Jumjournal Logo

পাহাড়ের লোককথা কে সংগ্রহ করেছিলেন: একচল্লিশটি নাম, দশটি বই

Last updated Oct 15th, 2026

0

Featured image

পাহাড়ের লোককথা মুখে মুখে চলে — কিন্তু যেগুলো আজ পড়া যায়, সেগুলো কেউ লিখে রেখেছিলেন। জুমজার্নালের আর্কাইভের ১২৫টি পাঠের ৮৬টিতে কোনো একজনের নাম ছাপা আছে — লেখক, কথক বা বর্ণনাকারী হিসেবে।

আর অন্তত দশটি সংকলন-গ্রন্থের নামও পাওয়া যায়, যেখান থেকে গল্পগুলো এসেছে।

এই পাতাটি সেই নামগুলোর তালিকা — কে কতটি গল্প দিয়েছেন, কোন বই থেকে কী এসেছে, আর কোন সংগ্রহে নাম নেই।

সূচিপত্র

৮৬টি পাঠে নাম আছে, ৩৯টিতে নেই

আর্কাইভের ১২৫টি পাঠের ৮৬টিতে কারও নাম ছাপা আছে — লেখক, কথক, বর্ণনাকারী বা রচয়িতা হিসেবে। বাকি ৩৯টিতে নেই।

অর্থাৎ অনুপাতে প্রতি তিনটির দুটিতে একটি নাম পাওয়া যায়। লোকসাহিত্যের সংকলনে এটি কম নয়।

আলাদা নামের সংখ্যা প্রায় একচল্লিশ। তার মধ্যে একজনের নামে সতেরোটি পাঠ, আর আটাশজনের নামে একটি করে।

আর উৎসের আরেকটি স্তরও আছে। ৩৬টি পাঠে “তথ্যসূত্র” শব্দটি স্পষ্ট লেখা, আর সেখানে প্রায় সব ক্ষেত্রেই একটি বইয়ের নাম।

দুটি স্তর সবসময় একসঙ্গে আসে না। কিছু পাঠে কেবল লেখকের নাম, কিছুতে কেবল বইয়ের নাম, আর কিছুতে দুটোই।

আর্কাইভের ১২৫টি গল্পের পূর্ণ সূচি, আকার ও মোটিফের গণনা আছে পাহাড়ের রূপকথার পূর্ণ সূচিতে।

জনগোষ্ঠী অনুযায়ী: কোথায় নাম আছে, কোথায় নেই

নাম থাকার হার জনগোষ্ঠী ভেদে অনেক আলাদা — কোনো সংগ্রহে শতভাগ, আর একটিতে দশ শতাংশ।

জনগোষ্ঠী নামযুক্ত / মোট
রাখাইন ৪ / ৪
খুমী ২ / ২
খাসিয়া ১ / ১
বম ১ / ১
মনিপুরী ১ / ১
গারো ৬ / ৭
মারমা ১৬ / ১৯
ম্রো ১০ / ১২
খেয়াং ৯ / ১১
ত্রিপুরা ২৬ / ৩৯
চাক ২ / ৩
তঞ্চঙ্গ্যা ৫ / ৮
সাঁওতাল ২ / ৫
চাকমা ১ / ১০
কলই ০ / ১
হালাম ০ / ১

ছকের উপরের পাঁচটি সারিতে হার শতভাগ, তবে সেগুলোর আকারও ছোট — এক থেকে চারটি পাঠ।

মাঝের সারিগুলোই বেশি অর্থবহ। মারমা ১৬/১৯, ম্রো ১০/১২ আর খেয়াং ৯/১১ — অর্থাৎ পাহাড়ের বড় সংগ্রহগুলোতে নাম থাকার অভ্যাসটি নিয়মিত।

আর সবচেয়ে বড় ব্যতিক্রম একেবারে নিচে: চাকমা সংগ্রহের দশটি পাঠের মাত্র একটিতে লেখকের নাম। নিচে আলাদা অংশে এর কারণ আছে।

শেষ দুটি সারিতে শূন্য — কলই ও হালাম, প্রতিটির একটি করে পাঠ, আর দুটোরই উৎস একটি বই: ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা।

দশটি সংকলন-গ্রন্থ

আর্কাইভের পাঠগুলোতে উৎস হিসেবে অন্তত দশটি বই বা প্রকাশনার নাম পাওয়া যায়, আর সেগুলোই এই সংগ্রহের কাঁচামালের তালিকা।

বই বা প্রকাশনা যত পাঠে উল্লিখিত
ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা ১৪
ত্রিপুরা আদিবাসী লোককাহিনী ১৩
লোককাহিনী ও কিংবদন্তি / কিংবদন্তী (ম্রো ও তঞ্চঙ্গ্যা সংকলনের শিরোনামের অংশ) ৭
ম্রো রূপকথা, লোককাহিনী ও কিংবদন্তি ৫
তঞ্চঙ্গ্যা রূপকথা লোককাহিনী ও কিংবদন্তী ৩
বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ান, চাকমা রুপকাহিনী (২০০০, রাঙামাত্যা) ৩
লুঙ্সা গ্রামের লোককথা ও অন্যান্য ২
মোনঘর আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়, বিদ্যালয় বার্ষিকী ২
সাওতাল রূপকথা ও সাওতাল লোককথা ২
আদিবাসী রূপকথা, হামিদুল হোসেন তারেক (বীরবিক্রম), রোদেলা প্রকাশনী ১

তালিকায় কেবল দুটি বইয়ের প্রকাশসন পাঠে দেওয়া আছে — বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ানের চাকমা রুপকাহিনী (২০০০) আর মহেন্দ্র লাল ত্রিপুরার উদ্ধৃত ত্রিপুরা লোককাহিনী ও কিংবদন্তি (২০১২ ইং)।

আর কেবল একটি বইয়ের প্রকাশকের নাম আছে — রোদেলা প্রকাশনী, আর সঙ্গে লেখকের নামও।

বাকি আটটি বইয়ের ক্ষেত্রে কেবল শিরোনামটিই আছে — লেখক, সম্পাদক, প্রকাশক, সন, কিছুই নেই।

[এই আটটি বইয়ের গ্রন্থপঞ্জি-তথ্য কোনো পঠিত উৎসে পাওয়া যায়নি — যাচাই প্রয়োজন]

ত্রিপুরার দুটি সংকলন: ২৭টি গল্পের উৎস

আর্কাইভের সবচেয়ে বড় একক উৎস দুটি বই, আর দুটোর নামই প্রায় একই — ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা (১৪টি পাঠে) আর ত্রিপুরা আদিবাসী লোককাহিনী (১৩টিতে)। মিলিয়ে সাতাশটি।

দুটি নামের ফারাক দুটি শব্দে — একটিতে “ত্রিপুরার” আর “লোককথা”, অন্যটিতে “ত্রিপুরা” আর “লোককাহিনী”।

[দুটি আলাদা বই, না একই বইয়ের দুই রকম উল্লেখ — তা কোনো পঠিত উৎসে স্পষ্ট নয়, যাচাই প্রয়োজন]

এই দুটি বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক তাদের বিস্তার। একটি বই থেকেই আর্কাইভে ছয়টি ভিন্ন জনগোষ্ঠীর গল্প এসেছে।

ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা থেকে যত পাঠ
চাকমা ৫
ত্রিপুরা ৪
মারমা ৩
কলই ১
হালাম ১

অর্থাৎ বইটির নামে “ত্রিপুরা” একটি ভূখণ্ড, জনগোষ্ঠী নয় — ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, যেখানে এই জনগোষ্ঠীগুলোরই বসবাস।

এর একটি বড় তাৎপর্য আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীগুলোর লোককথা আর্কাইভে এসেছে অনেকটাই সীমান্তের ওপারের একটি সংকলনের মধ্য দিয়ে — কারণ একই জনগোষ্ঠীর বসবাস দুই পাশেই।

আর দ্বিতীয় বইটির সঙ্গে একজন লেখকের নামও বারবার আসে — আবু রেজা, যাঁর নামে ত্রিপুরা সংগ্রহের সতেরোটি পাঠ।

যাঁরা সবচেয়ে বেশি গল্প দিয়েছেন

প্রায় একচল্লিশটি নামের মধ্যে কয়েকজনের নামে একাধিক পাঠ, আর একজনের নামে সতেরোটি।

নাম যত পাঠে কোন সংগ্রহে
আবু রেজা ১৭ ত্রিপুরা
ক্য সা মং খেয়াং ৪ খেয়াং (একটি গল্প তিন পোস্টে, আর একটি আলাদা)
শোভা ত্রিপুরা ৫ ত্রিপুরা (একটিতে “মিসেস শোভা ত্রিপুরা”)
উ খ্যাই রাখাইন ৩ রাখাইন
সিংইয়ং ম্রো / সিংইয়ং মুরুং / সিং ইয়ং মুরুং ৯ ম্রো — একই নাম তিন বানানে
তুমপিয় ম্রো ২ ম্রো
চেই থোয়াই প্রু খেয়াং ২ খেয়াং (একই গল্প দুই পোস্টে)
মং সিংজ্ঞা ২ মারমা (একই গল্প দুই পোস্টে)
মং সিং ঞো ২ মারমা
টহ-ওয়ে ২ মারমা
রবিন তঞ্চঙ্গ্যা ২ তঞ্চঙ্গ্যা
নন্দলাল শর্মা ২ সাঁওতাল
সঞ্জীব দ্রং ২ গারো ও খাসিয়া — “কর্তৃক বর্ণিত”
ধরণ সিং সাংমা ৪ গারো — “কথক”

তালিকাটি থেকে দুটি কথা বেরিয়ে আসে।

প্রথম — ত্রিপুরা সংগ্রহ একজনের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ৩৯টি পাঠের সতেরোটিই আবু রেজার নামে, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক। পাঠগুলোর দৈর্ঘ্য ও ভাষায়ও সেই একরূপতা দেখা যায়।

দ্বিতীয় — ম্রো সংগ্রহও একজনের উপর। বারোটির নয়টিই একই ব্যক্তির নামে, যদিও নামটি তিন বানানে — সিংইয়ং ম্রো, সিংইয়ং মুরুং আর সিং ইয়ং মুরুং।

একটি লক্ষণীয় নাম সঞ্জীব দ্রং, কারণ তাঁর দুটি পাঠ দুটি আলাদা জনগোষ্ঠীর — একটি গারো, একটি খাসিয়া। আর্কাইভে আর কারও নাম দুটি ভিন্ন জনগোষ্ঠীর পাঠে নেই।

আর দুটি নাম প্রায় একই — মংচাই শে ম্যা ও মং চাই শৈ ম্যা, দুটোই মারমা সংগ্রহে। [একই ব্যক্তি কি না তা নিশ্চিত করা যায়নি]

একচল্লিশটি নাম, এক জায়গায়

নিচে আর্কাইভের সব কৃতিত্ব-নাম এক জায়গায় — জনগোষ্ঠী অনুযায়ী সাজানো।

জনগোষ্ঠীর সংগ্রহ যাঁদের নাম পাঠে আছে
ত্রিপুরা আবু রেজা (১৭) · শোভা ত্রিপুরা (৫, একটিতে “মিসেস”) · মহেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (২) · সত্যহা পানজি · যগেশ্বর ত্রিপুরা (দশম শ্রেণী) · জাফর আহমদ হানাফী (বর্ণিত)
মারমা মং সিংজ্ঞা (২) · মং সিং ঞো (২) · টহ-ওয়ে (২) · চাই সুই হ্র · রূপশী নেওয়ার মণি · মং ক্য শশায়ে নু · মংচাই শে ম্যা · মং চাই শৈ ম্যা · মা উ চিং · পুলু প্রু · হ্লা থোয়াই চিং মারমা · মাসিঞো মারমা (সপ্তম শ্রেণী) · উ শৈ সিং
ম্রো সিংইয়ং ম্রো (৫) · সিংইয়ং মুরুং (২) · সিং ইয়ং মুরুং (২) · তুমপিয় ম্রো (২) · চামপয় ম্রো
খেয়াং ক্য সা মং খেয়াং (৪) · চেই থোয়াই প্রু খেয়াং (২) · টিং হাউ খেয়াং · চিং সা উ খেয়াং · অনুপম খিয়াং
তঞ্চঙ্গ্যা বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা · রবিন তঞ্চঙ্গ্যা (২) · লগ্ন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা · পারমিতা তঞ্চঙ্গ্যা (বর্ণিত)
গারো ধরণ সিং সাংমা (৪, কথক) · দিংবান মারাক রাকসাম (কথক) · সঞ্জীব দ্রং (বর্ণিত)
রাখাইন উ খ্যাই রাখাইন (৩) · ইউ কে রাখাইন
চাকমা বিধায়ক চাকমা (নবম শ্রেণী) · আলোময় চাকমা (২৮.০৬.২০১৭)
চাক চাই ছা অং চাক · পাই থুই চাক · মংড়ী চাক
খুমী প্রেমি খুমী · লোনাং খুমী
সাঁওতাল নন্দলাল শর্মা (২)
বম জির কুং সাহু
খাসিয়া সঞ্জীব দ্রং (বর্ণিত)
মনিপুরী রণজিৎ সিংহ (বর্ণিত)
কলই, হালাম — কোনো নাম নেই

তালিকাটি থেকে একটি কথা স্পষ্ট হয়। প্রায় প্রতিটি নামই নিজের জনগোষ্ঠীর — মারমা গল্পে মারমা নাম, ম্রো গল্পে ম্রো নাম, খেয়াং গল্পে খেয়াং নাম।

ব্যতিক্রম দুটি। সঞ্জীব দ্রং-এর নাম দুটি ভিন্ন জনগোষ্ঠীর পাঠে — গারো ও খাসিয়া। আর নন্দলাল শর্মা ও জাফর আহমদ হানাফী-র নাম যে সংগ্রহে আছে, তাঁদের নাম থেকে সেই জনগোষ্ঠীর পরিচয় বোঝা যায় না।

এর একটি অর্থ আছে। আর্কাইভের লোককথা মূলত নিজেদের লোকেরাই লিখেছেন — বাইরের গবেষকেরা নয়।

আর নামের বানানে অসংগতিও আছে, আর তা তালিকায় রাখা হয়েছে — মংচাই শে ম্যা ও মং চাই শৈ ম্যা, সিংইয়ং ম্রো-র তিন রূপ, উ খ্যাই রাখাইন ও ইউ কে রাখাইন, অনুপম খিয়াং (বাকি সব খেয়াং)।

[এই নামগুলোর কারও সম্পর্কে পরিচিতিমূলক তথ্য আর্কাইভে নেই — পেশা, বয়স, গ্রাম, কিছুই নয়]

চারটি শব্দ: লেখক, কথক, বর্ণিত, সংগ্রহে

আর্কাইভে কৃতিত্ব দেওয়ার জন্য চারটি আলাদা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, আর চারটির অর্থ এক নয় — লোকসাহিত্য সংগ্রহে এই ফারাকটি গুরুত্বপূর্ণ।

শব্দ যা বোঝায় যত পাঠে
লেখক যিনি লিখেছেন — সংগ্রাহক, পুনর্লেখক না মূল রচয়িতা, তা বলা নেই বহু পাঠে, সবচেয়ে বেশি
কথক যিনি গল্পটি বলেছেন — অর্থাৎ পাঠটি একটি মুখের বয়ানের প্রতিলিপি ৫ (সবই গারো)
কর্তৃক বর্ণিত যিনি গল্পটি বর্ণনা করেছেন ৫
সংগ্রহে যিনি সংগ্রহ করেছেন — আর্কাইভের গল্পে নয়, একটি বইয়ের তথ্যে ১ (রাধামন ধনপুদি পালা প্রসঙ্গে)

ফারাকটি ব্যবহারিক। “লেখক” শব্দটি অস্পষ্ট — তিনি মাঠে গিয়ে শুনে লিখেছেন, না কোনো বই থেকে নিয়েছেন, না নিজে রচনা করেছেন, তা জানা যায় না।

আর “কথক” ও “বর্ণিত” শব্দ দুটি স্পষ্ট — সেখানে ব্যক্তিটি বলেছেন, লেখেননি। অর্থাৎ পাঠের পেছনে একটি কণ্ঠ আছে।

এই দুটি শব্দ মিলিয়ে মাত্র দশটি পাঠ — ১২৫টির আটভাগের এক ভাগ। বাকি সব ক্ষেত্রে গল্পটি কার মুখ থেকে এসেছে তা জানা যায় না।

লোকসাহিত্যের দৃষ্টিতে এটিই সবচেয়ে বড় ফাঁক। একটি গল্প কোন গ্রামের, কোন বয়সের মানুষের মুখে, কোন বছরে শোনা — এই তিনটি তথ্য ছাড়া পাঠটিকে কোনো নির্দিষ্ট জায়গার সঙ্গে বাঁধা যায় না।

যে পাঁচটি পাঠে কথকের নাম ও গ্রাম

আর্কাইভের ১২৫টি পাঠের মাত্র পাঁচটিতে কথকের নাম এবং তাঁর স্থানের নাম দুটোই দেওয়া — আর পাঁচটিই গারো সংগ্রহের।

কথক স্থান কতটি পাঠ
ধরণ সিং সাংমা তুরা, গারো হিলস্ ৪ — নীরে-সিনজে, মিকখল, মাৎছা-দু-মাৎছা-বেৎ, ক্ষেত পাহারা
দিংবান মারাক রাকসাম গ্রাম: রংবিংগিরি, গারো হিলস্ ১ — সূৰ্য্য গ্রহণ

গারো সংগ্রহে মোট সাতটি পাঠ, তাই পাঁচটিতে কথকের নাম থাকার অর্থ এই একটিমাত্র সংগ্রহই মাঠ-সংগ্রহের নথি হিসেবে কাজ করে।

আর্কাইভের আর কোনো সংগ্রহে মাঠ-সংগ্রহের স্থান দেওয়া নেই।

এর মূল্য ব্যবহারিক। কেউ চাইলে গ্রামের নাম ধরে খোঁজ করতে পারেন, আর গল্পের অন্য রূপ আছে কি না যাচাই করতে পারেন।

একটি পাঠে কৃতিত্বের লাইনটি অবশ্য এলোমেলো — “লেখক: কথক ও ধরণ সিং সাংমা”, অর্থাৎ “লেখক” ও “কথক” দুটো শব্দ একসঙ্গে বসে গেছে। [মুদ্রণের ভুল কি না তা স্পষ্ট নয়]

গারো সংগ্রহের বাকি দুটি পাঠের একটিতে “সঞ্জীব দ্রং কর্তৃক বর্ণিত”, আর অন্যটিতে একটি বইয়ের নাম।

যে পাঁচটি পাঠে ‘কর্তৃক বর্ণিত’

পাঁচটি পাঠে কৃতিত্বের শব্দ “লেখক” নয় — “কর্তৃক বর্ণিত”। আর পাঁচটিই পাঁচটি আলাদা জনগোষ্ঠীর।

বর্ণনাকারী জনগোষ্ঠী গল্প
সঞ্জীব দ্রং খাসিয়া কুকুর ভক্ত মনিব
সঞ্জীব দ্রং গারো মানুষের বন্ধু বেজি
পারমিতা তঞ্চঙ্গ্যা তঞ্চঙ্গ্যা সুন্দরী কলাথোর কন্যা
জাফর আহমদ হানাফী ত্রিপুরা নিয়তির পরিহাস
রণজিৎ সিংহ মনিপুরী (মনিপুরী রূপকথা)

পাঁচটি পাঠের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে, আর তা আকারের। এগুলো সবই ছোট — তঞ্চঙ্গ্যা পাঠটি ৩৭৮ শব্দের, ত্রিপুরা পাঠটি ৩৯৪, আর গারো পাঠটি ৩৩৮।

এটি কাকতালীয় নয় বলেই মনে হয়। মুখে বলা গল্প লিখতে গেলে যা থাকে তা ঘটনার কাঠামো; বই থেকে তোলা পাঠে থাকে বিস্তারও।

তুলনার জন্য: তঞ্চঙ্গ্যা সুন্দরী কলাথোর কন্যা ৩৭৮ শব্দের, আর একই কাহিনির বই-ভিত্তিক রূপ কলাত্থুর কন্যা ১,৩৭৬ — প্রায় চার গুণ। দুটির তুলনা আছে কলাত্থুর কন্যা লেখায়।

আর সঞ্জীব দ্রং-এর দুটি পাঠ আলাদাভাবে লক্ষণীয়, কারণ তিনিই আর্কাইভের একমাত্র ব্যক্তি যাঁর নাম দুটি ভিন্ন জনগোষ্ঠীর গল্পে আছে।

স্কুলছাত্রদের লেখা চারটি গল্প

আর্কাইভে চারটি পাঠের লেখকের নামের সঙ্গে শ্রেণি বা স্কুলের নামও ছাপা আছে — অর্থাৎ গল্পগুলো স্কুলছাত্রদের লেখা।

লেখক শ্রেণি বা স্কুল জনগোষ্ঠী গল্প
বিধায়ক চাকমা নবম শ্রেণী চাকমা তিন পাখির গপ্পো
যগেশ্বর ত্রিপুরা দশম শ্রেণী, মোনঘর উচ্চ বিদ্যালয় ত্রিপুরা এক ভোলা জামাই
মাসিঞো মারমা সপ্তম শ্রেণী মারমা বিপদের রাজা
মংড়ী চাক বিদ্যালয় বার্ষিকী, ১৯৮৯-৯০, মোনঘর আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়, রাঙামাত্য চাক এক বুড়ো আর বুড়ি

শেষ সারিটি আলাদা, কারণ সেখানে একটি প্রকাশনার নাম ও সন দুটোই আছে — একটি স্কুল-বার্ষিকী, ১৯৮৯-৯০।

আর্কাইভে মোনঘর আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম দুটি পাঠে, আর দুটিই আলাদা জনগোষ্ঠীর — একটি চাক, একটি ত্রিপুরা।

এই চারটি পাঠ একটি সংগ্রহ-পদ্ধতির ইঙ্গিত দেয়। স্কুলের বার্ষিকী, শিক্ষার্থীদের লেখা, আর আবাসিক স্কুলের মতো একটি জায়গা যেখানে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী একসঙ্গে থাকে — এগুলোই লোককথা লিখিত রূপ পাওয়ার একটি পথ।

চারটির আকারও ছোট — ৩৬৭, ৬১০, ৬৬৭ আর ৫৭১ শব্দ।

[এই চারজন আজ কোথায় আছেন, কিংবা তাঁরা আরও লিখেছেন কি না, তা কোনো পঠিত উৎসে পাওয়া যায়নি]

চাকমা সংগ্রহের ব্যতিক্রম: বই আছে, লেখক নেই

আর্কাইভের সবচেয়ে বড় অসামঞ্জস্য চাকমা সংগ্রহে — দশটি পাঠের মাত্র একটিতে লেখকের নাম, অথচ উৎস-গ্রন্থের তথ্য অন্যদের চেয়ে বেশি স্পষ্ট।

কারণটি সংগ্রহের গঠনে। চাকমা দশটি পাঠের আটটি এসেছে বই থেকে — তিনটি বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ানের চাকমা রুপকাহিনী থেকে, আর পাঁচটি ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা থেকে।

আর বই থেকে এলে পাঠে বইয়ের নাম বসে, লেখকের নাম নয়।

তবু চাকমা সংগ্রহের উৎস-তথ্য আর্কাইভে সবচেয়ে সম্পূর্ণ, কারণ একটি বইয়ের ক্ষেত্রে লেখক, বইয়ের নাম, সন ও স্থান — চারটিই আছে: “বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ান, চাকমা রুপকাহিনী – ২০০০ ইং, রাঙামাত্যা (রাঙ্গামাটি)”।

আর্কাইভে আর কোনো বইয়ের ক্ষেত্রে এই চারটি তথ্য একসঙ্গে নেই।

বাকি দুটি চাকমা পাঠে ব্যক্তির নাম আছে — একটিতে বিধায়ক চাকমা (নবম শ্রেণী), আর একটিতে আলোময় চাকমা, ২৮.০৬.২০১৭, যা তারিখসহ একমাত্র কৃতিত্ব।

অর্থাৎ চাকমা সংগ্রহে নাম কম, কিন্তু নথি ভালো — আর সেটিই এই পাতার একটি কেন্দ্রীয় কথা: নামের সংখ্যা আর তথ্যের গুণ এক জিনিস নয়।

চাকমা দশটি গল্পের পূর্ণ সূচি আছে চাকমা রূপকথার সূচিতে।

যাঁরা ছবি এঁকেছেন

আর্কাইভে ২৮টি পাঠে “ছবি” শব্দটি আছে, আর কয়েকটিতে শিল্পীর নামও — আর নামগুলো একটি কৌতূহলজনক ধারা দেখায়।

শিল্পী যত পাঠে কোন জনগোষ্ঠীর গল্পে
সুরেশ চাকমা ৫ ত্রিপুরা, মারমা
তনময় / তন্ময় চাকমা ৪ ম্রো, ত্রিপুরা, মারমা, গারো
তৃপ্তা চাকমা ২ চাকমা
অমগদ চাকমা ১ (তিনটি ছবি) চাকমা
সাক্ষর চাকমা ১ ত্রিপুরা
জওয়াং রাখাইন ১ ত্রিপুরা
তোষন চাকমা ১ মারমা
Tripta Chakma (ইংরেজিতে) ১ মারমা

ধারাটি স্পষ্ট: ছবি এঁকেছেন প্রায় সবাই চাকমা শিল্পী, আর তাঁরা এঁকেছেন অন্য জনগোষ্ঠীর গল্পের ছবি।

কৃতিত্বের শব্দও এক নয় — “ছবি”, “চিত্রায়ন”, “ছবিটি এঁকেছেন”, আর একটিতে ইংরেজিতে “King of danger by Tripta Chakma”।

[শিল্পীরা জুমজার্নালের জন্যই এঁকেছেন, নাকি ছবিগুলো মূল বই থেকে এসেছে — তা কোনো পঠিত উৎসে স্পষ্ট নয়, যাচাই প্রয়োজন]

একটি পাঠে ছবির কৃতিত্ব একটি বইকে দেওয়া হয়েছে — তঞ্চঙ্গ্যা বাঘ ও শূকরের মিতালী-তে লেখা “ছবি: তঞ্চঙ্গ্যা রূপকথা লোককাহিনী ও কিংবদন্তী”, অর্থাৎ ছবিটিও উৎস-গ্রন্থ থেকেই।

আর একটি ছবির কৃতিত্বে একটি বিদেশি ওয়েবসাইটের নাম আছে — ম্রো রবখার সাংচিয়া-য়। অর্থাৎ কিছু ছবি স্টক-ছবি, আর সেটিও পাঠে লেখা।

যে ৩৯টি পাঠে কোনো নাম নেই

১২৫টি পাঠের ৩৯টিতে লেখক, কথক বা বর্ণনাকারী কারও নাম নেই। এগুলোর উৎস-তথ্য তাই সম্পূর্ণ নির্ভর করে বইয়ের নামের উপর।

এই ৩৯টির বড় অংশ দুটি জায়গায় জমা — ত্রিপুরা সংগ্রহের তেরোটি আর চাকমা সংগ্রহের নয়টি।

চাকমা নয়টির আটটিতে অন্তত বইয়ের নাম আছে, তাই সেগুলো সম্পূর্ণ অনামা নয়।

কিন্তু কিছু পাঠে কিছুই নেই — না লেখক, না কথক, না বই। সেই পাঠগুলোই সবচেয়ে ভঙ্গুর, কারণ তাদের সঙ্গে কোনো যাচাইযোগ্য সূত্র নেই।

একটি উদাহরণ গারো রূপকথা শিরোনামের পাঠটি, যেখানে উৎস হিসেবে একটি বই ও প্রকাশকের নাম আছে — আদিবাসী রূপকথা, হামিদুল হোসেন তারেক (বীরবিক্রম), রোদেলা প্রকাশনী। এটিই আর্কাইভের একমাত্র পাঠ যেখানে প্রকাশনীর নাম আছে।

আর কলই ও হালাম — দুটি জনগোষ্ঠীর একটি করে পাঠ, আর দুটোরই কেবল বইয়ের নাম।

পাঠকের জন্য এর একটি অর্থ আছে। আর্কাইভের কোনো গল্প উদ্ধৃত করতে হলে সবচেয়ে নিরাপদ সূত্র পাঠটির নিজের শেষ লাইন — আর সেখানে যা লেখা নেই, তা অন্য কোথাও খুঁজতে হবে।

যে বইটি হারিয়ে গেল

সংগ্রহের কাজ কতটা ভঙ্গুর, তার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ আর্কাইভের গল্পগুলোতে নয় — জুমজার্নালের একটি প্রবন্ধে।

ভারতের চাকমা ভাষা ও সাহিত্যের ক্রমবিকাশ লেখাটিতে বলা হয়েছে, ত্রিপুর চন্দ্র সেন গোজেন লামা প্রকাশের পাশাপাশি লক্ষীপালা নামে একটি ব্যালাডও প্রকাশ করেছিলেন।

কিন্তু লেখক তা দেখতে পাননি: “দুর্ভাগ্য বশত এই প্রকাশিত লক্ষী পালাটি দেখার বা সংগ্রহ করার সুযোগ হয়নি।”

আর তারপরের বাক্যগুলোতে কারণটি আছে, আর তা সম্পূর্ণ সাধারণ। গবেষক রমা প্রসাদ দত্ত (পল্টু দা) জীবিত থাকাকালে বলেছিলেন তাঁর পাঠাগারে গিয়ে জেরক্স করে আনতে — আর লেখকের নিজের ভাষায়, “আজ যাবো কাল যাবো করতে করতে” সেটি হয়নি।

একটি বই হারিয়ে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি এই এক বাক্যে — কেউ তা প্রকাশ করেছিলেন, কেউ সংগ্রহে রেখেছিলেন, কেউ নিতে বলেছিলেন, আর কেউ সময়মতো যায়নি।

এই পাতার তালিকাগুলো পড়ার সময় এই কথাটি মনে রাখা দরকার। আর্কাইভে যে একচল্লিশটি নাম আর দশটি বইয়ের নাম পাওয়া যায়, সেগুলো টিকে যাওয়া অংশ — আর যা হারিয়ে গেছে তার কোনো হিসাব নেই।

গোজেন লামা, তার সংস্করণ ও লক্ষীপালার গল্প নিয়ে আলাদা লেখা আছে গোজেন লামা: শিবচরণের ঈশ্বর নামা-য়।

সংগ্রহের কালক্রম: চার মাসে চুরাশিটি

আর্কাইভের গল্পগুলো কখন প্রকাশিত হয়েছিল, সেই হিসাবটিও সংগ্রহের ধরন সম্পর্কে একটি কথা বলে।

বছর কতটি গল্প
২০১৭ ১২
২০১৯ ১
২০২০ ৯২
২০২১ ২০

আর ২০২০ সালের ভেতরেও কাজটি ছড়ানো ছিল না — জানুয়ারিতে ৩০টি, মার্চে ২২টি আর এপ্রিলে ২৪টি, অর্থাৎ বছরের প্রথম চার মাসেই ৮৪টি। বাকি আট মাসে আটটি।

এই ধরনটি একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যার দিকে নিয়ে যায়। এতগুলো গল্প এত অল্প সময়ে প্রকাশিত হওয়ার সহজ ব্যাখ্যা হলো, সেগুলো মাঠ থেকে একটি একটি করে আসেনি — বই থেকে একসঙ্গে এসেছে।

খেয়াং সংগ্রহের এগারোটি পাঠের সবই ২০২০ সালের, আর সেগুলোর আকারও ছোট ও একরকম — যা একই সংকলন থেকে একসঙ্গে অনুবাদ করার সঙ্গে মেলে।

আর সর্বশেষ গল্পটি যোগ হয়েছিল ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১-এ। তারপর নতুন কোনো পাঠ প্রকাশিত হয়নি।

অর্থাৎ সংগ্রহটি এখন স্থির, আর এই পাতার সব সংখ্যাও সেই স্থির অবস্থার হিসাব।

[গল্পগুলো কখন সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা কোনো পাঠে নেই — উপরের সন কেবল প্রকাশের]

নকল পোস্ট: সংগ্রহের একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

আর্কাইভে পাঁচটি গল্প একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে — চারটি দু’বার, আর একটি তিনবার। মোট এগারোটি পোস্টে আসলে পাঁচটি গল্প।

গল্প জনগোষ্ঠী কত পোস্টে লেখক
ঘুঘু পাখির গল্প (কংখোনূপঃ খুই) খেয়াং ৩ ক্য সা মং খেয়াং
চোংক্লং পোচোং গুম খুই (তিন যুবকের গল্প) খেয়াং ২ চেই থোয়াই প্রু খেয়াং
জেলে ও বোয়ালমাছ ত্রিপুরা ২ শোভা ত্রিপুরা
ঠকের গল্প মারমা ২ মং সিংজ্ঞা
চাফির সাংচিয়া (যমজ ভাই-এর গল্প) ম্রো ২ সিংইয়ং মুরুং

প্রতিটি দলে পাঠের মিল ৯৮.৫ শতাংশের বেশি, আর তিনটিতে কার্যত শতভাগ। যে সামান্য ফারাক আছে তা কাহিনির নয় — বানান ও যুক্তাক্ষরের।

পাঁচটির চারটিতে লেবেল বদলেছে — একবার “রূপকথা”, একবার “লোককাহিনী”। আর একটিতে শিরোনাম ও লেবেল দুটোই হুবহু এক।

এই পাঁচটি জোড়া একটি সংগ্রহ-প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়। যদি গল্পগুলো একাধিক ব্যক্তি বা একাধিক পর্যায়ে একই বই থেকে তোলা হয়, তবে একই গল্প দু’বার ওঠা স্বাভাবিক।

আর খেয়াং সংগ্রহে দুটিই — অর্থাৎ আর্কাইভের পাঁচটি নকল-দলের দুটিই একটি সংগ্রহে। সেই সংগ্রহের এগারোটি পোস্টে আসলে আটটি আলাদা গল্প।

লক্ষণীয়, পাঁচটি দলেরই লেখকের নাম আছে, আর প্রতিবার একই নাম। অর্থাৎ ভুলটি কৃতিত্বের নয়, প্রকাশনার।

[কোন পোস্টটি রাখা উচিত আর কোনটি নয়, সেই সিদ্ধান্ত সম্পাদকের — এই পাতায় কেবল সংখ্যা দেওয়া হলো]

সংগ্রাহকের কাজ কী ছিল

আর্কাইভের পাঠগুলো থেকে সংগ্রাহকদের কাজের ধরনও কিছুটা বোঝা যায় — কারণ তাঁদের সিদ্ধান্তগুলো পাঠে রয়ে গেছে।

এক — মূল ভাষার শব্দ রাখা। বহু পাঠে মূল শব্দ বদলে বাংলা শব্দ বসানো হয়নি; শব্দটি রেখে পাশে বা নিচে বাংলা অর্থ দেওয়া হয়েছে। চাকমা তাগল্‌ (দা), ম্রো পাকচারুয়া (এক প্রকার বন্য জন্তু), খেয়াং আলুইপ (মোরগ), গারো নকফাস্থে (গ্রামের যুবকদের বসবাসের গৃহ)।

দুই — পাদটীকা দেওয়া। বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ানের সংকলন থেকে আসা তিনটি পাঠে নম্বর দিয়ে পাদটীকা আছে, যেখানে অচেনা বস্তু বা পাখির ব্যাখ্যা — যেমন রংরাং পাখির বর্ণনা, শেষে ইংরেজিতে “King hornfil”।

তিন — শব্দকোষ জুড়ে দেওয়া। তঞ্চঙ্গ্যা দুটি পাঠের একেবারে শেষে চার-পাঁচটি শব্দের টীকা আছে — পিনন, খাদি, তেল্যাকলা, কলাত্থুর; আর অন্যটিতে পচ্ছন, চিজি, গুলা।

চার — মূল ভাষার সংলাপ রাখা। ত্রিপুরা পরি বিবি চিনিন-এ চৌদ্দ জায়গায় সংলাপ ত্রিপুরা ভাষায়, আর প্রতিটির পাশে বন্ধনীতে বাংলা অনুবাদ। আর ম্রো তাকুই হন তালিপ-এ একটি ছড়া হুবহু রাখা হয়েছে, আর তার অর্থ গল্পের ভেতরেই একটি চরিত্রের মুখ দিয়ে বলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পাঁচ — অসম্পূর্ণতা স্বীকার করা। মারমা ফৌহ পাঠের শেষে লেখক নিজেই লিখেছেন, এই কাহিনিগুলো গ্রামে মুখে মুখে প্রচলিত, আর “অনুসন্ধান করা হলে অনেক কাহিনী জানা যাবে”।

এই পাঁচটি অভ্যাসই দেখায়, কাজটি নিছক অনুবাদ ছিল না — সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল কোন শব্দ রাখা হবে, কোথায় ব্যাখ্যা দেওয়া হবে, আর কতটুকু বলা হবে যে এখনো বাকি আছে।

আর্কাইভের ১২৫টি গল্পের পূর্ণ সূচি ও প্রতিটি জনগোষ্ঠীর আলাদা তালিকা আছে পাহাড়ের রূপকথার পূর্ণ সূচিতে।

একটি গল্পের পথ: মুখ থেকে আর্কাইভ পর্যন্ত

আর্কাইভের একটি গল্পের পেছনে কতগুলো হাত থাকতে পারে — তা একটি উদাহরণে দেখা যায়। চাকমা হঅ্’বি আর ধঅ্’বি, ৫,৩৫৭ শব্দ, আর্কাইভের তৃতীয় দীর্ঘতম পাঠ।

পাঠটির শেষ লাইন থেকে ধাপগুলো ধরে ধরে তোলা যায়:

ধাপ কে বা কী প্রমাণ
১ কথক — কারও মুখ পাঠে নাম নেই
২ সংকলক বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ান পাঠের শেষে নাম
৩ বই চাকমা রুপকাহিনী, ২০০০ ইং, রাঙামাত্যা পাঠের শেষে বই, সন ও স্থান
৪ পাদটীকা-লেখক — অচেনা শব্দের ব্যাখ্যা পাঠে নম্বরযুক্ত দুটি টীকা
৫ শিল্পী তৃপ্তা চাকমা ছবির ক্যাপশনে “আর্টঃ তৃপ্তা চাকমা”
৬ জুমজার্নালে প্রকাশ পোস্টের তারিখ

ছয়টি ধাপের পাঁচটিতে প্রমাণ আছে, আর প্রথমটিতে নেই — যাঁর মুখ থেকে গল্পটি এসেছিল, তাঁর নাম কোথাও লেখা নেই।

এই ফাঁকটি আর্কাইভে প্রায় সর্বজনীন। ১২৫টি পাঠের মাত্র দশটিতে “কথক” বা “বর্ণিত” শব্দ আছে — বাকি ১১৫টিতে প্রথম ধাপটি অনামা।

তুলনার জন্য আরেকটি পথ দেখা যায়, আর তা আর্কাইভের গল্প নয় — একটি বইয়ের। জুমজার্নালের একটি প্রবন্ধ অনুযায়ী গোজেন লামা-র পথটি এরকম: কবি শিবচরণ অন্তর্ধানের আগে বন্ধুদের হাতে পাঠ তুলে দেন → পাঠ যায় মাধব মাস্টার কর্মীর আত্মীয়দের হাতে → সেখান থেকে ত্রিপুর চন্দ্র সেন সংগ্রহ করে ১৯৬৯-এ প্রকাশ করেন → পরে ২০০৪-এ সুগত চাকমার সম্পাদনায় আরেকটি সংস্করণ।

চারটি হাতবদল, আর প্রতিটিরই নাম জানা। অর্থাৎ নথিভুক্তি সম্ভব — কেবল আর্কাইভের গল্পগুলোর ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।

আর তৃতীয় একটি পথও আছে, যা সবচেয়ে ছোট। গারো সূৰ্য্য গ্রহণ-এর ক্ষেত্রে ধাপ দুটি — কথক দিংবান মারাক রাকসাম, গ্রাম রংবিংগিরি → জুমজার্নালে প্রকাশ।

কোনো বই নেই, কোনো মধ্যস্থতা নেই। আর সেজন্যই এই একটি পাঠই আর্কাইভে সবচেয়ে ভালোভাবে নথিভুক্ত — যদিও তার দৈর্ঘ্য মাত্র ১,০৬৮ শব্দ।

তিনটি পথ পাশাপাশি রাখলে একটি সরল কথা দাঁড়ায়: গল্পটি যত কম হাত ঘুরেছে, তার সূত্র তত স্পষ্ট।

এই তালিকা থেকে যা শেখা যায়

আর্কাইভের কৃতিত্ব-লাইনগুলো একসঙ্গে পড়লে পাহাড়ের লোককথা সংগ্রহের একটি ছবি তৈরি হয়, আর সেই ছবিতে চারটি জিনিস স্পষ্ট।

এক — কাজটি নিজেদের। প্রায় প্রতিটি নামই নিজের জনগোষ্ঠীর, আর বাইরের গবেষকের নাম প্রায় নেই। লোককথা লিখে রাখার কাজটি করেছেন সেই সমাজের মানুষই।

দুই — কাজটি ছড়ানো, কেন্দ্রীভূত নয়। একচল্লিশটি নামের মধ্যে আটাশজনের নামে একটি করে পাঠ। অর্থাৎ বড় কোনো প্রকল্প নয় — অনেক মানুষের অল্প অল্প অবদান।

তিন — বইয়ের ভূমিকা বড়। ৩৬টি পাঠে একটি বইয়ের নাম আছে, আর দুটি বই থেকেই এসেছে সাতাশটি গল্প। মুখ থেকে কাগজে আসার ধাপটি অনেক ক্ষেত্রেই আর্কাইভের বাইরে ঘটেছে।

চার — নথির মান অসম। একটি সংগ্রহে কথকের নাম ও গ্রাম দুটোই আছে, আর আরেকটিতে কিছুই নেই। আর্কাইভ সেই অসমতাই বহন করে, কারণ তা তৈরি হয়েছে আলাদা আলাদা উৎস থেকে।

আর একটি কথা তালিকার বাইরের। কোনো পাঠেই লেখা নেই গল্পটি কোন বছরে, কোন গ্রামে, কার মুখ থেকে শোনা হয়েছিল — গারো পাঁচটি পাঠ ছাড়া, আর সেখানেও বছর নেই।

সেজন্যই এই পাতার তালিকাগুলো একটি সম্পূর্ণ গ্রন্থপঞ্জি নয়। এগুলো কেবল আর্কাইভের পাঠে যা ছাপা আছে, তার হিসাব — আর সেই হিসাবটিই এতদিন এক জায়গায় ছিল না।

যে কাজটি বাকি

এই পাতার তালিকাগুলো থেকেই পরের কাজের একটি তালিকা তৈরি হয়ে যায়, আর তা তিনটি ধাপের।

এক — দশটি বইয়ের গ্রন্থপঞ্জি। দশটির মাত্র দুটির সন আছে, আর একটির প্রকাশক। বাকিগুলোর লেখক, সম্পাদক, প্রকাশক ও সন — কিছুই নেই। একটি লাইব্রেরি-ক্যাটালগ বা একটি বইয়ের মুদ্রণ-পৃষ্ঠা দেখলেই এই ফাঁকটি ভরে যায়।

দুই — দুটি ত্রিপুরা সংকলনের পরিচয়। সাতাশটি গল্পের উৎস এই দুটি বই, অথচ তারা একই বই কি না তাও জানা নেই। আর্কাইভের একক বৃহত্তম উৎস সম্পর্কে এটিই সবচেয়ে বড় অজানা।

তিন — “লেখক”-দের ভূমিকা। যাঁদের নামে একাধিক পাঠ — আবু রেজা সতেরোটি, সিংইয়ং ম্রো নয়টি — তাঁরা সংগ্রাহক, অনুবাদক না পুনর্লেখক, সেটি জানা গেলে আর্কাইভের অর্ধেকের বেশি পাঠের মান একসঙ্গে স্পষ্ট হয়ে যায়।

আর একটি কাজ এমন, যা আর কখনো করা যাবে না। ১১৫টি পাঠের কথকের নাম — সেগুলো তখন লেখা হয়নি, আর এখন লেখা সম্ভবও নয়।

সেজন্যই গারো সংগ্রহের পাঁচটি পাঠ আলাদা মূল্য বহন করে। দুটি নাম আর দুটি জায়গা — ধরণ সিং সাংমা (তুরা) আর দিংবান মারাক রাকসাম (রংবিংগিরি) — আর্কাইভে এটুকুই মাঠের সঙ্গে সরাসরি যোগ।

আর্কাইভের বাইরে: যেখানে সংগ্রাহকের নাম আছে

মৌখিক সাহিত্য সংগ্রহ করে নাম নথিভুক্ত করার একটি উদাহরণ চাকমা প্রকাশনায় আছে, আর সেখানে সংগ্রাহক ও সম্পাদক দুজনের নামই আলাদা করে দেওয়া।

ভারতের চাকমা ভাষা ও সাহিত্যের ক্রমবিকাশ লেখাটিতে রাধামন ধনপুদি পালার একটি সংস্করণের তথ্য এভাবে দেওয়া — “‘রাধামন ধনপুদি পালা’ সম্পদনায় ভবন্ত্ত বিকাশ চাকমা, সংগ্রহে ইন্দুমাধব চাকমা।”

ভূমিকা নাম
সম্পাদনায় ভবন্ত্ত বিকাশ চাকমা
সংগ্রহে ইন্দুমাধব চাকমা
যে গেংখুলির কাছ থেকে সংগৃহীত উৎসে নাম নেই

এই তিনটি সারি এই পাতার মূল প্রশ্নটিকে সরাসরি স্পর্শ করে। দুটি ভূমিকার নাম টিকেছে, আর যাঁর গলা থেকে পাঠটি এসেছিল তাঁর নাম টেকেনি।

অর্থাৎ ধরনটি আর্কাইভের একক সমস্যা নয়। সংগ্রাহক ও সম্পাদকের নাম নথিভুক্ত হয়, পরিবেশক বা কথকের নাম প্রায়ই হয় না — আর এটি এই অঞ্চলের প্রকাশনায় একটি সাধারণ ধরন।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যও আছে, আর তা আর্কাইভের পক্ষে নয়।

ওই সংস্করণে অন্তত “সংগ্রহে” শব্দটি আছে — অর্থাৎ পাঠটি কেউ সংগ্রহ করেছিলেন, সেটি স্পষ্ট করা হয়েছে। আর্কাইভের ৩৯টি পাঠে কোনো শব্দই নেই: না লেখক, না সংগ্রাহক, না কথক।

অর্থাৎ ওই প্রকাশনায় একটি স্তর হারিয়েছে, আর আর্কাইভের ওই ৩৯টি পাঠে দুটি।

একই লেখায় আরেকটি হারানো সংগ্রহের কথাও আছে, যা এই পাতার “যে বইটি হারিয়ে গেল” অংশে বিস্তারিত — ত্রিপুর চন্দ্র সেনের প্রকাশিত লক্ষীপালা, যা লেখক দেখতেই পাননি।

দুটি উদাহরণ একসঙ্গে রাখলে একটি ক্রম দেখা যায়, আর তা ক্ষতির ক্রম।

প্রথমে হারায় কথকের নাম। তারপর হারায় সংগ্রাহকের নাম। তারপর হারায় বইটি নিজেই।

আর শেষ ধাপে হারায় পাঠটি — কারণ মৌখিক ঐতিহ্যে কোনো অনুলিপি থাকে না।

[ইন্দুমাধব চাকমা কোথায়, কখন বা কার কাছ থেকে পালাটি সংগ্রহ করেছিলেন, তা কোনো পঠিত উৎসে পাওয়া যায়নি — যাচাই প্রয়োজন]

[এই সংস্করণটির প্রকাশসাল ও প্রকাশকের নামও উৎসে দেওয়া হয়নি]

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আর্কাইভের কতটি গল্পে সংগ্রাহক বা লেখকের নাম আছে?

১২৫টি পাঠের ৮৬টিতে — অর্থাৎ প্রতি তিনটির দুটিতে। আলাদা নামের সংখ্যা প্রায় একচল্লিশ। বাকি ৩৯টি পাঠে কোনো ব্যক্তির নাম নেই, যদিও তার অনেকগুলোতে উৎস-গ্রন্থের নাম আছে।

কে সবচেয়ে বেশি গল্প দিয়েছেন?

আবু রেজা — ত্রিপুরা সংগ্রহের সতেরোটি পাঠে তাঁর নাম, অর্থাৎ সেই সংগ্রহের প্রায় অর্ধেক। এরপর ম্রো সংগ্রহে একই ব্যক্তির নাম নয়টি পাঠে, তিন বানানে — সিংইয়ং ম্রো, সিংইয়ং মুরুং আর সিং ইয়ং মুরুং।

আর্কাইভের গল্পগুলো কোন বই থেকে এসেছে?

অন্তত দশটি বই বা প্রকাশনার নাম পাওয়া যায়। সবচেয়ে বেশি দুটি — ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা (১৪টি পাঠে) আর ত্রিপুরা আদিবাসী লোককাহিনী (১৩টিতে)। এরপর ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকমা সংকলন, লুঙ্সা গ্রামের লোককথা, মোনঘর স্কুলের বার্ষিকী আর দুটি সাঁওতাল সংকলন।

একটি বই থেকে কত জনগোষ্ঠীর গল্প এসেছে?

ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা থেকেই পাঁচটি জনগোষ্ঠীর গল্প — চাকমা ৫, ত্রিপুরা ৪, মারমা ৩, কলই ১ আর হালাম ১। বইটির নামে “ত্রিপুরা” একটি ভূখণ্ড, জনগোষ্ঠী নয়; ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে এই জনগোষ্ঠীগুলোরই বসবাস আছে।

কোন সংগ্রহে সবচেয়ে বেশি নাম আছে?

শতভাগ হারে রাখাইন (৪/৪), খুমী (২/২), খাসিয়া, বম ও মনিপুরী (১/১ করে)। বড় সংগ্রহগুলোর মধ্যে মারমা ১৬/১৯, ম্রো ১০/১২ আর খেয়াং ৯/১১। সবচেয়ে কম চাকমা — ১০টির মাত্র ১টিতে।

চাকমা সংগ্রহে লেখকের নাম কম কেন?

কারণ দশটি পাঠের আটটি এসেছে বই থেকে — তিনটি বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ানের চাকমা রুপকাহিনী থেকে আর পাঁচটি ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা থেকে। বই থেকে এলে পাঠে বইয়ের নাম বসে, লেখকের নাম নয়। তবু চাকমা সংগ্রহের উৎস-তথ্যই আর্কাইভে সবচেয়ে সম্পূর্ণ।

কোন বইয়ের তথ্য সবচেয়ে সম্পূর্ণ?

বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ানের চাকমা রুপকাহিনী। পাঠে লেখক, বইয়ের নাম, সন ও স্থান — চারটিই আছে: “বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ান, চাকমা রুপকাহিনী – ২০০০ ইং, রাঙামাত্যা (রাঙ্গামাটি)”। আর্কাইভে আর কোনো বইয়ের ক্ষেত্রে এই চারটি তথ্য একসঙ্গে নেই।

“লেখক” আর “কথক” শব্দের ফারাক কী?

“লেখক” শব্দটি অস্পষ্ট — তিনি মাঠে শুনে লিখেছেন, বই থেকে নিয়েছেন, না নিজে রচনা করেছেন, তা জানা যায় না। “কথক” ও “কর্তৃক বর্ণিত” শব্দ দুটি স্পষ্ট — সেখানে ব্যক্তিটি গল্পটি বলেছেন, লেখেননি। এই দুটি শব্দ মিলিয়ে মাত্র দশটি পাঠে আছে।

কোন পাঠে কথকের নাম ও গ্রামের নাম দুটোই আছে?

পাঁচটিতে, আর পাঁচটিই গারো সংগ্রহের। ধরণ সিং সাংমা (তুরা, গারো হিলস্) চারটি পাঠের কথক, আর দিংবান মারাক রাকসাম (গ্রাম: রংবিংগিরি, গারো হিলস্) একটির। আর্কাইভের আর কোনো সংগ্রহে মাঠ-সংগ্রহের স্থান দেওয়া নেই।

“কর্তৃক বর্ণিত” কোন পাঠগুলোতে?

পাঁচটিতে, আর পাঁচটিই আলাদা জনগোষ্ঠীর — সঞ্জীব দ্রং (খাসিয়া ও গারো), পারমিতা তঞ্চঙ্গ্যা (তঞ্চঙ্গ্যা), জাফর আহমদ হানাফী (ত্রিপুরা) আর রণজিৎ সিংহ (মনিপুরী)। পাঁচটিই ছোট আকারের পাঠ।

কোনো স্কুলছাত্রের লেখা গল্প আছে?

চারটি, আর চারটিতেই শ্রেণি বা স্কুলের নাম ছাপা — বিধায়ক চাকমা (নবম শ্রেণী), যগেশ্বর ত্রিপুরা (দশম শ্রেণী, মোনঘর উচ্চ বিদ্যালয়), মাসিঞো মারমা (সপ্তম শ্রেণী) আর মংড়ী চাক (মোনঘর আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যালয় বার্ষিকী, ১৯৮৯-৯০)।

গল্পের ছবি কারা এঁকেছেন?

সুরেশ চাকমা পাঁচটি পাঠে, তনময় চাকমা চারটিতে, তৃপ্তা চাকমা দুটিতে, আর অমগদ চাকমা, সাক্ষর চাকমা, জওয়াং রাখাইন ও তোষন চাকমা একটি করে। ধারাটি স্পষ্ট — ছবি এঁকেছেন প্রায় সবাই চাকমা শিল্পী, আর অন্য জনগোষ্ঠীর গল্পের ছবি।

সংগ্রাহকেরা কী কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?

পাঁচ রকম সিদ্ধান্ত পাঠে রয়ে গেছে — মূল ভাষার শব্দ রেখে পাশে বাংলা অর্থ দেওয়া, নম্বর দিয়ে পাদটীকা, পাঠের শেষে শব্দকোষ জোড়া, মূল ভাষার সংলাপ হুবহু রাখা, আর সংগ্রহ অসম্পূর্ণ বলে স্বীকার করা।

কোনো পাঠে প্রকাশকের নাম আছে?

একটিতে — গারো একটি পাঠে উৎস হিসেবে লেখা আদিবাসী রূপকথা, হামিদুল হোসেন তারেক (বীরবিক্রম), রোদেলা প্রকাশনী। আর্কাইভের আর কোনো পাঠে প্রকাশনীর নাম নেই।

আর্কাইভে কোনো গল্প একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে?

পাঁচটি — চারটি দু’বার আর একটি তিনবার, মোট এগারোটি পোস্টে। প্রতিটি দলে পাঠের মিল ৯৮.৫ শতাংশের বেশি। পাঁচটি দলেরই লেখকের নাম আছে আর প্রতিবার একই নাম, তাই ভুলটি কৃতিত্বের নয় — প্রকাশনার।

গল্পগুলো কখন প্রকাশিত হয়েছিল?

২০১৭-তে ১২টি, ২০১৯-এ ১টি, ২০২০-তে ৯২টি আর ২০২১-এ ২০টি। ২০২০ সালের প্রথম চার মাসেই ৮৪টি — জানুয়ারিতে ৩০, মার্চে ২২, এপ্রিলে ২৪। সর্বশেষ গল্পটি যোগ হয় ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১-এ। সংগ্রহের সন কোনো পাঠে নেই; এগুলো কেবল প্রকাশের সন।

কোনো সংগৃহীত বই কি হারিয়ে গেছে?

জুমজার্নালের একটি প্রবন্ধে তেমন একটির কথা আছে — ত্রিপুর চন্দ্র সেনের প্রকাশিত লক্ষীপালা। লেখক লিখেছেন, “দুর্ভাগ্য বশত এই প্রকাশিত লক্ষী পালাটি দেখার বা সংগ্রহ করার সুযোগ হয়নি।” গবেষক রমা প্রসাদ দত্ত জীবিত থাকাকালে তাঁর পাঠাগার থেকে জেরক্স করে আনতে বলেছিলেন, কিন্তু “আজ যাবো কাল যাবো করতে করতে” তা হয়নি।

আর্কাইভের বাইরে কোনো সংগ্রাহকের নাম কি নথিভুক্ত আছে?

আছে। আর্কাইভের একটি লেখায় রাধামন ধনপুদি পালার একটি সংস্করণের তথ্য দেওয়া — সম্পাদনায় ভবন্ত্ত বিকাশ চাকমা, সংগ্রহে ইন্দুমাধব চাকমা। তবে যে গেংখুলির কাছ থেকে পাঠটি সংগৃহীত, তাঁর নাম সেখানেও নেই।

কথকের নাম না থাকাটা কি শুধু এই আর্কাইভেরই সমস্যা?

না। চাকমা প্রকাশনার একটি উদাহরণেও সংগ্রাহক ও সম্পাদকের নাম আছে, কিন্তু পরিবেশকের নাম নেই। তবে একটি পার্থক্য আছে — সেখানে অন্তত “সংগ্রহে” শব্দটি আছে, অর্থাৎ পাঠটি সংগৃহীত তা স্পষ্ট। আর্কাইভের ৩৯টি পাঠে কোনো শব্দই নেই।

যা এখনো জানা যায়নি

  • আটটি বইয়ের গ্রন্থপঞ্জি — দশটি সংকলনের মাত্র দুটির সন আছে, আর একটির প্রকাশক; বাকিগুলোর কিছুই নেই।
  • দুটি ত্রিপুরা সংকলনের সম্পর্ক — ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা ও ত্রিপুরা আদিবাসী লোককাহিনী আলাদা দুটি বই কি না, তা কোনো পঠিত উৎসে স্পষ্ট নয়।
  • “লেখক”-দের ভূমিকা — তাঁরা সংগ্রাহক, অনুবাদক, পুনর্লেখক না মূল রচয়িতা — কোনো পাঠে বলা নেই।
  • ১১৫টি পাঠের কথক — মাত্র দশটিতে “কথক” বা “বর্ণিত” শব্দ আছে; বাকিগুলোতে গল্পটি কার মুখ থেকে এসেছে তা নেই।
  • মাঠ-সংগ্রহের সময় ও স্থান — গারো পাঁচটি পাঠ ছাড়া কোনোটিতেই গ্রামের নাম নেই, আর কোনোটিতেই সংগ্রহের বছর নেই।
  • অনুবাদকের নাম — খেয়াং, চাক, খুমী ও ম্রো পাঠগুলোর শিরোনাম মূল ভাষায় আর শরীর বাংলায়; অনুবাদ কে করলেন তা নেই।
  • ছবির উৎস — শিল্পীরা জুমজার্নালের জন্যই এঁকেছেন, নাকি ছবিগুলো মূল বই থেকে এসেছে — তা স্পষ্ট নয়।
  • দুটি নাম — মংচাই শে ম্যা ও মং চাই শৈ ম্যা একই ব্যক্তি কি না, আর সিংইয়ং ম্রো-র তিন বানান একই ব্যক্তির কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।

তথ্যসূত্র

এই পাতার সব সংখ্যা ও নাম জুমজার্নালের আর্কাইভে প্রকাশিত ১২৫টি পাঠের নিজের শেষ লাইনগুলো থেকে নেওয়া। প্রতিটি পাঠের কৃতিত্ব-লাইন আলাদা করে পড়ে গোনা হয়েছে, আর উদ্ধৃতিগুলো হুবহু।

  1. বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ান, চাকমা রুপকাহিনী, ২০০০ ইং, রাঙামাত্যা (রাঙ্গামাটি) — ৩টি চাকমা পাঠে উদ্ধৃত।
  2. ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা — ১৪টি পাঠে উদ্ধৃত, পাঁচটি জনগোষ্ঠীর গল্প।
  3. ত্রিপুরা আদিবাসী লোককাহিনী — ১৩টি পাঠে উদ্ধৃত।
  4. মহেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, ত্রিপুরা লোককাহিনী ও কিংবদন্তি, ২০১২ ইং — ২টি পাঠে উদ্ধৃত।
  5. ম্রো রূপকথা, লোককাহিনী ও কিংবদন্তি — ৫টি পাঠে উদ্ধৃত।
  6. তঞ্চঙ্গ্যা রূপকথা লোককাহিনী ও কিংবদন্তী — ৩টি পাঠে উদ্ধৃত।
  7. লুঙ্সা গ্রামের লোককথা ও অন্যান্য — ২টি পাঠে উদ্ধৃত।
  8. মোনঘর আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়, রাঙামাত্য, বিদ্যালয় বার্ষিকী ১৯৮৯-৯০ — ২টি পাঠে উদ্ধৃত।
  9. সাওতাল রূপকথা ও সাওতাল লোককথা — ২টি সাঁওতাল পাঠে উদ্ধৃত; দুটিতেই লেখক নন্দলাল শর্মা।
  10. হামিদুল হোসেন তারেক (বীরবিক্রম), আদিবাসী রূপকথা, রোদেলা প্রকাশনী — ১টি গারো পাঠে উদ্ধৃত।

সব ব্যক্তির নাম, বইয়ের নাম, স্থানের নাম ও জনগোষ্ঠীর নাম আর্কাইভের পাঠে যেভাবে আছে সেভাবেই রাখা হয়েছে — বানানের ভিন্নতাসহ, কারণ সেটিও একটি তথ্য। গণনা করা হয়েছে প্রতিটি পাঠের দৃশ্যমান কৃতিত্ব-লাইন ধরে; কোনো বাইরের গ্রন্থপঞ্জি ব্যবহার করা হয়নি। সর্বশেষ হালনাগাদ: ৮ অক্টোবর ২০২৬।

প্রসঙ্গ:আদিবাসী রূপকথা, পার্বত্য চট্টগ্রাম, রূপকথা, লোককথা, লোককাহিনী

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা