ত্রিপুরা মহারাজার কাছারি বাড়ি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ত্রিপুরা মহারাজার স্মৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক এবং তার রাজত্বকালে নির্মিত কালের সাক্ষী এ ভবনটির আদিরূপ অক্ষুণ্ন রেখে দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পের বিকাশকে সামনে রেখে সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

পর্যটন শিল্পের কথা ভেবে পর্যটকদের জন্য ঐতিহ্যবাহী এ কাছারি বাড়িটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সরকারি বরাদ্দ চেয়ে পত্র প্রেরণের জন্য উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

ইতিমধ্যে এ কাছারি বাড়ির সুনির্দিষ্ট ইতিহাস সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষণের জন্য এ সব কিছুই এখানে সংরক্ষণ করা হবে। শ্রীমঙ্গল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নুরুল হুদা জানান, সিলেট বিভাগে এরকম ঐতিহ্যবাহী পুরোনো বাড়ি খুব কম আছে।

ত্রিপুরা রাজার এ কাছারি বাড়িটি ১.৬৭ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে শতাব্দীর প্রাচীন একটি পাকা ভবন, শান বাঁধানো ঘাটসহ একটি পুকুর রয়েছে।

১৮৯৬ সালে এক ভূমিকম্পে এ অঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হলে মতিগঞ্জের সদরদপ্তর বিলাসছড়ার হুমকির মুখে পতিত হওয়ায় তা শ্রীমঙ্গলে স্থানান্তর করা হয়।

ওই সময় শ্রীমঙ্গল শহরের হবিগঞ্জ সড়কে কাছারি বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন ত্রিপুরা মহারাজা। তৎকালীন সময়ে মহারাজার পদস্থ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা শৈলেন্দ্র গুহ শ্রীমঙ্গল অঞ্চলের খাজনা আদায়ের জন্য সহকারী এ্যাস্টেট ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এ কাছারি বাড়িতে তখন খাজনা আদায় হতো।

মো. নুরুল হুদা আরো জানান, ২০১৪ সালে ত্রিপুরা মহারাজার ১২০ বছরের প্রাচীন এ কাছারি বাড়িটি সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে পাকা ভবনটিকে কিছুটা সংস্কার করে ভবনটিকে রঙ করা হয়েছে এবং একটি নেমপ্লেট সাঁটানো হয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নুরুল হুদা বলেন, বিশ্বব্যাপী পরিচিত ও দেশের অন্যতম পর্যটন উপজেলা এবং চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং এসব বিষয় মাথায় রেখে এ কাছারি বাড়িটি পর্যটকদের জন্য দর্শনীয় স্থানের মতই আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

“শ্রীমঙ্গলে কালের সাক্ষী ত্রিপুরা মহারাজার কাছারিবাড়ি” – আমাদের সময়, ২৫ জুন ২০১৬

প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে মৌলভীবাজার জেলার পুরাকীর্তি ও ঐতিহাসিক স্থানগুলো।

এরই মধ্যে এসব পুরাকীর্তির কোনোটি আংশিক, কোনোটি পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। এমনই একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন শ্রীমঙ্গলের ত্রিপুরা মহারাজার কাছারিবাড়ি।

১৮৯৭ সালে ত্রিপুরা মহারাজা এই কাছারিবাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন, যা কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আজও। তবে আশার কথা, ইতিহাসের এই নিদর্শনটি সরকারিভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল শহরের হবিগঞ্জ রোড (ঢাকা-সিলেট) মহাসড়কের পাশে দৃষ্টিনন্দন এই কাছারিবাড়ির পাশেই রয়েছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভূমি অফিস ও শান বাঁধানো ঘাটসহ একটি বিশাল পুকুর।

এই কাছারিবাড়ির নামানুসারে নির্মিত হয়েছে কাছারি জামে মসজিদ। শতাধিক বছরের পুরনো একতলা এ বাড়িটিতে ৩টি কক্ষ, ৮টি দরজা ও ৯টি জানালা রয়েছে। ভবনটি প্রস্থে ৩০ ফুট ও দৈর্ঘ্যে ২০ ফুট। প্রতিটি দেয়াল ১২ ইঞ্চি চওড়া চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত।

ত্রিপুরা মহারাজার এ কাছারিবাড়িটি ১ দশমিক ৬৭ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত। ১৮৯৬ সালের ভূমিকম্পে এ অঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

শ্রীমঙ্গলের মতিগঞ্জে অবস্থিত মহারাজার সদর দপ্তর বিলাসছড়ার ভাঙনের মুখে পড়ে। ওই সময় শ্রীমঙ্গল শহরের হবিগঞ্জ সড়কে কাছারিবাড়িটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তৎকালীন মহারাজার পদস্থ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা শৈলেন্দ্র গুহ শ্রীমঙ্গল অঞ্চলের খাজনা আদায়ের জন্য সহকারী এস্টেট ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এ কাছারিবাড়িতে তখন খাজনা আদায় হতো।

বর্তমানে কাছারিবাড়ি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরা মহারাজার স্মৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক ভবনটির আদি রূপ অক্ষুন্ন রেখে দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলের পর্যটনশিল্পের বিকাশ সামনে রেখেই সংরক্ষণ এবং সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নুরুল হুদা বলেন, পর্যটনশিল্পের কথা ভেবে পর্যটকদের জন্য ঐতিহ্যবাহী এ কাছারিবাড়িটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সরকারি বরাদ্দ চেয়ে পত্র প্রেরণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ বাড়ির সুনির্দিষ্ট ইতিহাস সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।

মো. নুরুল হুদা আরও জানান, ২০১৪ সালে ত্রিপুরা মহারাজার ১২০ বছরের প্রাচীন এ কাছারিবাড়ি সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে পাকা ভবনটির কিছু অংশ সংস্কার করে রঙ করা হয়েছে।

সাঁটানো হয়েছে একটি নেমপ্লেট। বিশ্বব্যাপী পরিচিত ও দেশের অন্যতম পর্যটন উপজেলা এবং চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের পর্যটনশিল্পের বিকাশ সাধনই এর অন্যতম লক্ষ্য।

Source : https://www.facebook.com/tpr.mukul.ark/posts/277022369811505?__tn__=K-R

লেখক : মুকুল ত্রিপুরা

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

Jumjournal

Administrator

Follow Jumjournal

Leave a Reply