icon

ত্রিপুরা লোককাহিনী: মুরগি ও চালের পিঠা

Jumjournal

Last updated May 2nd, 2020 icon 250

এক মুরগি বাচ্চাদের নিয়ে বাস করত এক গ্রামে। একদিন বাচ্চারা তাকে বলল, তারা অনেক দিন ধরে পিঠা খায় না।

তো তারা পিঠা খেতে চায়। মুরগি বাচ্চাদের পিঠা খাওয়াতে রাজি হল।

পরদিন মুরগি বাজারে গেল। বাজার থেকে বাড়িতে নিয়ে এলো কাহাইল-ছিয়া। এগুলো রাখা হল উঠানে।

মুরগি কাহাইল-ছিয়া দিয়ে পিঠা বানানোর জন্য চাল গুড়ি করতে শুরু করল। চাল গুঁড়ি করার সময় মুরগি একটি গান গাইছিল।

এমন সময় পাশের বাড়ির বিড়াল তার উঠানে এলো। মুরগিকে গান গাইতে দেখে বিড়াল বলল, তোমাকে আজ খুব খুশি খুশি লাগছে? ব্যাপার কী?

মুরগি বলল, ‘আমি বাচ্চাদের জন্য পিঠা তৈরি করব, তাই চাল গুঁড়ি করছি।’
চাল গুড়ি করা শেষ হলে মুরগি পিঠা তৈরি করল।

পড়শি বিড়ালও ততক্ষণ তার বাড়িতেই থাকল। মুরগি বিড়ালকে কিছু পিঠা দিল। তারপর সে নিজের বাচ্চাদের পিঠা দিল।

বিড়াল পিঠা খেয়ে যাওয়ার সময় বলল, আমার ছানারা কখনো পিঠা খায়নি। তুমি যদি কিছু মনে না করো আমি ওদেরকে তোমার এখানে পাঠাব।

তুমি কি ওদের পিঠা খেতে দিবে?

মুরগি বিড়ালের এ প্রস্তাবে রাজি হল এবং বিড়ালকে বলল তার ছানাদের পাঠিয়ে দিতে। এরপর মুরগি কিছুক্ষণের জন্য বাইরে গেল।

মুরগি ফিরে এসে দেখল হাঁড়িতে আর একটি পিঠাও নেই। তার বাচ্চারা সব খেয়ে ফেলেছে।

তার মনে পড়ল সে বিড়াল ছানাদের পিঠা খাওয়াবে বলে কথা দিয়েছে। সে চিন্তায় পড়ে গেল। বন্ধুকে দেওয়া কথা রক্ষার জন্য সে আবার বাইরে গেল।

তারপর সে ছাগলের মল নিয়ে বাড়ি ফিরল। এগুলো সে একটা পাত্রের ভিতর রাখল।

বিড়াল ছানারা এলে মুরগি ওদের পিঠা বলে ছাগলের মল খেতে দিল।

বিড়াল ছানারা এর আগে কখনো পিঠা খায়নি। ওরা জানে না পিঠার স্বাদ কেমন।

কিন্তু বিড়ালের দেওয়া পিঠার স্বাদ ওদের পছন্দ হল না। এর স্বাদ ছিল খুবই তেতো আর দুর্গন্ধযুক্ত। তারা পিঠা খেয়ে বাড়ি ফিরল।

মা-বিড়াল ছানাদের জিজ্ঞেস করল পিঠার স্বাদ কেমন ছিল, মুরগি মাসি তাদের ঠিকমতো খাইয়েছে কিনা ইত্যাদি।

বিড়াল ছানারা বলল, ‘তারা পিঠা খেয়েছে। কিন্তু পিঠাগুলো খেতে তাদের ভালো লাগেনি।

পিঠাগুলো ছিল খুব তেতো স্বাদের আর দুর্গন্ধযুক্ত। দেখতে ছিল কালচে গোলাকৃতির।

মা-বিড়ালের সন্দেহ হল, মুরগি তার ছানাদের নিশ্চয় আসল পিঠা খেতে দেয়নি। নিশ্চয় তার ছানাদের নোংরা কিছু খেতে দিয়েছে।

সে ভীষণ রেগে গেল । সে মুরগিকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিল।

রাতে বিড়াল মুরগির বাড়ি গেল। মুরগির সঙ্গে এমন ভান করল যেন কিছুই হয়নি। বিড়াল বলল, তুমি রাতে কোথায় ঘুমাও।

মুরগির আশংকা হল, বিড়ালছানাদের নোংরা জিনিস খাওয়ানোর কারণে নিশ্চয় বিড়াল রাগ করেছে।

মুরগি বিড়ালকে বলল, ‘আমরা খুব গরিব, আমাদের ঘুমানোর কোনো আরামদায়ক জায়গা নেই। আমরা ধন্যার উপর ঘুমিয়ে রাত পার করি।

আর মুরগি বাচ্চাদের ডেকে বলল, “বিড়াল খুব রেগে আছে।

সে রাতে আমাদেরকে খেয়ে ফেলতে পারে। তোমরা ঘরের কোণে ড্রামের ভিতর লুকিয়ে পড়ো। সবাই চুপচাপ থাকবে, কেউ শব্দ করবে না।’

মধ্যরাতে বিড়াল মুরগির বাড়ি এলো। সে ছাদের নিচে ধন্যার মধ্যে মুরগি আর বাচ্চাদের খুঁজল।

সে সব জায়গায় খুঁজে দেখল কিন্তু কোথাও খুঁজে পেল না। বিড়াল আরো রেগে গেল। অবশেষে বিড়াল ঘরের কোণে একটা বড় ড্রাম দেখতে পেলে।

সে ড্রামের ভিতরে খুঁজে দেখার সিদ্ধান্ত নিল। সে এর মধ্য থেকে চিচি আওয়াজও শুনতে পেল।

বিড়াল বুঝতে পারল মুরগি বাচ্চাদের নিয়ে ড্রামের ভিতর লুকিয়ে আছে।

মুরগি বুঝতে পারল বাচ্চাদের নিয়ে বাঁচার আর কোনো উপায় নেই। মুরগি বলল, তুমি আমাদের খেতে পার।

কিন্তু তার আগে তুমি আমাদের রোস্ট বানাও, তারপর খাও। মুরগির রোস্ট খেতে খুবই মজাদার।

বিড়াল এই প্রস্তাবে রাজি হল। সে গেল চুলায় আগুন জ্বালাতে।

আগুন জ্বালানোর জন্য বিড়াল চুলায় ফু দিল। আর অমনি চুলার ছাই বিড়ালের চোখেমুখে ছড়িয়ে পড়ল।

বিড়াল চোখ খুলতে পারল না। মুখমণ্ডল ধুয়ে ছাই সরানোর জন্য বিড়াল পানির পাত্রের কাছে গেল এবং তাতে মুখ ডুবিয়ে দিল।

পাত্রের মধ্যে ছিল জিয়ল মাছ, যা মুরগি জিইয়ে রেখেছিল।

জিয়ল মাছ বিড়ালের মুখে কাঁটা ফুটিয়ে দিল। বিড়াল ব্যথায় কুঁকড়ে গেল। বাঁশের বেড়ার সঙ্গে সে মুখ ঘষতে লাগল।

বাঁশের চটার ধারে বিড়ালের মুখ আর শরীর কেটে গেল। বিড়াল মারাত্মক আহত হল এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মারা গেল।

এরপর মুরগি ও বাচ্চারা ড্রাম থেকে বেরিয়ে এলো। বিড়াল মরে গেল বলে তারা খুব খুশি হল। তারা নির্ভয়ে বসবাস করতে লাগল।

লেখক : আবু রেজা

ছবিটি এঁকেছেনঃ জওয়াং রাখাইন

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

Jumjournal

Administrator

Follow Jumjournal

Leave a Reply