icon

পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ ধর্মের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

Jumjournal

Last updated Jun 2nd, 2020 icon 340

পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মের বর্ণনা করার ক্ষেত্রে এই এলাকার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ইতিহাসই বর্ণনা করতে হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ বলতে মূলত চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকদের কথায় আসে। চাকমারা ১৪১৮ খ্রিষ্টাব্দে আলীকদম হয়ে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ করেন।

১৭৮৩-১৭৮৪ খ্রিষ্টাব্দে ব্রহ্মরাজ বুদ্ধপ্রিয় (Buddhapriya) কর্তৃক আরাকান আক্রমণ এবং ১৭৮৫ খ্রিষ্টাব্দে সম্পূর্ণরূপে বিজয়ের পর আরাকানী বা রাখাইন-মারমাদের এতদঞ্চলে বড় আকারে অনুপ্রবেশ ঘটে।

এর আগেও এ অঞ্চলে চাকমা-মারমা বৌদ্ধরা বসবাস করতো। ব্ৰহ্মভাষায় রচিত ইতিহাস গ্রন্থ রাজোয়াং (রাজবংশ) থেকে জানা যায় খ্রিষ্টীয় ৯৪৯ সালে চুল্ল সিংহ চন্দ্র (Tsula Taing Tsandaya or Singha Chandra the junior) আরাকানের সিংহাসনে বসেন এবং ১৫৩ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম অঞ্চল অধিকার করেন।

তিনি রাজ্য জয়ের চিহ্ন স্বরূপ একটি স্তম্ভ নির্মাণ করেন এবং সেখানে “Test-ta-gaung ৰা যুদ্ধ করা ভাল নয়” বাণী খোদিত করেন। স্তম্ভটি কুমিরার নিকটবর্তী কাউনিয়া ছড়ার দক্ষিণ কূলে স্থাপিত ছিল।

তথ্যটি সুনীতি ভূষন কানুঙ্গে তার A History of Chittagong গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন (পৃঃ ১৭, প্রকাশ ১৯৮৮, চট্টগ্রাম)।

১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম আরাকানীদের কাছ থেকে মোগলদের হাতে চলে যায়। কাজেই ১৭৮৫ খ্রিষ্টাব্দের ব্রহ্মরাজ বুদ্ধপ্রিয়ের আরাকান জয়ের পূর্বেও এ এলাকায় চাকমা-মারমা বৌদ্ধরা বসবাস করছিল।

সম্রাট অশোকের (২৭২ খ্রিঃ পূর্ব-২৩২ খ্রিঃ পূর্ব) সময় তৃতীয় বৌদ্ধ সঙ্গীতির (২৫৭ খ্রিঃ পূর্ব) পরে পরেই সোন ভিক্ষু ও উত্তর ভিক্ষুকে সুবর্ণভূমি অর্থাৎ ব্রহ্মদেশে ধর্ম প্রচারের জন্য পাঠানো হয়।

তিব্বতী ঐতিহাসিক তারনাথ (১৫৭৫ খ্রঃ জন্ম) তার ঋ-গিয়া-গর-কোচ-ব্যুন বা ভারতে বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস গ্রন্থে রাখেন, হংসবতী, মারকো, মুঞং, চাকমা, কম্বোজ ইত্যাদি দেশে অশোকের সময় থেকে সংঘ বা (বৌদ্ধধর্ম) প্রতিষ্ঠিত হবার কথা উল্লেখ করেন।

বৌদ্ধদের পৌরানিক কাহিনী মতে গৌতম বুদ্ধ স্বয়ং বার্মায় বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করতে এবং বার্মা যাবার পথে চট্টগ্রামের চক্রশালা নামক স্থানে ধর্ম দেশনা করেছিলেন।

চাকমারা বিশ্বাস করেন যে, তারা বুদ্ধ যেই শাক্য জাতিতে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন । সেই জাতিরই অধস্তন বংশধর এবং চম্পক নগর তাদের নিজ শাক্য বংশীয় রাজা রাজধানী ছিল।

উল্লেখ্য, চম্পক নামক এক শাক্য রাজার কাহিনী তিব্বতী বিনয় গ্রন্থ “দুল্বা”কে উদ্ধৃত করে প্রখ্যাত ভারত তত্ত্ববিদ William Woodville Rockhill তার The life of the Buddha গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

তিনি সেখানে এও উল্লেখ করেন যে, রাজা চম্পকের অনুসারী শাক্যগণ শাক্য জাতি থেকে পতিত বা অ-শাক্য (পালিতে “সাক্য মা”) হিসাবে গণ্য হয়েছিলেন।

চাকমাদের প্রচলিত কথা “চাঙত্তুন পড়ি মা, চাঙমা” অর্থাৎ “চাঙ” থেকে পতিত হয়ে “মা” শব্দ যোগে “চাঙমা” বা “চাকমা” শব্দের উৎপত্তি।

রাজা চম্পকের অনুসারী শাক্যগণের শাক্যজাতি থেকে পতিত হয়ে অ-শাক্য বা “সাক্য মা” হয়ে যাবার কথা স্মরণ করায়।

উপরোক্ত সংক্ষিপ্ত বর্নণা থেকে বুঝা যায় যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ ধর্ম স্মরণাতীত কাল থেকে চাকমা-মারমা-তঞ্চঙ্গ্যা ইত্যাদি বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর দ্বারা লালিত হয়ে আসছিল।

তবে, অতীত কালে বৌদ্ধধর্মের মূল ভূ-খন্ড মগধ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগলিক দূরত্ব এবং স্বাভাবিকভাবে সময়গত ব্যবধানের কারনে মূল বৌদ্ধ ধর্ম থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধধর্ম অনেকটা বিকৃত হয়ে এসেছিল।

এক সময় চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যাদের কাছে “লুরি বা করি” নামক বৌদ্ধধর্মীয় গুরুরাই বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কাজ চালিয়ে যেতেন। চট্টগ্রামের বড়ুয়াদের সমাজেও এরূপ অবৌদ্ধচিত ধর্মীয় গুরু “রাউলী” বিদ্যমান ছিলেন।

লুরি বা রুরিরা “আঘরতারা” এবং বড়ুয়া রাউলীরা “মঘা খম্মেীজা” নামের নিজস্ব ধর্মীয় গ্রন্থ ব্যবহার করতেন। আঘরতারা মানে অক্ষর বা সূত্রের সংগ্রহ এবং মঘা খম্মৌজা সম্ভবত “কম্ম বাচা”-র বিকৃত রূপ।

১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে ব্রহ্মরাজ মিন ডন মিন (মোং ডুন মেং)-এর রাজগুরু পঞঞাসামী থের কর্তৃক পালি ভাষায় রচিত শাসনবংশ বা বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস গ্রন্থেও একই ধরনের অনাচারী বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সন্ধান পাওয়া যায়।

পালি ভাষায় এদেরকে “সমন কুথক” বা অনাচারী সন্যাসী বলা হয়। প্রখ্যাত বাঙ্গালী ঐতিহাসিক নীহার রঞ্জন রায় তাঁর Sanskrit Buddhism in Burma গ্রহে এদেরকে “অরি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং অরি শব্দটি আর্য শব্দের অপভ্রংশ বলে মনে করেন (আর্য> আরিয় > আরি > অরি, রুরি, লুরি, রাউলী ইত্যাদি)।

চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ ধর্মের এই নাজুক অবস্থা থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য ত্রাণকর্তা হিসাবে আবির্ভাব হন এক আরাকানী বা মারমা-রাখাইন সম্প্রদায়ের ভিক্ষু সারমেধ মহাস্থবির (১৮০১-১৮৮২)।

ব্রহ্মরাজ বুদ্ধপ্রিয় (১৭৮১-১৮১৯ খ্রিঃ) বা Buddhapriya ১৭৮৫ সালে আরাকান জয়ের পরে যে সব রাখাইন বৌদ্ধ চট্টগ্রাম অঞ্চলে আশ্রয় গ্রহণ করেন তাদেরই হারভাং (চকোরিয়া) অঞ্চলের এক পরিবারে এই ভাবী সংঘরাজ সারমেধ মহাস্থবিরের জন্ম হয় ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দে।

তিনি বাল্যকালে জনৈক সারালংকার মহাস্থবিরের নিকট শ্রামণ্য ধর্মে দীক্ষিত হন এবং ১৮২১ খ্রিষ্টাব্দে উপসম্পদা বা পূর্ণ ভিক্ষুত্ব লাভ করেন।

পরবর্তীতে ১৮২৬ খ্রিষ্টাব্দে বার্মা ও ব্রিটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর মধ্যে সন্ধি চুক্তির ফলে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীল অবস্থা ফিরে এলে যুবক সারমেধ ভিক্ষু গুরু সারালংকার মহাস্থবিরের সাথে আকিয়াব চলে যান।

তিনি বার্মাতে ধর্ম বিনয়ে শিক্ষা গ্রহন করেন এবং তাঁর যশ খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে, ১৮৪৬ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে সাসনধর মহাধম্মরাজাধিরাজগুরু উপাধিতে ভূষিত করেন।

চাকমা রাজ্যের তৎকালীন শাসন কর্ক্রী রানী কালিন্দী (১৮৪৪-১৮৭৩ খ্রিঃ) তাঁকে ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে রাজ পূণ্যাহ উপলক্ষে সংঘরাজবিনয়ধর উপাধিতে ভূষিত করেন এবং উক্ত উপাধিযুক্ত শীলমোহর প্রদান করেন।

১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে ব্রহ্মরাজ মিন ডন মিন (মেং চুন মেং) তাকে বৌদ্ধ ধর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য সাসনধজ মহাধম্মরাজাধিরাজগুরু উপাধিসহ শীলমোহর প্রদান করেন।

শীলমোহর
রানী কালিন্দী কর্তৃক সারমেধ মহাস্থবিরকে প্রদত্ত শীলমোহর।(ধর্ম্মাধার মহাস্থবির রচিত সদ্ধর্মের পুনরুত্থান পুস্তক থেকে সংগৃহীত)

১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি চাকমা রাণী কালিন্দীর আমন্ত্রণে আবার চাকমা রাজ্যে আগমন করেন এবং চাকমা রাজ্যের রাজধানী রাজানগরে বিনয় সম্মতভাবে ভিক্ষু উপসম্পদা গৃহ বা ভিক্ষুসীমা (ঘেং) প্রতিষ্ঠা করেন।

ইহা বাংলাদেশে সর্বপ্রথম বিনয় সম্মত ভিক্ষুসীমা। ভিক্ষুসীমাটির নাম সুমঙ্গল রত্ন সীমা’। তবে তিনি এই সীমার নাম দেন ‘চিং’।

এর আগে ১৮৬৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আরও পাহাড়তলী মহানুমতিতে এসেছিলেন। সেখানে মহামুনির পূর্বপাশে হাঞ্চার ঘোনা নামক গ্রামের এক পার্বত্য ছড়ায় (নদী সীমায়) জ্ঞানালংকার ভিক্ষু (লাল মোহন ঠাকুর) প্রমূখ সাত জন বা ভিক্ষুকে থেরবাদী বিনয়মতে পুনঃ দীক্ষিত করে উপসম্পদা প্রদান করেন।

মোটামুটি তখন থেকেই এই সংঘরাজ সারমেধ মহাস্থবিরের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিনয় সম্মতভাবে নতুন উদ্যমে থেরবাদ বৌদ্ধ ধর্মের নবজাগরণ শুরু হয়।

এক্ষেত্রে, অতীতে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারের এবং প্রসারে রাঙ্গুনিয়ার কদলপুরে অবস্থিত মহামুনি বিগ্রহ মন্দির (আনুমানিক ১৭২০ খ্রিঃ নির্মিত), রাজানগরে শাক্যমুনি বিগ্রহ মন্দির (১৮৬৪ খ্রিঃ নির্মিত) এবং কাপ্তাইয়ের নিকটবর্তী চিৎমরম সত্য গোঁঞাই বিগ্রহ মন্দির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কদল পুরের মহামুনি মন্দিরের প্রায় ১২ ফুট উঁচু বুদ্ধ মুর্তিতে পূজা দিতে এবং মহাবিষুব সংক্রান্তি উপলক্ষে মন্দির সংলগ্ন মেলাতে যোগ দিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকা হতেও হাজার হাজার বৌদ্ধ নর-নারীর আগমন হত।

এই মহামুনি মুর্তির প্রতিস্থাপনে জনৈক চাইঙ্গ ভিক্ষুর একান্ত প্রচেষ্ঠা এবং মং সার্কেলের পূর্ব পুরুষ ধনী প্রবর কুঞ্জ ধামাই এর (উখিয়া নিবাসী) অবদান সর্বাধিক।

কথিত আছে এই মুর্তি স্থাপনে কুঞ্জ ধামাই প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছিলেন। শাক্যমুনি বিগ্রহ মন্দির চাকমা প্রজাদের দাবীতে চাকমা রাণী কালিন্দীর অর্থানুগ্রহে ১৮৬৪ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত হয়।

তৎকালীন সময়ে মহামুনি ও শাক্যমুনি মন্দিরের পার্শ্ববর্তী দুটি ভিক্ষুসীমা নির্মিত হয়েছিল। তবে ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে চাকমা রজ্যের রাজধানী রাজা নগরে নির্মিত সুমঙ্গল রত্ন সীমাই” সর্বপ্রথম বিনয় সম্মত ভিক্ষুসীমা।

তৎসত্বেও, সারমেধ মহাস্থবিরের আগমন এবং প্রকৃত থেরবাদী বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার পরেও পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষত চাকমা বৌদ্ধদের নিকট প্রকৃত ধর্মের প্রচার ও প্রসার বিশেষ ঘটেনি।

তৎকালে চাকমা বৌদ্ধ ভিক্ষু প্রায় ছিল রাখাইন-মারমা ভিক্ষুরাই চাকমা গ্রামের বিহারে অবস্থান করে অন্ত্যেষ্ঠি ক্রিয়া, সপ্তাহিক ক্রিয়াদি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করিয়ে দিতেন।

সেই সময় পুদগলিক দান, সংঘ দান, কঠিন চীবর দান, গৃহের মাঙ্গলিক পরিত্রাণসূত্র শ্রবণ, পঞ্চশীল, অষ্টশীল পালন সমাজের অনুপস্থিত ছিল।

চাকমা রাজগুরু অগ্রবংশ মহাস্থবিরই (১৯১৩ খ্রিঃ -২০০৮ খ্রিঃ) এগুলি চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা বৌদ্ধ সমাজে প্রথম প্রবর্তন করেন। তিনি ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ের আহ্বানে বার্মা থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।

ইতিপূর্বে তিনি বার্মায় ত্রিপিটক শাস্ত্র অধ্যয়ন করে বৌদ্ধ ধর্মের বিবিধ বিষয়ে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে ফিরে এসে তিনি ধর্মীয় জাগরণে ও সংস্কারে মনোনিবেশ করেন।

বহু চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা যুবকদের তিনি ভিক্ষু ধর্মে দীক্ষা দেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের আনাচে-কানাচে তার শিষ্যদের ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দেন। বর্তমান পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের সভাপতি শ্রীমৎ তিলোকানন্দ মহাথের তাঁর দীক্ষিত শিষ্য।

তিনি শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে)-এর উপসম্পদা গুরু (আচারিয়)। তিনি পার্বত্য চট্টল ভিক্ষু সমিতি (যা পরবর্তী পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ) ও পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ প্রতিষ্ঠা ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

অশ্রবংশ মহাস্থবির বাংলা ও চাকমা ভাষাতেও বহু ধর্মীয় গ্রন্থ রচনা করেন। তার পরবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামে যারা বৌদ্ধ ধর্মে অবদান রেখেছেন তাঁদের মধ্যে শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে) আগ্রগন্য।

তিনি ধর্ম প্রচারে শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞা অর্থাৎ লোকোত্তর সাধনার উপর অধিক জোর দেন।

এক্ষেত্রে, শ্রদ্ধেয় জ্ঞানশ্রী মহাস্থবির এর কথাও সর্বাগ্রে স্মরণ করা দরকার। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ ধর্মের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ভিক্ষু বিনির্মানে অগ্রপথিক হিসাবে বিবেচিত হতে বাধ্য।

পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রসারে বিশেষত দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষাদানে তার অবদান পার্বত্য বৌদ্ধদের কাছে চির স্মরনীয় হয়ে থাকবে।

তিনি স্বনামখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মোনঘর”-এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রদ্ধেয় বিমলতিষ্য মহাস্থবির, শ্রদ্ধেয় প্রজ্ঞানন্দ মহাস্থবির ও শ্রদ্ধেয় শ্রদ্ধালংকার মহাস্থবিরের দীক্ষা গুরু।

শ্রদ্ধেয় উঃ পঞ্চঞা জোত মহাস্থবির (উ চালা ভান্তে) পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি লোকোত্তর ও লৌকিক উভয় বিষয়ে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

তথ্যসূত্রঃ

১। Chittagong Hill Tracts District Gazetteer, Dhaka, 1971.

২। Chittagong District Gazetteer, Dhaka, 1970.

৩। চট্টগ্রামের ইতিহাস; চৌধুরী পূর্ণচন্দ্র দেববর্ম্মা তত্ত্বনিধি, ঢাকা, ২০১১ ইং। …পৃঃ ৩৭

8। Taranatha’s history of Buddhism in India by Lama Chimpa and Aloka Chattopadhyaya, Delhi, 1990. …P-330

৫। পশ্চিম বঙ্গের বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতি, ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ স্থবির, কলিকাতা, ১৯৮৭।…পৃঃ ১৫

৬। The life of the Buddha; William Woodville Rockhill, Malaysia, 1987. …P-118

লেখক: শান্তি কুমার চাকমা

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

Jumjournal

Administrator

Follow Jumjournal

Leave a Reply