icon

কুমার সমিত রায় পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন কিংবদন্তী মিউজিশিয়ান

Jumjournal

Last updated Jan 5th, 2020 icon 635

“গাঝ ফাগন্দি জুনান যেক্যে উদে”, “বেন্যে অহ্‌লে”, “মনান আগ সান নলাগে”, “দগিনো বৈয়ার বার”, “আহ্‌ঝি আহ্‌ঝি দিন বেড়াং”-সহ অনেক কিংবদন্তী চাকমা গান তিনি গেয়েছেন এবং রচনা ও সুর করেছেন।

কুমার সমিত রায় ছিলেন তৎকালীন চাকমা রাজা নলীনাক্ষ রায়ের দ্বিতীয় পুত্র। ভারত-পাকিস্তান বিভাগের পূর্বে ১৯৪৩ সালের ২২ আগস্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভিক্টোরিয়ায় সিনিয়র ক্যামব্রিজ সমাপ্ত করেন।

তারপর ইতিহাসে বিএ এবং এমএ সম্পন্ন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৬৫ সালে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৭০ সালে মর্যাদাপূর্ণ সিএসপি (CSP: Civil Service of Pakistan) পরীক্ষায় পাশ করেন। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, পশ্চিম পাকিস্তানে ভালো চাকরি করবেন না।

কারণ, তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজধানী রাঙ্গামাটিতে থেকে নিজের জনগোষ্ঠীর লোকেদের সহায়তা করতে চেয়েছিলেন। তিনি ১৯৭২-২০০৪ সাল পর্যন্ত রাঙ্গামাটি সরকারী কলেজের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Kumar Samit Roy
কানাডার মন্ট্রিয়ালে সমিত রয়, ছবি: Real Dewan

ছোটবেলা থেকেই তাঁর গানের প্রতি আলাদা ঝোঁক ছিল। সংগীতে কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিলো না কিন্তু তাঁর কন্ঠ ছিল সুন্দর। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম চাকমা তথা প্রথম আদিবাসী ব্যান্ড “গেংহুলী”-এর জন্য অসংখ্য গান রচনা করেন।

বিশেষতঃ এসকল গান ১৯৭০-এর পূর্ববর্তীতে এবং ১৯৮০-এর শুরুর দিকে রচিত হয়েছিল। তিনি ছিলেন আধুনিক চাকমা গানের জনক। তাঁর পূর্বে শুধুমাত্র ফোঁক এবং উবগীত-এর মধ্যেই চাকমা গানের সীমাবদ্ধতা ছিল।

তিনি পরবর্তীতে চাকমা ব্যান্ড (পপ) মিউজিক কনট্রিবিউট করেন যে কারণে আমাদের চাকমা ব্যান্ড মিউজিক অনেক সমৃদ্ধ।

মিউজিকের পাশাপাশি তিনি খেলাধূলা অত্যন্ত পছন্দ করতেন। তিনি একজন অলরাউন্ড খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি ক্রিকেট, হকি, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন এবং টেবিল-টেনিস খেলতেন। তবে তাঁর ফুটবল এবং ক্রিকেট-এর প্রতি বেশি ঝোঁক ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি দীর্ঘ কয়েক বছর চট্টগ্রামে প্রেস্টিজিয়াস স্টার ক্লাবের ক্রিকেটের ক্যাপ্টেন ছিলেন। তিনি রাঙ্গামাটির শহীদ শুক্কুর ক্লাব এবং রাজবাড়ী স্টার ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

যখন কোন মেধাসম্পন্ন খেলোয়াড় দেখতেন, তিনি তাদের সহায়তা করতেন এবং উৎসাহ যোগাতেন তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য। বিভিন্ন ধরণের খেলা এবং অ্যাথলেটিকসে কোচ হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৬ সালে মন্ট্রিয়াল অলিম্পিকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

তিনি ৪ এপ্রিল ২০০৮ সালে পরলোক গমন করেন।


রিয়েল দেওয়ান

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

Jumjournal

Administrator

Follow Jumjournal

Leave a Reply