icon

আন্তর্জাতিক আদিবাসী বর্ষ ও বাংলাদেশের আদিবাসী জনগণ

Jumjournal

Last updated Oct 7th, 2020 icon 23

[জাতিসংঘ-ঘোষিত ‘আন্তর্জাতিক বিশ্ব আদিবাসী বর্ষ’ উপলক্ষে ডিসেম্বর ১৮, ১৯৯৩ তারিখে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত একটি সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধ][*]

IP year 1993 rally photo2

‘আন্তর্জাতিক বিশ্ব আদিবাসী বর্ষ’  উদযাপন উপলক্ষে  ১৮-১২-৯৩ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত শোভাযাত্রার ছবি (সৌজন্যে – মং হ্লা প্রু পিন্টু)

জাতিসংঘ ১৯৯৩ সালকে International Year of the World’s Indigenous People হিসাবে ঘোষণা করেছে।

এটি মূলত একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হলেও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা Indigenous অভিধার দাবীদার জনগোষ্ঠীদের কাছে এই ঘোষণার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে,

কারণ এর মধ্য দিয়ে তাদের বহু শতাব্দীর বঞ্চনা ও নিপীড়নের ইতিহাস এবং বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় তাদের উপেক্ষিত অবস্থানের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রয়াস রয়েছে।

কিন্তু জাতিসংঘের ঘোষণা সব সদস্য রাষ্ট্রে সমান আবেদন সৃষ্টি করে নি। কিছু দেশ indigenous জনগোষ্ঠীর ধারণা এবং

তাদের বিশেষ অধিকারের প্রশ্নকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিলেও অন্য অনেক দেশে অনুরূপ কোন উদ্যোগ নেই, বরং কথার মারপ্যাঁচে জাতিসংঘের ঘোষণার মূল উদ্দেশ্যকে পাশ কাটানোর চেষ্টা রয়েছে।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশও কোন ব্যতিক্রম নয়। এখানে জাতিসংঘ ঘোষিত বর্ষটি উদযাপনের কোন সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয় নি এই যুক্তিতে যে এদেশে কোন indigenous জনগোষ্ঠী নেই।

কিন্তু একজন গারো, সাঁওতাল বা ম্রোর কাছে এই সরকারি ব্যাখ্যা তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করারই নামান্তর। ­

এতদিন তাকে ‘আদিবাসী’ আখ্যায় ভূষিত করে হেয় করা হয়েছে। আর আজ যখন সে এই পরিচয়কে সগৌরবে ধারণ করে বিশ্বের দরবারে মাথা তুলতে চাইছে,

তখন তার সরকার তাকে বলছে, সে নিজেকে indigenous বলে দাবী করতে পারে না। এখানে স্বভাবতই যে প্রশ্নগুলি সর্বাগ্রে চলে আসে সেগুলি হল, indigenous  কথাটির অর্থ কি?

বাংলাদেশের আদিবাসী বা উপজাতীয় নামে পরিচিত জনগোষ্ঠীগুলোকে indigenous বলা যায় কি?

আভিধানিক ভাবে indigenous কথাটির অর্থ হচ্ছে স্থানীয়ভাবে উদ্ভূত। এ অর্থে জন্মসূত্রে একটি দেশের নাগরিক,

এমন যে কেউ নিজেকে সেদেশের indigenous বাসিন্দা বলে দাবী করতে পারে। তবে অতীত উৎস খুঁজতে গেলে দেখা যাবে, পৃথিবীর অনেক জনগোষ্ঠীই এখন যেখানে বাস করে,

সেখানে তাদের অনেকের পূর্বসূরীরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দিক থেকে এসে বসতি গেড়েছিল। এ অবস্থায় কোন নির্দিষ্ট একটি জনগোষ্ঠীকে indigenous বলার অর্থ হচ্ছে এই যে, তারাই নির্দিষ্ট একটি ভূখন্ডের প্রাচীনতম অধিবাসীদের বংশধর।

স্পষ্টতই এটি একটি আপেক্ষিক ব্যাপার। অর্থাৎ স্থান ও কালের সীমানা কিভাবে বেঁধে দেওয়া হচ্ছে, তার উপরই নির্ভর করছে কোন প্রেক্ষিতে কাদের আমরা indigenous বলতে পারি।  

আমরা যদি সুদূর প্রাগৈতিহাসিক অতীতে চলে যাই তাহলে indigenous কথাটি অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায়।

সেক্ষেত্রে বড়জোর এটুকু বলা যায় যে, সব মানুষই এই পৃথিবীর indigenous বাসিন্দা, অর্থাৎ আমরা কেউ স্বর্গ বা ভিন গ্রহ থেকে আসা কারও বংশধর নই, বরং আমাদের সবারই রয়েছে অভিন্ন এক উৎস।

পৃথিবীর সব মানুষই আদম ও হাওয়ার বংশধর, এই প্রাচীন ধর্মীয় বিশ্বাস এক অর্থে বিজ্ঞানও সমর্থন করে।

তবে বিজ্ঞানীদের অনুমিত আদম-হাওয়াদের বাসস্থান কোন কল্পলোকের স্বর্গোদ্যানে ছিল না, ছিল এই পৃথিবীর বুকেই কোথাও, খুব সম্ভবত আফ্রিকায়, যেখান থেকে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠী বহু শাখাপ্রশাখায় বিভিক্ত হয়ে ধীরে ধীরে পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

আবার মানবজাতির ইতিহাস শুধুমাত্র ক্রমাগত বিভাজনের  ইতিহাস নয়, এর বিভিন্ন শাখা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে মিলিতও হয়েছে, যদিও অনেকক্ষেত্রে এই মিলন ভ্রাতৃত্বপূর্ণভাবে হয় নি, হয়েছে এক গোষ্ঠী কর্তৃক আরেক গোষ্ঠীর উপর কর্তৃত্ব স্থাপনের মাধ্যমে।

আর এভাবে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর মধ্যে অসম সম্পর্কের ভিত্তিতে পৃথিবীর ইতিহাসে রাষ্ট্র নামক একটি ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটেছিল,

যেটাকে বোঝাতে আমরা ‘সভ্যতা’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকি [যেমন, ‘সিন্ধু সভ্যতা’, ‘মিশরীয় সভ্যতা’, ‘ইনকা সভ্যতা’]। আসলে সভ্যতার ইতিহাস এই অর্থে বর্বরতারই ইতিহাস।

রাষ্ট্রের উৎপত্তির পর থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংগঠিত জনগোষ্ঠীরা হয় অন্যদের উপর নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপন করে সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে, অথবা তাদের নিশ্চিহ্ন বা বিতাড়িত করে শুধু ভূমিটুকু দখল করেছে।

ইতিহাসের এই নির্মম প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে indigenous জনগোষ্ঠীর ধারণাটি অর্থবহ। বিশেষ করে গত পাঁচশ বছরের ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক সম্প্রসারণের আলোকেই পাশ্চাত্যে indigenous people কথাটি প্রয়োগ করা হয়।

উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়া, এই তিন মহাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন অংশের মূল অধিবাসীদের নিধন,

উচ্ছেদ বা সাংস্কৃতিকভাবে ধ্বংস করে ইউরোপীয়রা কিভাবে এই ভূখন্ডগুলোর কর্তৃত্ব নিয়ে নিয়েছিল, সে ইতিহাস আমাদের সবারই কমবেশী জানা আছে।

এসব জায়গার মূল অধিবাসীদের যেসব বংশধরেরা এখনও বেঁচে আছে এবং নিজেদের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক সত্তা বজায় রেখেছে, তাদের ক্ষেত্রেই indigenous কথাটি সবচেয়ে বেশী প্রযোজ্য।

এসব বিজিত জনগোষ্ঠীদেরকে ইউরোপীয়রা অতীতে savage, primitive, tribal, Red Indian, Aboriginal প্রভৃতি বিভিন্ন নামে ডেকে এসেছে। 

এই নামগুলির অবজ্ঞাসূচক ও বর্ণবাদী ব্যঞ্জনা এড়ানোর জন্যই indigenous কথাটির ব্যবহার শুরু হয়।

তবে indigenous জনগোষ্ঠীর ধারণা যে শুধুমাত্র আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মত [মহা]দেশসমূহের ক্ষেত্রে অর্থবহ তা নয়।

আফ্রিকা ও এশিয়ার বহু দেশেও এটি সমানভাবে প্রযোজ্য। আপাতদৃষ্টিতে এ প্রস্তাবনা অর্থহীন ও অযৌক্তিক মনে হতে পারে, কারণ আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বর্তমানে স্থানীয় লোকেরাই রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত।

এসব দেশে যতদিন ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসন ছিল ততদিন ইউরোপীয়দের চোখে স্থানীয় সবাই ছিল native, এবং সভ্যতার মাপকাঠিতে নীচু বলে বিবেচিত।

কিন্তু এসব দেশের নূতন শাসকশ্রেণী ও সংখ্যাগুরু জাতিগোষ্ঠীর লোকেরা নিজেরাই পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উপর ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ ও নিপীড়ন চালাতে শুরে করেছে।

আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আভ্যন্তরীণ ঔপনিবেশিকতার শিকার এ ধরনের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী,

বিশেষ করে সংস্কৃতি ও আর্থসামাজিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে যাদের স্বতন্ত্রভাবে সনাক্ত করা যায়,

এবং যাদের নিজেদের মধ্যে এই স্বাতন্ত্র্যের বোধ ধরে রাখার প্রচেষ্টা আছে, তাদেরকেও indigenous বলে আখ্যায়িত করা যায়।

[জাতিসংঘের পরিসরে  ব্যবহারের ক্ষেত্রে] কথাটির এরকম সম্প্রসারিত অর্থই দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে কোন দেশে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাদের পূর্বপুরুষেরা প্রথম সেখানে বসতি গেড়েছিল, এ প্রশ্ন গৌণ।

মূলত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তথাকথিত সভ্যতার বিকাশের শিকার tribal, primitive প্রভৃতি ঔপনিবেশিক আখ্যায় ভূষিত জনগোষ্ঠীদের সবাই indigenous অভিধার বৈধ দাবীদার।

উপরের আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে আন্তর্জাতিকভাবে indigenous কথাটি যে অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে,

সে অর্থে বাংলাদেশে আদিবাসী ও উপজাতীয় নামে পরিচিত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সবাইকে indigenous বলে চিহ্নিত করা যায়।

বাংলাদেশ সরকারের ভাষ্য, যে, এদেশে কোন indigenous জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই, তা কোন জোরালো যুক্তির উপর প্রতিষ্ঠিত নয়।

‘ইনডিজেনাস’ কথাটির অস্বচ্ছতার কারণে নয়, বরং এদেশের আদিবাসী/উপজাতীয় জনগণকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখার উদ্দেশ্যেই সরকার এই অবস্থান নিয়েছে।

যেহেতু বিশ্বব্যাপী indigenous জনগোষ্ঠীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার একটা প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিকভাবে চলছে, আদিবাসী/উপজাতীয়দের indigenous  বলে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থই হচ্ছে এই প্রচেষ্টার প্রতি একটা অঙ্গীকার ব্যক্ত করা।

কিন্তু যেখানে এ যাবত বাংলাদেশের সব সরকারই চেষ্টা করেছে এদেশের আদিবাসী/উপজাতীয়দের অধিকার হরণের ইতিহাসকে যতটা সম্ভব গোপন করতে,

সেখানে জাতিসংঘ-ঘোষিত বর্তমান বর্ষটি উদযাপনে এগিয়ে যাওয়ার মত যথেষ্ট সদিচ্ছা বা প্রস্তুতি বর্তমান সরকারেরও নেই।

শুধু আদিবাসী ও উপজাতীয় নামে পরিচিত জনগোষ্ঠীদের indigenous বলে অভিহিত করার অর্থ এই নয় যে, বৃহত্তর জনগোষ্ঠী অর্থাৎ  বাঙালিদের শেকড় এদেশের মাটিতে প্রোথিত নয়।

বহু প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আগ্রাসী জনগোষ্ঠীকে আত্মস্থ করে নিয়েই বাঙালির ইতিহাস ও আত্মপরিচয় এদেশের মাটিতে গড়ে উঠেছে।

কিন্তু এদেশে বাঙালিরাই এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। কাজেই কোন বিজাতীয় শাসক গোষ্ঠীর বিপরীতে যে তাদের indigenous বলা যাবে, এমন কোন প্রেক্ষাপট এখন নেই।

অন্যদিকে যারা আদিবাসী বা উপজাতীয় নামে পরিচিত, এদেশের মাটিতে তাদের যে শেকড় গড়ে উঠেছিল সেটাকে এখন বাঙালি শাসক শ্রেণী উপড়ে ফেলছে।

এই অবস্থায় আন্তর্জাতিকভাবে indigenous জনগোষ্ঠীর যে ধারণা তৈরী হয়েছে, আদিবাসী/উপজাতীয়দের কাছে তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও অর্থবহ।

ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের বিচারে একজন সাঁওতাল, গারো বা ম্রো অবশ্যই বাঙালি নয়।

তাদের পরিচয়ের স্বাতন্ত্র্যকে সাধারণভাবে বোঝানোর জন্য আদিবাসী, উপজাতীয় প্রভৃতি যেসব অভিধা প্রচলিত,

একটু তলিয়ে দেখলেই বোঝা যায়, এগুলি indigenous কথাটির প্রায় সমার্থক, যদিও বাংলা অভিধাগুলির অবজ্ঞাসূচক ব্যঞ্জনাও রয়েছে, যার ফলে অনেকের চোখে এগুলি আপত্তিকর।

আভিধানিক অর্থে বাংলা ‘আদিবাসী’ ও ইংরেজি indigenous  দুটোই পুরোপুরি সমার্থক। তবে indigenous  শব্দটি সাধারণ পরিচিতি লাভ করার অনেক আগে থেকেই আদিবাসী কথাটি বাংলায় ব্যবহৃত হয়ে এসেছে,

এবং প্রচলিত ব্যবহারে শব্দটি এর মূল অর্থ হারিয়ে কিছুটা ভিন্ন অর্থ গ্রহণ করেছে। আদিবাসী কথাটি বাংলায় ব্যবহৃত হয় মুলত আদিম বা সভ্যতার মাপকাঠিতে নীচু অর্থে।

তাই আমরা দেখি আবদুস সাত্তারের ‘আরণ্য জনপদে’-এর মত গ্রন্থে [যা একদা বাংলাদেশে বহুল পঠিত ছিল]

একদিকে সাঁওতাল, গারো, চাকমা প্রভৃতি জনগোষ্ঠীকে আদিবাসী বলে অভিহিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে একই সাথে এটাও বলা হচ্ছে, আদিবাসীরা কেউ এদেশের ভূমিজ সন্তান নয়।

কে এদেশের ভূমিজ সন্তান আর কে নয়, এই অর্থহীন বিতর্কে না গিয়ে এখানে যে বিষয়টি আমরা ভেবে দেখতে পারি তা হল, আদিবাসী কথাটিকে ইংরেজি indigenous –এর প্রতিশব্দ হিসাবে ব্যবহার করা যায় কিনা।

Indigenous কথাটি তুলনামূলকভাবে নূতন এবং এর নেতিবাচক কোন ব্যঞ্জনা এখন পর্যন্ত নেই।

অন্যদিকে আদিবাসী শব্দটি বাংলায় অবজ্ঞাসূচক অর্থ বহন করে। কাজেই যে বিশেষ অর্থে এবং ইতিবাচক উদ্দেশ্যে কথাটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলনের প্রচেষ্টা চলছে, আদিবাসী কথাটির মাধ্যমে তা সঠিকভাবে প্রকাশ করা যায় না।

এভাবে দেখলে আদিবাসীর পরিবর্তে বাংলা বানানেই ‘ইনডিজেনাস’ কথাটি ব্যবহার করা, অথবা অন্য কোন নূতন শব্দ (যেমন, স্বদেশজাত) উদ্ভাবন করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত।

তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আপাতত কাজ চালানোর জন্য ‘আদিবাসী’কে indigenous –এর প্রতিশব্দ হিসাবে ব্যবহার করায় কোন অসুবিধা নেই।

আদিবাসী নামে পরিচিত মানুষেরা নিজেরাই যদি এ আখ্যাকে সগৌরবে ধারণ করে দেশের ভিতরে এবং বাইরে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে, তাহলে এটি একদিন ইতিবাচক ব্যঞ্জনাই বহন করবে।

এই দৃষ্টিভঙ্গী থেকেই প্রবন্ধের বাকী অংশে indigenous অর্থে আদিবাসী শব্দটি আমি ব্যবহার করব।

জাতিসংঘের ঘোষণাকে সামনে রেখে indigenous হিসাবে পরিচিত হওয়ার যে দাবী বাংলাদেশের আদিবাসীরা জানাচ্ছে,

সেটার অর্থ হল নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় ও সংস্কৃতি অক্ষুন্ন রেখে এদেশের মাটিতে মানুষ হিসাবে বেঁচে থাকার অধিকার তারা চায়, যে অধিকারের স্বীকৃতি এখন পর্যন্ত কোন সরকারই পুরোপুরি দেয় নি।

জাতিসংঘ প্রণীত indigenous জনগোষ্ঠীর ধারণা বাংলাদেশের সরকার গ্রহণ করুক বা নাই করুক,  এদেশের আদিবাসীদের মূল দাবীকে অস্বীকার করার কোন নৈতিক ভিত্তি সরকারের নেই।

বিএনপি সরকার অবশ্য তাদের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও উন্নয়নের রাজনীতির স্লোগানকে আদিবাসীসহ দেশের সব মানুষের আর্থসামাজিক মুক্তির পথ বলে প্রচার করে থাকে।

আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ধারণা এদেশের আদিবাসীদের আত্মপরিচয়ের সমস্যার একটা উত্তর।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকারীভাবে যখন দেশের সবাইকে বাঙালি হিসাবে ঘোষণা দেওয়া হয়, আদিবাসীদের আত্নপরিচয়ের প্রতি এটা ছিল একটা মারাত্নক আঘাত।

বাঙালি জাতীয়তাবাদকে তৎকালীন সরকার যেভাবে আদিবাসীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছিল, তাতে করে প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকেই খর্ব করা হয়েছিল।

অন্যদিকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ধারণার আড়ালে ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শ থেকে আরও বেশী সরে এসেছে পরবর্তী সরকারগুলি। শুধুমাত্র বাংলাদেশী পরিচয় দিয়ে আদিবাসীদের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায় না।

আর বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ধারণা যে আদিবাসীদের কথা ভেবে তৈরী করা হয়েছিল তাও নয়, বরং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলেই আদিবাসীদের অধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছিল, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে।

আদিবাসীদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের কোন চেষ্টা বাংলাদেশের কোন সরকার করে নি, তা বলা যাবে না।

কিন্তু উন্নয়নের যে ধারণা এখন দেশে প্রতিষ্ঠিত, তা মূলত দেশের বর্তমান শাসক শ্রেণী ও বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার স্বার্থকেই রক্ষা করে।

তাই আমরা দেখতে পাই, বনায়নের নামে গারোদের তাদের ভিটেমাটি থেকে উৎখাত করার চেষ্টা, বা জুমিয়া কৃষকদের রাবার চাষীতে রূপান্তরিত করার কর্মসূচী।

সরকারের উদ্দেশ্য যদি সত্যিই বনাঞ্চল রক্ষা হয়ে থাকে, তাহলে আদিবাসীদের প্রথাগত কৃষিব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার যথেষ্ট যৌক্তিকতা আছে।

পরিবেশ বিদ্যায় অজ্ঞ অনেক বিশেষজ্ঞই জুম-পদ্ধতির কৃষি ব্যবস্থাকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলে রায় দিয়ে থাকেন,

কিন্তু এ বিষয়টি তাঁরা ভেবে দেখেন না, যে, জুমিয়া কৃষকরা কয়েক শ’ বছরেও বনাঞ্চলের যে ক্ষতি করতে পারেনি, মাত্র গত কয়েক দশকের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড তা করেছে।

জুমিয়া কৃষকরা একসাথে কোন বিশাল এলাকার গাছপালা কেটে ফেলে না, বরং পরিত্যক্ত প্রতিটি জুমক্ষেতে প্রাকৃতিক নিয়মে বনায়ন ঘটতে দেয়।

স্থানীয় পরিবেশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বিভিন্ন ফসল তারা ফলায়, এবং তাদের বিভিন্ন বিশ্বাস ও রীতিনীতি বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে।

অথচ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা নিজেদের স্বার্থেই জুম ব্যবস্থাকে বাতিলের খাতায় লিখে দিয়েছিল, এবং তখন থেকে অব্যাহতভাবে চলে এসেছে আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণের ইতিহাস।

আদিবাসীদের মধ্যে সবাই যে দরিদ্র ও ভূমিহীন, তা অবশ্য নয়।  কিন্তু প্রচলিত অর্থে জমি বলতে আমরা যা বুঝি,

সে রকম জমির পরিমাণ আদিবাসী-অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহে এমনিতেই অপ্রতুল ছিল। তার উপর আদিবাসীদের মধ্যে যারা এরকম জমির মালিকানা পেতে শুরু করেছিল, তাদের এসব ভূসম্পত্তি বিভিন্ন রকম চাপের মুখে বাঙালি মহাজন ও কৃষকদের হাতে চলে যাচ্ছে।

ভূমির সাথে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই, কিন্তু জমির মালিক, এমন অনেক আদিবাসীরও এখন দেখা মেলে ঠিকই, কিন্তু তাদের সংখ্যা বেশি নয়।

সাধারণভাবে বলা যায়, বেশির ভাগ আদিবাসী দেখতে পাচ্ছে, তাদের পায়ের তলায় দাঁড়ানোর মত জায়গা নেই, যেটুকু আছে তাও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

আদিবাসীরা যে শুধু তাদের জায়গা জমি ও ভিটে মাটি হারাচ্ছে তা নয়, তাদের প্রতিবাদ করার অধিকার, সুবিচার পাওয়ার অধিকার, তাদের জীবন ও সম্ভ্রম, এসবও তাদের অনেকে হারিয়েছে, হারাচ্ছে।

আমরা জানি যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের একটা বিরাট অংশ এখনও ভারতের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে উদ্বাস্তু জীবন কাটাচ্ছে।

ভিটেমাটি ও স্বজন হারিয়ে দেশের ভিতরেই অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে এমন আদিবাসীর সংখ্যাও কম নয়। আর, এক অর্থে আদিবাসী মাত্রই মানসিকভাবে উদ্বাস্তু।

যেসব শিক্ষিত আদিবাসী নারীপুরুষ দেশের বিভিন্ন শহরাঞ্চলে ছড়িয়ে আছে, তাদের আত্নপরিচয় ও আত্মার শেকড় এখনও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেই গাঁথা আছে।

একজন আদিবাসী যেখানেই থাকুক, সে যে ভূমিতে জন্মেছিল, যেখানে তার পূর্বপুরুষদের স্মৃতি মিশে আছে, যেখানে তার ভাইবোনেরা টিকে থাকার জন্য লড়াই করছে, সেই ভূমির উপর বাইরে থেকে আসা কারো ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব সে মেনে নিতে পারে না।

এভাবেই বিকশিত হয়েছে তার রাজনৈতিক চেতনা, তার জীবনবোধ।

নিজেদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবীতে সকল শ্রেণীর এবং সব অঞ্চলের আদিবাসীদের মধ্যেই রয়েছে একাত্নবোধ।

এই একাত্মবোধ এখন পর্যন্ত কোন ঐক্য ও সুসংহত আন্দোলনের রূপ পায়নি বটে, কিন্তু সে চেষ্টা চলছে।

ভৌগোলিকভাবে বিক্ষিপ্ত থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আদিবাসীদের মধ্যে যথেষ্ট যোগাযোগ গড়ে ওঠে নি, কিন্তু তারা সবাই একে অন্যের সমস্যা বোঝে, কারণ সব আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সমস্যাই মূলত একই।

এদেশে তাদের কারো অস্তিত্বই সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত নয়; তাদের প্রথাগত ভূমিস্বত্ত্ব রাষ্ট্রীয় আইনে উপেক্ষিত হয়েছে;

নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্নপরিচয় অক্ষুন্ন রেখে আত্মবিকাশের কোন নিশ্চয়তা তাদের নেই; বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে তাদের মানবাধিকার ও মৌলিক নাগরিক অধিকার চূড়ান্তভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।

এসব অভিন্ন সমস্যা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সকল আদিবাসী জনগোষ্ঠীই একটা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে।

সেই সাথে বিশ্বের সর্বত্র আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে যে প্রচেষ্টা চলছে, সে প্রচেষ্টার সাথে আরো সরাসরি সম্পৃক্ত হতে হবে এদেশের আদিবাসীদেরও।

কিন্তু একথা বলার অর্থ এই নয় যে এদেশের আদিবাসীরা জাতীয় মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবে।

আদিবাসীরা নিজেরা কখনো জাতীয় প্রেক্ষাপট থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন রাখতে চায়নি, বরং শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালিদের জাত্যাভিমানই তাদের দূরে সরিয়ে রেখেছে।

বিভিন্ন সময়ে আদিবাসীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার চিত্র জাতীয়ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তাদের আবেদন জাতীয় মানসে যথেষ্ট দাগ কাটে নি।

বাংলাদেশের আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও অর্থনীতি গত একশ’ বছরে অনেক পরিবর্তিত হয়েছে।

আদিবাসীরা আগে যেখানে জুম চাষ করত, সে ভূমি এখন বনবিভাগ, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিত্তশালী ব্যক্তিদের দখলে।

আদিবাসীদের মধ্যে যারা জুমচাষ ছেড়ে লাঙল ধরেছিল, তারাও জমির সন্ধানে আসতে থাকা বিপুল সংখ্যক বাঙালি কৃষকদের, যাদের পেছনে রয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক্তা, তাদের চাপের মুখে বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বনটুকুও হারিয়ে ফেলছে।

দরিদ্র ও ভূমিহীন আদিবাসীরা পরিণত হচ্ছে দিন মজুরে, এবং ইদানীং তাদের অনেকের মধ্যে ভিক্ষাবৃত্তির প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে আদিবাসীদের মধ্যে যারা এখনও তাদের [ঐতিহ্যবাহী] কৃষি ব্যবস্থাকে ধরে রেখেছে, তারা সেটা করছে অজ্ঞতার কারণে নয়, বরং তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য কোন বিকল্পের অভাবে।

সরকারি পরিকল্পনা বিশারদ বা অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে রাবার চাষ জুম ব্যবস্থার বিকল্প মনে হতে পারে, কিন্তু একজন জুমিয়া কৃষক জানে যে সে রাবার খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে না,

এবং রাবার চাষ করে সে রাবারের ন্যায্যমূল্য পাবে, এমন কোন নিশ্চয়তা সে দেখে না। ব্রিটিশ শাসনামলে বাঙালি কৃষকদের কাছে নীল চাষ যা ছিল, জুমিয়া কৃষকদের কাছে রাবার চাষও ঠিক তাই।

বাংলাদেশের ইতিহাস শুধু বাঙালির ইতিহাস নয়। এদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে, সামন্ত শোষণের বিরুদ্ধে, বাঙালি কৃষক জনতার পাশাপাশি আদিবাসীরাও রুখে দাঁড়িয়েছিল অতীতে।

নাচোলের সাঁওতাল বিদ্রোহ, হাজং বিদ্রোহ প্রভৃতি তারই প্রমাণ। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধেও অনেক আদিবাসীই সক্রিয় অংশ নিয়েছিল।

বাংলা ভাষা, বাঙালি সংস্কৃতি, এমনকি বাঙালি জনসমষ্টি, সবকিছুর সাথেই বহু আদিবাসী উপাদান মিশে আছে।

কিন্তু এদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নির্মাণে আদিবাসীদের যে ভূমিকা ছিল, কোন পাঠ্যপুস্তকে তার কোন যথার্থ উল্লেখ নেই।

ইতিহাস ও জাতীয় মানস থেকে তারা নির্বাসিত হয়ে আছে, এখন দেশের মানচিত্র থেকেও তাদের অস্তিত্ব মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

অস্তিত্বের যে সংকটে আজ বাংলাদেশের আদিবাসীরা নিমজ্জিত, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এটি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

সারা পৃথিবী জুড়েই আদিবাসী জনগোষ্ঠীরা একই ধরনের সংকটের মোকাবেলা করছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী আদিবাসীদের সমস্যা শুধু তাদের একার নয়, তাদের অস্তিত্বের প্রশ্নের সাথে গোটা মানবজাতির ভবিষ্যতও জড়িয়ে আছে।

প্রগতির যে ধারণা পাশ্চাত্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছিল, তারই শিকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীরা।

কিন্তু এই প্রগতির সীমা ও বিপদ আজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আমাজনের অরণ্যভূমি নিঃশেষ হওয়ার সাথে সাথে সেখানকার আদিবাসীরা যেমন অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে নির্মূল হয়ে যাচ্ছে, তেমন গোটা বিশ্বের পরিবেশগত ভারসাম্যেরও ক্ষতি হচ্ছে।

  এ ধরনের উপলব্ধি থেকেই বিশ্বব্যাপী আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ও রক্ষা করার উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক আদিবাসী বর্ষ উদযাপন করতে গিয়ে এই প্রেক্ষাপটেই আমাদের পুরো বিষয়টিকে দেখতে হবে।

~~~

IP Year 1993 souvenir0001

বিশ্ব আদিবাসী বর্ষ উপলক্ষে ডিসেম্বর ১৮, ১৯৯৩ তারিখে প্রকাশিত স্মরণিকার প্রচ্ছদ


[*]সেমিনারটি ছিল আন্তর্জাতিক বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষে বেসরকারিভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার অংশ, যা পরিচালিত হয়েছিল তৎকালীন বিরোধী দলীয় দুই সাংসদ দীপঙ্কর তালুকদার ও প্রমোদ মানকিন যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন, এমন একটি কমিটির তত্ত্বাবধানে।

তবে উক্ত কমিটিসহ বিভিন্ন উপ-কমিটিতে দলমত নির্বিশেষে আদিবাসী সমাজের ব্যাপক প্রতিনিধিত্ব ছিল।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসাবে ডিসেম্বর ১৮, ১৯৯৩ তারিখে একটি স্মরণিকাও প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে সংসদের তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছিলেন।

বর্তমান নিবন্ধটি অবশ্য সেই স্মরণিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এটি পরবর্তীতে কোনো সংকলনে (সম্ভবত ২০০৩ সালে, আদিবাসী দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত) ছাপা হয়েছিল।

এছাড়া সীমিত পরিসরে নিবন্ধটির অনুলিপি পরিচিত মহলে তথা ফেসবুকে ভাগ করেছি আগে।

সম্ভাব্য নূতন পাঠক ও গবেষকদের সুবিধার্থে এটি আমার ব্লগে আবার প্রকাশ করলাম ঈষৎ সম্পাদিত আকারে।

তবে সম্পাদনার ক্ষেত্রে মৌলিক কোন পরিবর্তন করা হয় নি, শুধুমাত্র কিছুক্ষেত্রে সমকালীন বানানরীতি আরোপ করা হয়েছে, আর দু’একটি জায়গায় সামান্য কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করা হয়েছে যেগুলি আয়ত বন্ধনীতে (অর্থাৎ […] আকারে) দেখানো হয়েছে।

লেখক : prashanta tripura

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

Jumjournal

Administrator

Follow Jumjournal

Leave a Reply