Jumjournal Logo

চাদিগাং ছাড়া পালা: নায়ক কে, শতক কোনটি — তিনটি উৎস, তিনটি উত্তর

Last updated Oct 15th, 2026

0

Featured image

চাদিগাং ছাড়া পালা চাকমা মৌখিক সাহিত্যের সেই রচনা, যাকে একইসঙ্গে গান আর ইতিহাস বলা হয় — কারণ এর বিষয় একটি জনগোষ্ঠীর অভিবাসন।

কিন্তু পালাটির নায়ক কে, আর ঘটনাটি কোন শতকের — এই দুটি প্রশ্নে পঠিত উৎসগুলো তিন রকম উত্তর দেয়।

এই পাতায় সেই তিনটি উত্তর পাশাপাশি রাখা হলো, আর প্রতিটির পাশে তার উৎস — যাতে কোন দাবিটি কোথা থেকে এল তা দেখা যায়।

সূচিপত্র

নামের অর্থ: চাদিগাং ছাড়া মানে কী

পালাটির নামের দুটি অংশ, আর দুটোর অর্থই আর্কাইভের অন্য লেখায় পাওয়া যায়। চাদিগাং মানে চট্টগ্রাম, আর ছাড়া মানে ছেড়ে যাওয়া।

জুমজার্নালের একটি লেখায় শব্দটি সরাসরি এই অর্থেই ব্যবহৃত — ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রামের যুদ্ধের প্রসঙ্গে লেখা আছে “চাদিগাং বা চট্টগ্রাম মোগল সাম্রাজ্যভুক্ত হলেও”।

আর্কাইভে এই নামটি আরও আছে — একটি প্রকাশিত লেখার শিরোনামে “হিল চাদিগাঙ”, আর একটি বইয়ের নামেও: হিল চাদিগাঙ-র লারমা-র বারমাস (২০০৭, সম্পাদনা সঞ্জীব চাকমা)।

বানানে ভিন্নতা আছে — চাদিগাং, চাঁদিগাং, চাঁটিগাং, চাদিগাঙ — আর প্রতিধ্বনির লেখায় দুটো বানান একসঙ্গে দেওয়া: চাঁটিগাং বা চাঁদিগাং ছাড়া পালা।

নামের অর্থ নিয়ে অবশ্য একটি সমস্যা আছে, আর তা গোপন না করাই সৎ। নাম বলছে চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়া, অথচ পঠিত উৎসগুলোর বর্ণনায় কাহিনিটি প্রায়ই চট্টগ্রামে আসার।

থিসিসের বিবরণ অনুযায়ী চাকমারা বিশ্বাস করেন, এই অভিযানের মধ্য দিয়েই তাঁরা আরাকানে আসেন, তারপর উপরি বার্মায়, আর শেষে “Chottagong” বা আজকের চট্টগ্রামে।

অন্যদিকে প্রথম আলো-র বিবরণে পালাটির শেষে নায়ক দেশে ফিরে আসেন — অর্থাৎ সেখানে যাওয়া ও ফেরা দুটোই আছে।

[নামের “ছাড়া” অংশটি কোন ঘটনাকে নির্দেশ করে — চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়া, না চট্টগ্রামের বাইরে অভিযান — তা কোনো পঠিত উৎসে ব্যাখ্যা করা হয়নি, যাচাই প্রয়োজন]

তিনটি আলাদা দাবি: নায়ক কে, শতক কোনটি

চাদিগাং ছাড়া পালার বিষয় নিয়ে তিনটি পঠিত উৎস তিনটি আলাদা বিবরণ দেয়। পার্থক্যটি ছোট নয় — নায়কের নাম আর ঘটনার শতক, দুটোই বদলে যায়।

উৎস নায়ক সময় যা বলা হয়েছে
নিধি চাকমার থিসিস (ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ২০২১), সূত্র সুপ্রিয় তালুকদার রাজপুত্র বিজয়গিরি আনুমানিক ৫৯০ খ্রিস্টাব্দ চম্পকনগর ছেড়ে মগধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, আরাকান ও চট্টগ্রামের রোসাং রাজ্য জয়
প্রতিধ্বনি, ২০২৩ রাজা বিজয়গিরি নবম শতক চাকমা ঐতিহাসিক ঘটনার ভিত্তিতে বিজয়গিরির সামরিক অভিযানের বর্ণনা
প্রথম আলো, ২০২৩ রাধামন সময় দেওয়া নেই রোসাং, কাঞ্চনপুর ও কুকি রাজ্য কালনজরের বিরুদ্ধে অভিযান, আর দেশে ফেরা

প্রথম দুটি উৎসে নায়কের নাম একই, কিন্তু শতকের ফারাক প্রায় তিনশো বছর — ষষ্ঠ শতক বনাম নবম।

তৃতীয় উৎসে নায়কের নামই আলাদা, আর সেখানে তিনি রাধামন — অর্থাৎ রাধামন-ধনপুদি পালার সেই চরিত্রটি।

এই অসঙ্গতির একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা আছে, আর তা পালাটির গঠনেই। যদি চাদিগাং ছাড়া পালা সত্যিই রাধামন-ধনপুদি পালার দ্বিতীয় খণ্ড হয়, তবে সেই খণ্ডে রাধামনের অভিযান থাকা স্বাভাবিক — আর বিজয়গিরির কাহিনি হতে পারে একই সুরে গাওয়া আরেকটি পালা।

তবে এটি অনুমান। [তিনটি বিবরণের পরস্পর সম্পর্ক কোনো পঠিত উৎসে আলোচিত হয়নি — যাচাই প্রয়োজন]

বিজয়গিরির কাহিনি: থিসিস ও তালুকদারের বিবরণ

সবচেয়ে বিস্তারিত বিবরণটি একটি একাডেমিক কাজে — নিধি চাকমার এমএ থিসিস Love, Longing and Commemoration: A Study of Chakma Culture through the Ubogeet, ইংরেজি ও মানবিক বিভাগ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, মে ২০২১।

থিসিসে পালাটিকে বলা হয়েছে একটি মৌখিক লোকসাহিত্য, যা চাকমা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে চলে এসেছে বলে বিশ্বাস করা হয়, আর যা গাওয়া হয় গেংখুলি নামে পরিচিত একটি স্বতন্ত্র সুরে।

কাহিনির ধাপগুলো থিসিসে ক্রমানুসারে দেওয়া:

  1. পরিচয় — বিজয়গিরি চম্পকনগরের অভিষিক্ত রাজপুত্র, শাক্য রাজা সংবুদ্ধের জ্যেষ্ঠ পুত্র, আর পিতার অবসরের পর তাঁরই রাজা হওয়ার কথা
  2. অভিযান — আনুমানিক ৫৯০ খ্রিস্টাব্দে তিনি রাজ্য ছেড়ে মগধের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যান, আর আরাকান ও চট্টগ্রামের রোসাং রাজ্য জয় করেন
  3. ফেরার পথে — জানতে পারেন পিতা মারা গেছেন, আর ছোট ভাই সমরগিরি চম্পকনগরের রাজা হয়ে গেছেন
  4. কারণ — গুজব রটেছিল যে বিজয়গিরি মগধের যুদ্ধে মারা গেছেন, তাই সিংহাসন ছোট ভাইকে দেওয়া হয়
  5. সিদ্ধান্ত — শোকে তিনি চম্পকনগরে না ফেরার সিদ্ধান্ত নেন, আর সৈন্যদের নিয়ে জয় করা ভূমির দিকে যাত্রা করে আরাকানে আরেকটি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন

এরপরের অংশটিই পালাটিকে একটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস করে তোলে। থিসিস অনুযায়ী চাকমারা বিশ্বাস করেন, এই নতুন রাজ্য প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই তাঁরা আরাকানে আসেন, তারপর উপরি বার্মায়, আর শেষে চট্টগ্রামে।

থিসিসের এই অংশের সূত্র হিসেবে দেওয়া আছে: সুপ্রিয় তালুকদার, চম্পকনগর সন্ধানে: বিবর্তনের ধারায় চাকমা জাতি, ১৯৯৯, রাঙ্গামাটি, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, পৃষ্ঠা ১৯।

অর্থাৎ পালাটির এই বিবরণটি সরাসরি মৌখিক পরিবেশনা থেকে নয় — একটি মুদ্রিত গবেষণাগ্রন্থ থেকে, আর সেই গ্রন্থটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশনা।

[তালুকদারের বইটি এই লেখার জন্য পড়া হয়নি; উপরের তথ্য থিসিসের উদ্ধৃতি থেকে]

নবম শতকের দাবি: প্রতিধ্বনির লেখা

প্রতিধ্বনির লেখায় পালাটির নায়ক একই — বিজয়গিরি — কিন্তু শতকটি আলাদা। সেখানে তাঁকে বলা হয়েছে নবম শতকের চাকমা রাজা।

লেখাটিতে পালাটির ভিত্তি সম্পর্কেও একটি দাবি আছে: এটি চাকমা ঐতিহাসিক ঘটনার ভিত্তিতে রচিত, আর এতে বিজয়গিরির সামরিক অভিযানের বর্ণনা আছে।

তিনশো বছরের এই ফারাকটি তুচ্ছ নয়, কারণ দুটি শতকের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আলাদা।

আর্কাইভের নিজের একটি লেখায় রাজাদের কালানুক্রম নিয়ে একটি হিসাবও আছে। থিসিসে সুপ্রিয় তালুকদারের গবেষণার উল্লেখে বলা হয়েছে, প্রথম সাতজন চাকমা রাজা আরাকানে রাজত্ব করেন, আর অষ্টম থেকে ২৩তম রাজা উপরি বার্মায়।

আর অনুমান করা হয়, নবম শতক থেকে ১৩৩০ পর্যন্ত ছাব্বিশজন চাকমা রাজা উপরি বার্মায় রাজত্ব করেন।

এই কালানুক্রমে নবম শতকটি একটি সন্ধিক্ষণ — আর সেটিই হয়তো প্রতিধ্বনির শতক-নির্দেশের পেছনে আছে। কিন্তু তা অনুমান, আর লেখাটি কোনো সূত্র দেয়নি।

[প্রতিধ্বনির লেখায় শতক-নির্দেশের কোনো সূত্র দেওয়া নেই — যাচাই প্রয়োজন]

রাধামনের অভিযান: প্রথম আলোর বিবরণ

তৃতীয় বিবরণটি প্রথম আলো-র একটি লেখায়, আর সেখানে পালাটির নায়ক বিজয়গিরি নন — রাধামন।

লেখাটিতে পালাটিকে বলা হয়েছে রাধামন-ধনপুদি পালার একটি সিকুয়েল, আর সেটিও পর্বে পর্বে বিভক্ত।

অভিযানের গন্তব্যগুলো নাম ধরে দেওয়া — রোসাং, কাঞ্চনপুর আর কুকি রাজ্য কালনজর — আর তারপর রাধামনের দেশে ফেরা।

একটি জায়গায় এই বিবরণটি অন্য দুটির সঙ্গে মেলে: রোসাং তিনটি বিবরণেই আছে, কেবল জয়ীর নাম আলাদা।

আর দুটি নতুন নাম যোগ হয় — কাঞ্চনপুর আর কালনজর। প্রথমটি আর্কাইভের আরেকটি লেখাতেও আছে, একটি প্রকাশনার স্থান হিসেবে: চান্দবী বার মাচ-এর বাংলা অনুবাদ ১৯৬৯ সালে কাঞ্চনপুর থেকে প্রকাশিত হয়।

[কাঞ্চনপুর ও কালনজর আজকের কোন জায়গা, তা কোনো পঠিত উৎসে স্পষ্ট করা হয়নি — যাচাই প্রয়োজন]

প্রথম আলোর লেখাটিতে পালা পরিবেশনার একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যও বলা আছে, আর তা এই অসঙ্গতির একটি সম্ভাব্য কারণ: নির্দিষ্ট লিখিত পাঠ না থাকায় প্রত্যেক পরিবেশক কাহিনি বদলে নেন।

লেখাটির লেখক আহমেদ মুনির, প্রকাশ ২৫ জুলাই ২০২৩। লেখাটিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড মিউজিক বিভাগের শিক্ষক ও নাট্যকর্মী কুন্তল বড়ুয়া-র মতও আছে, যিনি চাকমা নাটক নিয়ে পিএইচডি করেছেন — তাঁর মতে পালাটি মূলত একটি বিষাদের গান, আর এর কাহিনি প্রত্যেক পরিবেশকের সঙ্গে বদলায়।

পালার দুটি পঙ্‌ক্তি

পালাটির হুবহু ভাষার দুটি নমুনা আর্কাইভে আছে, আর দুটিই অভিযানের পথ নিয়ে — একটি নদী পার হওয়ার, আরেকটি সমুদ্রের।

চাকমা জাতির আদিনিবাস সন্ধানে লেখাটিতে চম্পকনগরের অবস্থান খোঁজার সময় গেংখুলি গীতের পঙ্‌ক্তি সাক্ষ্য হিসেবে উদ্ধৃত হয়েছে।

প্রথমটি নদীর: “নাজের উল্লাসে রাধামন, খৈ গাঙত পল্লাক্কি সৈন্যগণ” — লেখায় এর অর্থ দেওয়া, সৈন্যবাহিনী খৈয় নদীতে উপস্থিত হলে সেনাপতি রাধামন আনন্দ-উল্লাস করেন।

দ্বিতীয়টি সমুদ্রের: “অপার পানি সাগর বেই, কুল-কিনারা দেঘা নেই, জাদিপুজাত তে ঘি দিল, রোয়্যাঙ্গা দেঝত তে কুলেল।”

দুটি পঙ্‌ক্তি এই পাতার জন্য দুই কারণে মূল্যবান। এক, এগুলো পালার নিজের ভাষা — সারসংক্ষেপ নয়। দুই, এগুলোতে ভূগোলের নাম আছে, আর সেই নাম ধরে পথটি মিলিয়ে দেখা সম্ভব।

আর সেই মেলানোটিই ওই লেখায় করা হয়েছে, আর ফলাফল একটি অসঙ্গতি।

লেখকের যুক্তি: পশ্চিম ত্রিপুরার চম্পকনগর খোয়াই নদী থেকে বেশি দূরে নয়, তাই সেখান থেকে যাত্রা করলে খোয়াই নদীর তীরে পৌঁছানোটি উল্লাস করার মতো মাইলফলক হওয়ার কথা নয়।

আর তারপর আসে বাক্যটি, যা পালার সাক্ষ্যের সীমা স্বীকার করে: “কিন্তু এই গেংখুলীরা হয়তো জীবনে ত্রিপুরার চম্পকনগর, খোয়াই নদী, চাকমাঘাট ইত্যাদি এলাকা ভ্রমণ করেননি, বরং উত্তরসূরী হিসেবে পূর্বপুরুষদের গাওয়া লোকগীতি বংশ পরম্পরায় গেয়ে আসছেন।”

এটিই এই পাতার কেন্দ্রীয় সমস্যার সবচেয়ে সৎ ব্যাখ্যা। পরিবেশকেরা প্রত্যক্ষদর্শী নন, বাহক — আর বাহকের গানে ভূগোল ঝাপসা হতে পারে, এমনকি ভুলও।

অর্থাৎ পালাটি একটি ঐতিহাসিক উৎস, কিন্তু একটি পরোক্ষ উৎস। আর সেই সীমাটি বাইরের সমালোচক নয়, উৎসটি নিজেই টেনেছে।

একই লেখায় আরেকটি ব্যবহারিক আপত্তিও আছে: ২৬ হাজার সৈন্য বহন করার মতো নৌকা পাহাড়ি পথে সঙ্গে বয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না।

সৈন্যসংখ্যা ও দুই সেনাপতি

অভিযানের আয়তন নিয়ে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা পঠিত উৎসে আছে, আর সেনাপতি একজন নন — দুজন।

একই লেখায় একটি গ্রন্থের বর্ণনার বরাত দিয়ে লেখা, রাজা বিজয়গিরি সেনাপতি রাধামনসহ ৭ চিমু (২৬ হাজার) সৈন্য নিয়ে রোয়াংদেশ বা চট্টগ্রাম-রামু অঞ্চলে অভিযানের জন্য রাজ্য থেকে দক্ষিণে যাত্রা করেন।

“চিমু” একটি গণনার একক, আর উৎসে তার মান দেওয়া — ৭ চিমু = ২৬ হাজার। অর্থাৎ এক চিমু প্রায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি।

আর দ্বিতীয় সেনাপতির কথাটি সবচেয়ে কম উল্লিখিত অথচ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। একই লেখা অনুযায়ী তদকালীন ত্রিপুরা রাজা সাহায্যের জন্য কুঞ্জধন নামে এক সেনাপতিকে একদল সৈন্যসহ রাধামনের সহকারী হিসেবে নিযুক্ত করেন।

কুঞ্জধনের নাম চাকমা জাতি-তেও আছে, আর সেখানে দুজনকে একসঙ্গে রাখা হয়েছে: “দিগ্বিজয়ে রাজা বিজয়গিরির প্রধান সেনাপতি ছিলেন রাধামন ও কুঞ্জধন।”

এই তথ্যটি কাহিনিটিকে বদলে দেয় না, কিন্তু যোগ করে একটি জোট। অভিযানটি কেবল চাকমাদের নয় — ত্রিপুরা রাজার সৈন্যও সঙ্গে ছিল।

আর সেই জোটটি চম্পকনগরের অবস্থান নিয়ে প্রশ্নটির সঙ্গেও মেলে: যদি যাত্রা ত্রিপুরা অঞ্চল থেকে হয়, তবে ত্রিপুরা রাজার সাহায্য করার কথাটি স্বাভাবিক হয়।

আর অভিযানের পরের অংশটিও একই লেখায়: চাকমা জাতি-তে বলা হয়েছে, রাজার অনুমতি নিয়ে পরে সেনাপতি রাধামন তাঁর নববিবাহিত স্ত্রী ধনপুদি ও পরিবারের টানে চম্পকনগরে প্রত্যাবর্তন করেন।

এই একটি বাক্য দুটি পালাকে জুড়ে দেয়। অভিযানের পালা আর প্রেমের পালা — রাধামনের ফিরে আসাটিই সংযোগস্থল।

[“চিমু” এককটির ব্যবহার বা উৎপত্তি কোনো পঠিত উৎসে ব্যাখ্যা করা হয়নি — যাচাই প্রয়োজন]

জয় করা দেশের তালিকা: দুটি বিবরণ

অভিযানে কোন কোন দেশ জয় করা হয়েছিল, তার দুটি তালিকা আর্কাইভে আছে — আর দুটি তালিকা পুরোপুরি মেলে না।

উৎস জয় করা দেশের তালিকা
চাকমা জাতি — প্রদীপ্ত খীসার বরাতে রোয়াং রাজ্য (বর্তমান রামু), অক্সাদেশ (আরাকান সীমান্ত), কাঞ্চননগর (কাঞ্চনদেশ), কালঞ্জর (কুকিরাজ্য)
চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা আদিবাসীর জাতিসত্তা মগদেশ, খ্যাংদেশ, অক্ষাদেশ, কাঞ্চন নগর, কালঞ্জর

দুটি তালিকার তিনটি নাম কার্যত এক — অক্সাদেশ/অক্ষাদেশ, কাঞ্চননগর/কাঞ্চন নগর, আর কালঞ্জর। বানানে ফারাক, বস্তুতে নয়।

কিন্তু শুরুর নামটি আলাদা। একটিতে রোয়াং রাজ্য, আরেকটিতে মগদেশ ও খ্যাংদেশ — অর্থাৎ একটি তালিকা একটি গন্তব্য বলে, অন্যটি দুটি।

বন্ধনীর ভিতরের ব্যাখ্যাগুলোও কেবল একটি তালিকায় আছে, আর সেগুলোই নামগুলোকে মানচিত্রে বসায় — রোয়াং মানে বর্তমান রামু, অক্সাদেশ মানে আরাকান সীমান্ত, কালঞ্জর মানে কুকিরাজ্য।

কালনির্ণয়ও একই লেখায়: চাকমা জাতি-তে প্রদীপ্ত খীসার পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা বইয়ের বরাত দিয়ে লেখা, আনুমানিক ৫৯০ সালে চাকমা যুবরাজ বিজয়গিরি ও তাঁর সেনাপতি রাধামন খীসা এই দেশগুলো জয় করেন।

এই সালটি এই পাতার শতক-বিতর্কে একটি পক্ষ নেয় — ষষ্ঠ শতকের দিকে, অর্থাৎ নবম শতকের দাবিটির তিন শতকেরও আগে।

সেনাপতির নামেও একটি পদবি যোগ হয়েছে এই বিবরণে — রাধামন খীসা, যা অন্য উৎসগুলোতে নেই।

আর পালাটির মর্যাদা নিয়ে একটি বাক্যও একই লেখায়: “অনেকের মতে, রাধামন-ধনপুদি পালা ও চাদিগাং ছাড়া পালা মহাকাব্য মর্যাদাসম্পন্ন।”

একই লেখায় পালাটির বিষয় এক বাক্যে বলা হয়েছে — “চাকমা জাতীয় জীবনে স্থানান্তর নিয়ে ‘চাদিগাঙ ছাড়া পালা’ নামে একটি পালাগানও রয়েছে” — আর সেখানে বানানটি চাদিগাঙ, ঙ দিয়ে।

[দুটি তালিকার কোনটি পালার নিজের ক্রম অনুসরণ করে, তা কোনো পঠিত উৎসে বলা নেই]

‘দ্বিতীয় খণ্ড’: পালাটি কি স্বাধীন রচনা

দুটি পঠিত উৎসই চাদিগাং ছাড়া পালাকে অন্য একটি পালার অংশ বলেছে, আর দুটিতেই একই পালার নাম — রাধামন-ধনপুদি।

প্রতিধ্বনির ভাষায় এটি “রাধামন ধনপুদি’র দ্বিতীয় খণ্ড বিশেষ”। আর প্রথম আলো-য় একে বলা হয়েছে একটি সিকুয়েল, যা নিজেও পর্বে বিভক্ত।

তবে থিসিসে একে স্বাধীনভাবে উল্লেখ করা হয়েছে — সেখানে রাধামন-ধনপুদির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক বলা হয়নি, আর নায়কও আলাদা।

অর্থাৎ শ্রেণিবিন্যাসেও তিন রকম অবস্থান:

উৎস পালাটির অবস্থান
প্রতিধ্বনি রাধামন-ধনপুদির দ্বিতীয় খণ্ড
প্রথম আলো রাধামন-ধনপুদির সিকুয়েল, নিজেও পর্বে বিভক্ত
থিসিস স্বাধীন একটি মৌখিক লোকসাহিত্য

রাধামন-ধনপুদি পালার আকার নিয়ে একটি তথ্য আছে প্রতিধ্বনির লেখায় — সেটি নয়টি পর্বে বিভক্ত। আর প্রথম আলোর লেখা অনুযায়ী পরিবেশনা সাত দিন সাত রাত ধরে চলে, আর তাতেও শেষ হয় না।

গেংখুলি ঐতিহ্য ও রাধামন-ধনপুদি পালা নিয়ে জুমজার্নালে আলাদা লেখা আছে — গেংখুলি ও রাধামন-ধনপুদি: চাকমা মৌখিক সাহিত্যের পাঠ।

পাঠকের জন্য এর একটি ব্যবহারিক অর্থ আছে। কোনো লেখায় যদি “চাদিগাং ছাড়া পালা” একটি স্বাধীন রচনা হিসেবে দেখা যায়, আর অন্যত্র দ্বিতীয় খণ্ড হিসেবে — তবে দুটোই ভুল নয়; দুটোই দুটো আলাদা উৎসের ভাষ্য।

সুর: গেংখুলি

পালাটি কীভাবে পরিবেশিত হয়, এই প্রশ্নে পঠিত উৎসগুলো একমত। থিসিসে লেখা, পালাটি গাওয়া হয় একটি “ঐতিহ্যবাহী ও স্বতন্ত্র সুরে”, যা গেংখুলি নামে পরিচিত।

লক্ষণীয়, এখানে গেংখুলি কেবল গায়কের পদবি নয় — সুরটিরই নাম। থিসিসে চাকমা সাহিত্যের তিন ধরনের লোকগীতির নামও দেওয়া: উভোগীত, গেংখুলি গীত আর হবি গান।

চাকমা স্বশাসিত জেলা পরিষদের পাতায় গেংখুলি-র পরিচয় দেওয়া হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ব্যালাড হিসেবে, যা “বাছাই করা মানুষেরা” গেয়ে থাকেন, আর সেই পরিবেশকদেরও গেংখুলি বলা হয়।

পরিবেশনার সময়সীমাও সেখানে দেওয়া — সাধারণত সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত, আর কখনো কয়েক দিন ধরে। আর একই পাতায় তিনটি ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের নাম: হেংগরং, সিংহা আর ধুধুক।

প্রথম আলো-র লেখায় বাঁশের দুটি বাদ্যযন্ত্রের নাম — খেংগড়ং আর ধুদক। বানানে ফারাক থাকলেও যন্ত্রগুলো একই বলে মনে হয়।

থিসিসে একটি অস্বস্তিকর পর্যবেক্ষণও আছে। সেখানে লেখা, উভোগীত, থেংগা বাংগা গীত আর গেংখুলি গীতের মতো ঐতিহ্যবাহী চর্চা শিক্ষিত শ্রেণির কাছে “unfashionable” ও “backward” হয়ে উঠেছে।

আর থিসিসের লেখক নিজে চাকমা, আর তিনি লেখেন যে নিজের ঐতিহ্য এভাবে মিলিয়ে যেতে দেখা তাঁর ভালো লাগে না।

পাহাড়ি গান ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে আলাদা লেখা আছে পাহাড়ি গান ও আদিবাসী বাদ্যযন্ত্র-তে।

চম্পকনগর কোথায়

তিনটি বিবরণের দুটিতেই কাহিনির শুরু চম্পকনগরে, আর সেই জায়গাটির অবস্থান নিয়েই চাকমা ইতিহাসচর্চার একটি বড় প্রশ্ন।

জুমজার্নালের একটি দীর্ঘ লেখায় একটি প্রস্তাব আছে, আর তা নাম ধরে: প্রাচীন ভারতের বা আজকের বাংলাদেশের পূর্বাংশে আরাকান-সংলগ্ন চট্টগ্রাম অঞ্চলে হরিকেল নামে একটি রাজ্য বা জনপদ ছিল, আর তার রাজধানী ছিল চম্পানগরী বা চম্পকনগর।

লেখাটিতে একটি উপাধি-সংক্রান্ত যুক্তিও আছে: হরিকেলের রাজারা সম্ভবত একসময় চাকমাদের আদিরাজা বিজয়গিরির মতোই ‘গিরি’ উপাধি ধারণ করতেন, আর সেই উপাধিতে রৌপ্য মুদ্রাও প্রবর্তন করেছিলেন।

লেখার ভাষায় দাবির মাত্রাও স্পষ্ট — “সম্ভবত”, “সম্ভবতঃ” শব্দগুলো বারবার ব্যবহৃত।

একই লেখায় রামু জনপদের কথাও আছে, যাকে বলা হয়েছে প্রায় দুই হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ একটি জনপদ।

আর বিজয়গিরির স্মৃতির সঙ্গে জড়িত দুটি বর্তমান ইউনিয়নের নামও দেওয়া — বাঁকখালী নদীর দক্ষিণ পাড়ে রাজারকূল, আর উত্তর পাড়ে চাকমারকূল।

লেখাটিতে এই তথ্যের উৎস হিসেবে একটি ডকুমেন্টারিতে এক গ্রামবাসীর বক্তব্যের উল্লেখ আছে, সময়-নির্দেশসহ। [এই স্থাননাম-যুক্তিগুলো কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণে সমর্থিত কি না, তা লেখায় বলা নেই — যাচাই প্রয়োজন]

চম্পকনগর ও চাকমাদের আদিনিবাস নিয়ে পূর্ণ আলোচনা আছে চাকমা জাতির আদিনিবাস সন্ধানে লেখাটিতে।

রাজাদের তালিকা: আরাকান থেকে চট্টগ্রাম

পালাটির কাহিনি যেখানে শেষ হয়, ইতিহাসচর্চা সেখান থেকে শুরু করে। থিসিসে সুপ্রিয় তালুকদারের গবেষণার ভিত্তিতে রাজাদের একটি কালানুক্রম দেওয়া আছে।

রাজা কোথায় রাজত্ব
প্রথম সাতজন আরাকানে
অষ্টম থেকে ২৩তম উপরি বার্মায়
নবম শতক থেকে ১৩৩০ পর্যন্ত ছাব্বিশজন উপরি বার্মায় (অনুমান)

এরপরের ঘটনাগুলোও থিসিসে সন ধরে দেওয়া, আর প্রতিটির আলাদা সূত্র আছে:

  • ১৩৩০ — রাজা অরুণযুগ আরাকান রাজা মাংথির সঙ্গে যুদ্ধে রাজ্য হারান
  • ১৪৪৮ — চাকমা রাজা ম্‌ন ৎসনি বৌদ্ধধর্মের প্রতি অসম্মানের অভিযোগে বার্মা থেকে বিতাড়িত হন, আর চট্টগ্রামের দক্ষিণাংশে আলীকদমে আশ্রয় নেন; সূত্র হিসেবে দেওয়া Chittagong Hill Tracts Gazetteer, পৃষ্ঠা ২৫
  • সেই সূত্র অনুযায়ী তিনি চাকমাদের রামু ও টেকনাফে বসতি দেন

আলীকদম নামটি এখানে আলাদা করে লক্ষণীয়, কারণ আর্কাইভের আরেকটি পাঠেও সেটি একটি অভিবাসনের প্রথম বসতি হিসেবে আসে। তঞ্চঙ্গ্যা কলাত্থুর কন্যা পাঠে লেখা, চক্রধন আঙুর দল আরাকান থেকে এসে প্রথমে আলীকদমের তৈনছড়ির অববাহিকায় বসতি স্থাপন করে।

আর্কাইভের আদিনিবাস-লেখায় পরবর্তী শতকের ঘটনাও আছে। ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রামের যুদ্ধে মোগল, ডাচ ও পর্তুগিজদের সমন্বিত বাহিনীর কাছে আরাকান রাজা চন্দ্র সুধর্ম পরাজিত হন, আর চাদিগাং বা চট্টগ্রাম মোগল সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।

তবু চাকমা রাজা ধরম্যা স্বাধীনভাবেই ছিলেন, আর পরে মোগলদের সঙ্গে সখ্য হয় — যার প্রত্যক্ষ নিদর্শন হিসেবে দেওয়া ১৭১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা ফতে খাঁর সঙ্গে মোগলদের বাণিজ্য চুক্তি, আর সূত্র বিরাজ মোহন দেওয়ানের চাকমা জাতির ইতিবৃত্ত, পৃষ্ঠা ১০৪-১০৫।

আর সেই নামটি আজও টিকে আছে দুটি জায়গায় — রামুতে ফতে খাঁর কূল ইউনিয়ন, আর রাঙ্গামাটিতে চাকমা রাজবাড়ির আঙিনায় রাজার কামান ‘ফতে খাঁ’।

১৫৫০-এর মানচিত্রে ‘Chacomas’

থিসিসে একটি বিদেশি নথির উল্লেখ আছে, আর তা পালাটির দাবির একটি স্বাধীন সমর্থন — ১৫৫০ সালের একটি পর্তুগিজ মানচিত্র।

থিসিস অনুযায়ী পর্তুগিজ ভূগোলবিদ ও ঐতিহাসিক জোয়া দে বারোস ১৫৫০ সালে Descripcao do Reino de Bangala নামে একটি মানচিত্র আঁকেন, আর তাতে কর্ণফুলী নদীর কাছে একটি জায়গার নাম দেখা যায় — ‘Chacomas’।

থিসিসে অনুমানও দেওয়া: নামটি সম্ভবত সেখানে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর নাম থেকেই এসেছে।

দে বারোসের পরিচয়ও টীকায় দেওয়া — তিনি ১৫২৫ থেকে ১৫৩২ পর্যন্ত লিসবনে কোষাধ্যক্ষ ছিলেন, আর ১৫৬৭ পর্যন্ত ক্রাউন এজেন্ট।

এই নথিটির মূল্য আলাদা, কারণ এটি কোনো চাকমা উৎস নয়। পালাটি বলে চাকমারা চট্টগ্রামে এসেছেন; আর একটি ষোড়শ শতকের ইউরোপীয় মানচিত্র কর্ণফুলীর ধারে সেই নামের একটি জায়গা দেখায়।

তবে মানচিত্রের একটি নাম আর একটি পালার কাহিনি এক জিনিস নয়। [মানচিত্রটি এই লেখার জন্য দেখা হয়নি; উপরের তথ্য থিসিসের উদ্ধৃতি থেকে — যাচাই প্রয়োজন]

নথিভুক্ত ইতিহাস কোথা থেকে শুরু হয়

পালাটির কাহিনি যে ভূগোলে চলে — চম্পকনগর, আরাকান, উপরি বার্মা, চট্টগ্রাম — সেই একই ভূগোলে নথিভুক্ত ইতিহাসও চলে। কিন্তু নথি শুরু হয় অনেক পরে।

থিসিসে প্রথম নথিভুক্তভাবে শনাক্তযোগ্য চাকমা রাজার নামও দেওয়া আছে, আর সূত্রসহ।

তথ্য যা বলা হয়েছে সূত্র
প্রথম শনাক্তযোগ্য রাজা রাজা অতীতবাহন, রাজা বলসুন্দরের পুত্র তিব্বতি ঐতিহাসিক লামা তারানাথের ১৬০৮ সালের গ্রন্থ, থিসিসে উদ্ধৃত সুগত চাকমার বই মারফত
তারপর রাজা চন্দন খাঁ পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো উৎস নেই থিসিস
১৭১১ মোগল নথি অনুযায়ী চন্দন খাঁ চাকমা পাহাড়িদের রাজা নির্বাচিত হন সুগত চাকমা, বাংলাদেশের উপজাতি ও আদিবাসীদের সমাজ, সংস্কৃতি ও আচার ব্যবহার, রাঙ্গামাটি, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট
১৭১৫ জালাল খাঁ রাজা হন একই বই

এই ছকের দ্বিতীয় সারিটিই এই পাতার মূল সমস্যা। ১৬০৮ সালের একটি গ্রন্থ আর ১৭১১ সালের মোগল নথির মাঝখানে কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস নেই — আর পালাটির কাহিনি তার অনেক আগের।

অর্থাৎ পালাটির দাবি নথি মিলিয়ে যাচাই করা যায় না, কারণ সেই সময়ের নথিই নেই।

তবে ১৭১৫-র পরের ঘটনাগুলো নথিভুক্ত, আর সেগুলোতে পালাটির ভূগোলই ফিরে আসে। থিসিস অনুযায়ী জালাল খাঁর রাজ্যে লবণ, শুঁটকি, কালো তুলা, মুরগি, তামাক ও চিনির অভাব দেখা দেয়, আর তিনি সমতলের বণিকদের পাহাড়ে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তারপর তিনি মোগল ফৌজদারের কাছে বাণিজ্য-সুবিধার আবেদন করেন, আর বাণিজ্য-কর হিসেবে এগারো মণ তুলা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আর তা থেকেই একটি নামের জন্ম, যা থিসিসে দেওয়া: মোগল আমলে ভালো তুলা উৎপাদনের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিচিত হয় ‘কর্পাস মহল’ বা তুলার জমিদারি নামে।

এই শব্দটি আর্কাইভের গল্পেও আছে। চাকমা হঅ্’বি আর ধঅ্’বি পাঠে জুমের ফসলের তালিকায় কার্পাস আছে, আর বন্ধনীতে অর্থ দেওয়া — জুম্ম তুলো।

অর্থাৎ যে ফসলের নামে একটি অঞ্চলের রাজস্ব-পরিচয় তৈরি হয়েছিল, সেটিই রূপকথার জুমের তালিকায় আছে।

করের দ্বন্দ্ব: পালার বাইরের ইতিহাস

পালাটি শেষ হয় একটি রাজ্য প্রতিষ্ঠায়। কিন্তু নথিভুক্ত ইতিহাসে পরের শতকগুলো কর নিয়ে দ্বন্দ্বের, আর সেই দ্বন্দ্বই আর্কাইভের আরেকটি লেখার পটভূমি।

থিসিসে সনসহ ঘটনাগুলো এরকম:

  • ১৭২৪ — রাজা জালাল খাঁ কর দিতে অস্বীকার করেন, আর মোগল সম্রাটের দেওয়ান কিষণ চাঁদ তাঁর উপর আক্রমণ করেন; তিনি আরাকানে পালাতে বাধ্য হন
  • ১৭৩৭ — রাজা শেরমুস্তো খাঁ মোগল সম্রাটের কাছে আত্মসমর্পণ করে ‘কোদালা’ নামে পরিচিত ভূমি নেন; তাঁর আবাস ছিল আরাকানে
  • ১৭৬৫ — পলাশীর যুদ্ধের পর ব্রিটিশ শাসনে শের দৌলত খাঁ চাকমা রাজা হন
  • ১৭৭৬ — ব্রিটিশ সরকারের কর বৃদ্ধির বিরুদ্ধে শের দৌলত খাঁ বিদ্রোহ করেন
  • ১৭৮৩, ১৭৮৪, ১৭৮৫ — চাকমারা ব্রিটিশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ করেন
  • ১৭৮৭ — যুদ্ধের অবসান; চাকমা রাজা জান বক্স খাঁ ও লর্ড কর্নওয়ালিস শান্তির জন্য একটি পিটিশনে সই করেন
  • ১৭৯১ — ব্রিটিশ সরকার কর্পাস বা তুলার বদলে টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়

একটি নাম-সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণও থিসিসে আছে: চাকমা রাজাদের নামে “খাঁ” উপাধি এসেছে মোগল আমল থেকে, আর সম্ভাবনা আছে যে তাঁরা মোগল সাম্রাজ্যকে প্রভাবিত করতে মুসলিম নাম নিয়েছিলেন — কারণ নাম মুসলিম শোনালেও তাঁরা ইসলাম অনুসরণ করতেন না।

এখানে আর্কাইভের সঙ্গে একটি অসঙ্গতি আছে, আর তা বলে রাখা দরকার। আর্কাইভের শিবচরণ চাকমার জীবনকথা-য় একই ধরনের কর-দ্বন্দ্বের কথা আছে, কিন্তু সেখানে রাজার নাম শুকদেব রায় আর সেনাপতির নাম রুনু খাঁ।

থিসিসে ১৭৭৬-এর বিদ্রোহের প্রসঙ্গে ক্যাপ্টেন টি. এইচ. লুইনের বই থেকে উদ্ধৃতিতে রাজার সঙ্গে তাঁর আত্মীয় ও গোত্রপ্রধান হিসেবে অন্য একটি নাম আছে।

[শুকদেব রায় ও রুনু খাঁ কোন সময়ের, আর তাঁরা থিসিসের তালিকার কোন রাজার সমসাময়িক — তা কোনো পঠিত উৎসে মেলানো যায়নি, যাচাই প্রয়োজন]

আর আরাকানের দিকেও একটি বড় ঘটনা একই সময়ে। থিসিস অনুযায়ী ১৭৮৪ সালে রাজা বোদোফ্যা আরাকান আক্রমণ করেন আর ১২ জানুয়ারি ১৭৮৫-তে তা সম্পূর্ণ দখল করেন; ১৭৮৫-৮৯ সময়ে তাঁর বাহিনী ২২,৬০০-র বেশি আরাকানিকে হত্যা করে বলে উল্লেখ আছে, আর অনুমান করা হয় ৫০,০০০-এর কম নয় আরাকানি শরণার্থী চট্টগ্রাম জেলায় চলে আসেন।

থিসিসে অনুমান করা হয়েছে, বহু চাকমাও তখন শরণার্থী হয়ে চট্টগ্রামে আসেন, কারণ জান বক্স খাঁর আরাকানে যোগাযোগ ছিল।

অর্থাৎ পালাটি যে পথের কথা বলে — আরাকান থেকে চট্টগ্রাম — সেই পথে অষ্টাদশ শতকেও মানুষ চলেছে, আর এবার তা নথিভুক্ত।

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা-বিদ্রোহ ও ভূমি-ব্যবস্থার ইতিহাস নিয়ে আলাদা লেখা আছে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন-এ।

রাজোয়াং: আরাকানের দিক থেকে একই গল্প

থিসিসে আরেকটি স্বাধীন সমর্থনের উল্লেখ আছে, আর তা একটি আরাকানি গ্রন্থের।

থিসিস অনুযায়ী আরাকানের ইতিহাসগ্রন্থ ‘রাজোয়াং’-এ চাকমা পূর্বপুরুষদের কাহিনির সঙ্গে মিলে যায় এমন একটি গল্প আছে, আর তার বর্ণনাও একইরকম।

আর থিসিসে বলা হয়েছে, আরাকানের ইতিহাস চাদিগাং ছাড়া পালার এই জনপ্রিয় কাহিনিকে সমর্থন করে।

এই দাবিটি পালাটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা দুই দিক থেকে একই ঘটনার সাক্ষ্য বলে উপস্থাপিত। তবে কতটা মেলে, কোন অংশে মেলে — সেই বিস্তারিত তুলনা থিসিসে নেই।

থিসিসে আরেকটি অনেক পুরনো ঘটনারও উল্লেখ আছে, আর তা চাকমাদের শাক্য-বংশ দাবির সঙ্গে জড়িত: খ্রিস্টপূর্ব ৫৪৭ সালে কোসল রাজা প্রসেনজিতের পুত্র রাজপুত্র বিরূঢ়ভ কপিলাবস্তুর শাক্যদের উপর প্রতিশোধ নেন, আর সেই হত্যাকাণ্ড থেকে বেঁচে যাওয়া শাক্যরা নেপাল, ভুটান, আসাম ও বার্মায় আশ্রয় নেন।

আর থিসিসে বিজয়গিরির আগে আরও পনেরোজন রাজার অস্তিত্বের কথাও আছে।

এই দাবিগুলো নিয়ে গবেষকেরা একমত নন, আর থিসিসে তাও দেওয়া আছে। বাংলাদেশের প্রাক্তন কূটনীতিক শরদিন্দু শেখর চাকমার মত অনুযায়ী চাকমারা যে ধর্ম অনুসরণ করেন তার সঙ্গে প্রাচীন ভারত থেকে উদ্ভূত বৌদ্ধধর্মের অনেক মিল আছে, তাই চাকমারা আরাকানের আদি বাসিন্দা হতে পারেন না, তাঁদের ধর্মও নয়।

আর থিসিসেই একটি সরল স্বীকারোক্তি আছে: “The history of Chakmas are obscure.”

বিজোগ: চাকমা লিপিতে লেখা ইতিহাস

চাদিগাং ছাড়া পালা কেন একটি ইতিহাস-পাঠ হিসেবে গুরুত্ব পায়, তার একটি কারণ থিসিসের শুরুতেই আছে — চাকমাদের লিখিত ইতিহাসের অভাব।

থিসিসে বলা হয়েছে, চাকমাদের উৎপত্তি নিয়ে বহু বিতর্ক আছে, কারণ তাঁদের কোনো নির্দিষ্ট লিখিত ইতিহাস বা নথি নেই। যা ছিল তা মৌখিক ইতিহাস ও মৌখিক সাহিত্য — আর সময়ের সঙ্গে তার হারিয়ে যাওয়া, ভুলে যাওয়া বা প্রান্তে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তবু একটি লিখিত ঐতিহ্যের নামও দেওয়া আছে, আর তা একটি নির্দিষ্ট শব্দে: চাকমা পূর্বপুরুষদের চাকমা বর্ণমালায় লেখা ইতিহাসকে বলা হয় ‘বিজোগ’।

এই শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা দেখায় ইতিহাস লেখার একটি নিজস্ব ধারা ছিল — আর সেই ধারার নামও ছিল।

আর্কাইভের আরেকটি লেখায় চাকমা লিপিতে লেখা সাহিত্যের ধরনের তালিকাও আছে — পালাগান (ব্যালাড), বারমাসী আর চৌতিশা। অর্থাৎ চাদিগাং ছাড়া পালার মতো পালাগান সেই তালিকার প্রথমেই।

এখানেই পালাটির দ্বৈত চরিত্রটি স্পষ্ট হয়। এটি একইসঙ্গে গান আর ইতিহাস — আর যেহেতু নথি কম, সেহেতু গানটিই অনেকের কাছে ইতিহাসের জায়গা নেয়।

থিসিসে চাকমা গবেষক ও ঐতিহাসিকদের দাবির কথাও আছে: তাঁরা নিজেদের শাক্য বংশের বংশধর বলে দাবি করেন — সেই গোত্র, যেখানে গৌতম বুদ্ধের জন্ম, আর যার উৎপত্তি লুম্বিনীতে, আজকের নেপালের একটি প্রদেশে।

আর পালাটির নায়কের পিতার পরিচয়ও সেই দাবির সঙ্গেই জড়ানো — থিসিসে বিজয়গিরিকে বলা হয়েছে শাক্য রাজা সংবুদ্ধের জ্যেষ্ঠ পুত্র।

অর্থাৎ পালাটি কেবল একটি অভিযানের গল্প নয় — এটি একটি বংশপরিচয়ের দাবিও বহন করে, আর সেই দাবিটিই গবেষকদের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত।

থিসিসেই সেই বিতর্কের একটি পক্ষ দেওয়া আছে। বাংলাদেশের প্রাক্তন কূটনীতিক শরদিন্দু শেখর চাকমার যুক্তি অনুযায়ী চাকমারা যে ধর্ম অনুসরণ করেন তার সঙ্গে প্রাচীন ভারতের বৌদ্ধধর্মের অনেক মিল, তাই চাকমারা আরাকানের আদি বাসিন্দা হতে পারেন না।

আর বিপরীত দিকে, গবেষক বিরাজ মোহন দেওয়ানের মত থিসিসে উদ্ধৃত — তাঁর মতে চাকমাদের কোনো গৌরবময় ইতিহাস থাকলে তার অধিকাংশ পাওয়া যাবে প্রাচীন বর্মি ইতিহাসে।

[এই বিতর্কের মীমাংসা কোনো পঠিত উৎসে নেই, আর এই পাতায় কোনো পক্ষ নেওয়া হয়নি]

রোসাং: তিনটি বিবরণের একমাত্র অভিন্ন নাম

নায়ক আর শতক নিয়ে তিনটি উৎস তিন রকম বললেও একটি নাম তিনটিতেই আছে — রোসাং।

থিসিসের বিবরণে বিজয়গিরি “আরাকান ও চট্টগ্রামের রোসাং রাজ্য” জয় করেন। প্রতিধ্বনির বিবরণে বিজয়গিরির সামরিক অভিযান। আর প্রথম আলোর বিবরণে রাধামনের অভিযানের প্রথম গন্তব্যই রোসাং।

অর্থাৎ পালাটির কেন্দ্রীয় ঘটনা নিয়ে উৎসগুলো একমত: একটি অভিযান, আর তার লক্ষ্য রোসাং। কেবল অভিযানকারীর নাম বদলায়।

রোসাং নামটি চাকমা উৎসের বাইরেও পরিচিত। আর্কাইভের একটি লেখায় আরাকানের আরেকটি নামও দেওয়া — রোয়াং দেশ, আর সেখানে বলা হয়েছে আরাকান এক সময় সেই নামে পরিচিত ছিল।

তঞ্চঙ্গ্যা কলাত্থুর কন্যা পাঠে এই নামটিই আবার আসে — চক্রধন আঙুর দল রোয়াং থেকে আনক বা চট্টগ্রাম অঞ্চলে আসে, আর তাদের সঙ্গে আসেন বিধবা সনামালা।

আর আর্কাইভের আরেকটি গল্পে রোসাং একটি রাজসভা হিসেবেই আছে। মারমা রোসাঙ রাজা ও এক শিল্পীর কাহিনী — ২,৯৬২ শব্দের পাঠ, আর তার শুরুতেই “মন্ত্রী-সান্ত্রী উজিরনাজির- কবি শিল্পীতে গমগম” করা একটি রাজসভা।

তিনটি জনগোষ্ঠীর পাঠে একই নাম, তিন রকম ভূমিকায় — চাকমা পালায় জয়ের লক্ষ্য, তঞ্চঙ্গ্যা পাঠে ছেড়ে আসা দেশ, আর মারমা গল্পে একটি রাজদরবার।

মারমা পাঠটির উৎস আরও কৌতূহলজনক: আর্কাইভে উৎস হিসেবে লেখা ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা — অর্থাৎ আরাকানের একটি রাজসভার গল্প ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের একটি সংকলনে উঠেছে, আর সেখান থেকে আর্কাইভে।

এই নামের বিস্তারটিই একটি কথা বলে। রোসাং বা রোয়াং পাহাড়ের অন্তত তিনটি জনগোষ্ঠীর স্মৃতিতে আছে — আর তিনটিতেই তা একটি অন্য দেশ, যেখান থেকে আসা হয়েছে বা যেখানে যাওয়া হয়েছিল।

[রোসাং, রোয়াং ও আরাকান একই জায়গার তিনটি নাম কি না, তা আর্কাইভের লেখাগুলো ধরে নিয়েছে, তবে কোনো পঠিত উৎসে আলাদা করে প্রমাণ করা হয়নি — যাচাই প্রয়োজন]

পালাটির পাঠ আজ কোথায়

চাদিগাং ছাড়া পালার কোনো মুদ্রিত সংস্করণের নাম পঠিত উৎসগুলোতে পাওয়া যায়নি — আর সেটিই এই পাতার সবচেয়ে বড় ফাঁক।

তুলনার জন্য: রাধামন-ধনপুদি পালার একটি মুদ্রিত সংস্করণের পূর্ণ তথ্য আর্কাইভে আছে — ‘রাধামন ধনপুদি পালা’, সম্পাদনায় ভবন্ত বিকাশ চাকমা, সংগ্রহে ইন্দুমাধব চাকমা, প্রকাশিত পেচারতল থেকে।

কিন্তু চাদিগাং ছাড়া পালার ক্ষেত্রে এমন কোনো তথ্য নেই — সম্পাদক, সংগ্রাহক, প্রকাশক বা সন, কিছুই নয়।

যা আছে তা তিনটি ভিন্ন বিবরণ, আর তিনটিই দ্বিতীয় সূত্রের — একটি থিসিস, একটি সংবাদপত্রের ফিচার আর একটি অনলাইন ম্যাগাজিনের লেখা।

এর একটি সরাসরি ফল আছে। যেহেতু কোনো প্রমাণিত পাঠ নেই, তাই নায়ক বিজয়গিরি না রাধামন — এই প্রশ্নের মীমাংসা পাঠ মিলিয়ে করা যায় না।

আর প্রথম আলো-র লেখার একটি বাক্য এই পরিস্থিতিরই ব্যাখ্যা: নির্দিষ্ট লিখিত পাঠ না থাকায় প্রত্যেক পরিবেশক কাহিনি বদলে নেন।

[চাদিগাং ছাড়া পালার কোনো সংগ্রহ, রেকর্ডিং বা মুদ্রিত সংস্করণের তথ্য কোনো পঠিত উৎসে পাওয়া যায়নি]

পাহাড়ের লোককথা কারা সংগ্রহ করেছিলেন আর কোন বইয়ে তা আছে, সে নিয়ে আলাদা লেখা আছে পাহাড়ের লোককথা কে সংগ্রহ করেছিলেন-এ।

সাহিত্যের পর্বায়নে পালাটির জায়গা

চাকমা সাহিত্যের একটি পর্বায়নেও এই ধরনের পালার জায়গা দেওয়া আছে, আর তা আর্কাইভের একটি লেখায় — কবি সুহৃদ চাকমার ভাগ অনুযায়ী।

সেই ভাগে প্রাচীন যুগ-এ পড়ে লোকসাহিত্য — জ্ঞেনহুলি বা গেঙখুলি পালা, প্রেম সাহিত্য, আর ইতিহাস-সম্পৃক্ত সাহিত্য হিসেবে রাধামন-ধনপুদি পালা।

লক্ষণীয়, পর্বায়নে রাধামন-ধনপুদিকে “ইতিহাস সম্পৃক্ত সাহিত্য” বলা হয়েছে — আর চাদিগাং ছাড়া পালা যদি তার দ্বিতীয় খণ্ড হয়, তবে সেটিও একই শ্রেণির।

এরপর মধ্য যুগ-এ পড়ে ধর্ম-সম্পৃক্ত সাহিত্য — গোজেন লামা — আর সামাজিক প্রণালী-সম্পৃক্ত সাহিত্য। আর আধুনিক যুগ ১৯০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে।

পর্বায়নের উৎস হিসেবে দেওয়া সুহৃদ চাকমা স্মারকগ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৯৪-১১২।

এই ভাগটি একটি কথা স্পষ্ট করে। চাকমা সাহিত্যচর্চায় চাদিগাং ছাড়া পালা ও রাধামন-ধনপুদি একসঙ্গে প্রাচীনতম স্তরে রাখা হয় — অর্থাৎ তাদের বয়স নিয়ে বিতর্ক থাকলেও অবস্থান নিয়ে নয়।

আর পর্বায়নটি একটি ব্যবহারিক কথাও বলে। “প্রেম সাহিত্য” আর “ইতিহাস সম্পৃক্ত সাহিত্য” — দুটোই একই যুগে, আর দুটোই গেংখুলিরা গেয়ে থাকেন। সেজন্যই একটি পরিবেশনায় প্রেমকাহিনি আর অভিযান-কাহিনি পাশাপাশি চলতে পারে, আর পরিবেশকের হাতে একটি অন্যটির ভেতরে ঢুকে যেতেও পারে।

এটিই সম্ভবত এই পাতার কেন্দ্রীয় অসঙ্গতির সবচেয়ে সরল ব্যাখ্যা। যে ঐতিহ্যে পাঠ লিখিত নয় আর দুটি কাহিনি একই সুরে একই রাতে গাওয়া হয়, সেখানে নায়কের নাম বদলে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।

গোজেন লামা, তার শ্রেণি ও সংস্করণ নিয়ে আলাদা লেখা আছে গোজেন লামা: শিবচরণের ঈশ্বর নামা-য়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

চাদিগাং ছাড়া পালা কী?

চাকমা মৌখিক সাহিত্যের একটি পালা, যা গাওয়া হয় গেংখুলি নামে পরিচিত একটি স্বতন্ত্র সুরে। এর বিষয় একটি সামরিক অভিযান ও একটি জনগোষ্ঠীর অভিবাসন। তবে এর নায়ক কে আর ঘটনা কোন শতকের — এই দুটি প্রশ্নে পঠিত উৎসগুলো তিন রকম উত্তর দেয়।

চাদিগাং মানে কী?

চট্টগ্রাম। জুমজার্নালের একটি লেখায় শব্দটি সরাসরি এই অর্থেই ব্যবহৃত — “চাদিগাং বা চট্টগ্রাম মোগল সাম্রাজ্যভুক্ত হলেও”। বানানে ভিন্নতা আছে: চাদিগাং, চাঁদিগাং, চাঁটিগাং, চাদিগাঙ।

পালাটির নায়ক কে?

উৎসভেদে আলাদা। নিধি চাকমার থিসিস ও সুপ্রিয় তালুকদারের গবেষণা অনুযায়ী রাজপুত্র বিজয়গিরি, আনুমানিক ৫৯০ খ্রিস্টাব্দে। প্রতিধ্বনির লেখায় নায়ক একই, কিন্তু সময় নবম শতক। আর প্রথম আলোর লেখায় নায়ক রাধামন, আর তাঁর অভিযান রোসাং, কাঞ্চনপুর ও কুকি রাজ্য কালনজরের বিরুদ্ধে।

বিজয়গিরির কাহিনিটা কী?

থিসিসের বিবরণ অনুযায়ী বিজয়গিরি চম্পকনগরের অভিষিক্ত রাজপুত্র ও শাক্য রাজা সংবুদ্ধের জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি মগধের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়ে আরাকান ও চট্টগ্রামের রোসাং রাজ্য জয় করেন। ফেরার পথে জানতে পারেন পিতা মারা গেছেন আর ছোট ভাই সমরগিরি রাজা হয়ে গেছেন, কারণ গুজব রটেছিল তিনি যুদ্ধে মারা গেছেন। শোকে তিনি না ফিরে জয় করা ভূমিতে আরাকানে নতুন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

চাদিগাং ছাড়া পালা কি রাধামন-ধনপুদির অংশ?

দুটি উৎস তাই বলে। প্রতিধ্বনির ভাষায় এটি “রাধামন ধনপুদি’র দ্বিতীয় খণ্ড বিশেষ”, আর প্রথম আলোয় একে বলা হয়েছে একটি সিকুয়েল। তবে নিধি চাকমার থিসিসে একে স্বাধীনভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আর সেখানে নায়কও আলাদা।

তিনটি বিবরণে এত পার্থক্য কেন?

প্রথম আলোর লেখায় একটি সম্ভাব্য কারণ দেওয়া আছে — নির্দিষ্ট লিখিত পাঠ না থাকায় প্রত্যেক পরিবেশক কাহিনি বদলে নেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কুন্তল বড়ুয়ার মতেও পালাটির কাহিনি প্রত্যেক পরিবেশকের সঙ্গে বদলায়।

গেংখুলি কী — সুর না গায়ক?

দুটোই। থিসিসে গেংখুলিকে বলা হয়েছে একটি ঐতিহ্যবাহী ও স্বতন্ত্র সুর, আর চাকমা স্বশাসিত জেলা পরিষদের পাতায় বলা হয়েছে এই ব্যালাড যাঁরা গেয়ে থাকেন তাঁদেরও গেংখুলি বলা হয়।

চম্পকনগর কোথায় ছিল?

নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। জুমজার্নালের একটি লেখায় প্রস্তাব করা হয়েছে, আরাকান-সংলগ্ন চট্টগ্রাম অঞ্চলে হরিকেল নামে একটি রাজ্য ছিল আর তার রাজধানী ছিল চম্পানগরী বা চম্পকনগর। লেখাটিতে যুক্তি হিসেবে দেওয়া হয়েছে হরিকেলের রাজাদের ‘গিরি’ উপাধি ও রৌপ্য মুদ্রার কথা। লেখায় দাবির মাত্রাও স্পষ্ট — “সম্ভবত”।

১৫৫০ সালের মানচিত্রে কী আছে?

থিসিস অনুযায়ী পর্তুগিজ ভূগোলবিদ জোয়া দে বারোস ১৫৫০ সালে Descripcao do Reino de Bangala নামে একটি মানচিত্র আঁকেন, আর তাতে কর্ণফুলী নদীর কাছে ‘Chacomas’ নামে একটি জায়গা দেখা যায়। থিসিসে অনুমান করা হয়েছে নামটি সেখানকার জনগোষ্ঠীর নাম থেকেই এসেছে।

রাজোয়াং কী?

থিসিস অনুযায়ী আরাকানের একটি ইতিহাসগ্রন্থ, যাতে চাকমা পূর্বপুরুষদের কাহিনির সঙ্গে মিলে যায় এমন একটি গল্প আছে। থিসিসে বলা হয়েছে, আরাকানের ইতিহাস চাদিগাং ছাড়া পালার কাহিনিকে সমর্থন করে। তবে বিস্তারিত তুলনা থিসিসে নেই।

চাকমা রাজাদের কালানুক্রম কী বলে?

থিসিসে সুপ্রিয় তালুকদারের গবেষণার ভিত্তিতে বলা হয়েছে, প্রথম সাতজন চাকমা রাজা আরাকানে আর অষ্টম থেকে ২৩তম রাজা উপরি বার্মায় রাজত্ব করেন। অনুমান করা হয় নবম শতক থেকে ১৩৩০ পর্যন্ত ছাব্বিশজন রাজা উপরি বার্মায় ছিলেন। ১৩৩০-এ রাজা অরুণযুগ আরাকান রাজা মাংথির কাছে রাজ্য হারান।

চাকমারা আলীকদমে কখন আসেন?

থিসিসে Chittagong Hill Tracts Gazetteer-এর সূত্রে বলা হয়েছে, ১৪৪৮ সালে চাকমা রাজা ম্‌ন ৎসনি বৌদ্ধধর্মের প্রতি অসম্মানের অভিযোগে বার্মা থেকে বিতাড়িত হয়ে আলীকদমে আশ্রয় নেন, আর চাকমাদের রামু ও টেকনাফে বসতি দেন। আর্কাইভের তঞ্চঙ্গ্যা একটি পাঠেও আলীকদমের তৈনছড়ি প্রথম বসতি হিসেবে আসে।

পালাটির কোনো মুদ্রিত সংস্করণ আছে?

কোনো পঠিত উৎসে চাদিগাং ছাড়া পালার মুদ্রিত সংস্করণ, সম্পাদক, সংগ্রাহক বা প্রকাশকের নাম পাওয়া যায়নি। তুলনায় রাধামন-ধনপুদি পালার একটি সংস্করণের পূর্ণ তথ্য আছে — সম্পাদনায় ভবন্ত বিকাশ চাকমা, সংগ্রহে ইন্দুমাধব চাকমা, প্রকাশিত পেচারতল থেকে।

গেংখুলি গান কি হারিয়ে যাচ্ছে?

নিধি চাকমার থিসিসে বলা হয়েছে, উভোগীত, থেংগা বাংগা গীত আর গেংখুলি গীতের মতো ঐতিহ্যবাহী চর্চা শিক্ষিত শ্রেণির কাছে “unfashionable” ও “backward” হয়ে উঠেছে। থিসিসের লেখক নিজে চাকমা, আর তিনি লেখেন যে নিজের ঐতিহ্য এভাবে মিলিয়ে যেতে দেখা তাঁর ভালো লাগে না।

চাকমা ইতিহাসে প্রথম নথিভুক্ত রাজা কে?

থিসিস অনুযায়ী তিব্বতি ঐতিহাসিক লামা তারানাথের ১৬০৮ সালের গ্রন্থ অনুসারে প্রথম শাস্ত্রীয়ভাবে শনাক্তযোগ্য চাকমা রাজা ছিলেন রাজা অতীতবাহন, রাজা বলসুন্দরের পুত্র। তারপর রাজা চন্দন খাঁ পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো উৎস নেই; মোগল নথি অনুযায়ী ১৭১১ সালে চন্দন খাঁ চাকমা পাহাড়িদের রাজা নির্বাচিত হন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ‘কর্পাস মহল’ নামে পরিচিত হয় কেন?

থিসিস অনুযায়ী ১৭১৫ সালে রাজা জালাল খাঁ মোগল ফৌজদারের কাছে বাণিজ্য-সুবিধার আবেদন করে বাণিজ্য-কর হিসেবে এগারো মণ তুলা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মোগল আমলে ভালো তুলা উৎপাদনের কারণে অঞ্চলটি পরিচিত হয় ‘কর্পাস মহল’ বা তুলার জমিদারি নামে। আর্কাইভের চাকমা একটি রূপকথায় জুমের ফসলের তালিকায় কার্পাস শব্দটি আছে, বন্ধনীতে অর্থ — জুম্ম তুলো।

চাকমা রাজাদের নামে ‘খাঁ’ কোথা থেকে এল?

থিসিস অনুযায়ী উপাধিটি এসেছে মোগল আমল থেকে, আর সম্ভাবনা আছে যে রাজারা মোগল সাম্রাজ্যকে প্রভাবিত করতে মুসলিম নাম নিয়েছিলেন — কারণ নাম মুসলিম শোনালেও তাঁরা ইসলাম অনুসরণ করতেন না।

চাদিগাং ছাড়া পালার কোনো পঙ্‌ক্তি কি পাওয়া যায়?

আর্কাইভের একটি লেখায় গেংখুলি গীতের দুটি পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত আছে। একটি নদী পার হওয়ার — “নাজের উল্লাসে রাধামন, খৈ গাঙত পল্লাক্কি সৈন্যগণ”, যার অর্থ সৈন্যবাহিনী খৈয় নদীতে পৌঁছালে সেনাপতি রাধামন উল্লাস করেন। আরেকটি সমুদ্রের — “অপার পানি সাগর বেই, কুল-কিনারা দেঘা নেই, জাদিপুজাত তে ঘি দিল, রোয়্যাঙ্গা দেঝত তে কুলেল।”

অভিযানে কত সৈন্য ছিল?

আর্কাইভের একটি লেখায় একটি গ্রন্থের বর্ণনার বরাতে বলা হয়েছে, রাজা বিজয়গিরি সেনাপতি রাধামনসহ ৭ চিমু অর্থাৎ ২৬ হাজার সৈন্য নিয়ে দক্ষিণে যাত্রা করেন। একই লেখায় একটি আপত্তিও আছে — ২৬ হাজার সৈন্য বহন করার মতো নৌকা পাহাড়ি পথে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না।

সেনাপতি কি একজনই ছিলেন?

না। আর্কাইভের একটি লেখা অনুযায়ী দিগ্বিজয়ে রাজা বিজয়গিরির প্রধান সেনাপতি ছিলেন রাধামন ও কুঞ্জধন। আরেকটি লেখা অনুযায়ী তদকালীন ত্রিপুরা রাজা সাহায্যের জন্য কুঞ্জধনকে একদল সৈন্যসহ রাধামনের সহকারী হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন।

অভিযানে কোন কোন দেশ জয় করা হয়েছিল?

দুটি তালিকা আছে, আর তারা পুরোপুরি মেলে না। একটিতে রোয়াং রাজ্য (বর্তমান রামু), অক্সাদেশ (আরাকান সীমান্ত), কাঞ্চননগর ও কালঞ্জর (কুকিরাজ্য)। আরেকটিতে মগদেশ, খ্যাংদেশ, অক্ষাদেশ, কাঞ্চন নগর ও কালঞ্জর। তিনটি নাম কার্যত এক, তবে শুরুর নামটি আলাদা।

যা এখনো জানা যায়নি

  • নায়ক কে — বিজয়গিরি না রাধামন, তা পঠিত উৎসগুলো থেকে মীমাংসা করা যায় না; কোনো প্রমাণিত পাঠ নেই।
  • শতক কোনটি — ষষ্ঠ না নবম, দুটি উৎসে প্রায় তিনশো বছরের ফারাক, আর প্রতিধ্বনির লেখায় সূত্র দেওয়া নেই।
  • মুদ্রিত সংস্করণ — পালাটির কোনো সংগ্রহ, রেকর্ডিং বা মুদ্রিত সংস্করণের তথ্য কোনো পঠিত উৎসে নেই।
  • নামের “ছাড়া” অংশ — চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়া না চট্টগ্রামের বাইরে অভিযান, তা কোনো উৎসে ব্যাখ্যা করা হয়নি।
  • কাঞ্চনপুর ও কালনজর — আজকের কোন জায়গা, তা কোনো পঠিত উৎসে স্পষ্ট নয়।
  • পর্বসংখ্যা — রাধামন-ধনপুদি নয় পর্বে বিভক্ত বলে জানা যায়, কিন্তু চাদিগাং ছাড়া পালার পর্বসংখ্যা কোনো উৎসে নেই।
  • মূল উৎসগ্রন্থ — সুপ্রিয় তালুকদারের চম্পকনগর সন্ধানে (১৯৯৯), আরাকানের রাজোয়াং আর দে বারোসের মানচিত্র — এই তিনটিই এই লেখার জন্য দেখা হয়নি; তথ্য থিসিসের উদ্ধৃতি থেকে।
  • প্রত্নতাত্ত্বিক সমর্থন — চম্পকনগর-সংক্রান্ত স্থাননাম-যুক্তিগুলো কোনো খননে বা শিলালিপিতে সমর্থিত কি না, তা জানা যায়নি।

তথ্যসূত্র

এই পাতার প্রতিটি দাবির পাশে তার উৎস উপরে নাম ধরে দেওয়া আছে। চাদিগাং ছাড়া পালার কোনো পাঠ এই লেখার জন্য পড়া হয়নি — সব তথ্য দ্বিতীয় সূত্রের, আর তিনটি প্রধান উৎস পরস্পর থেকে আলাদা।

  1. নিধি চাকমা, Love, Longing and Commemoration: A Study of Chakma Culture through the Ubogeet, এমএ থিসিস, ইংরেজি ও মানবিক বিভাগ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, মে ২০২১ — বিজয়গিরির কাহিনি, রাজাদের কালানুক্রম, দে বারোসের মানচিত্র, রাজোয়াং; থিসিসে উদ্ধৃত সূত্র সুপ্রিয় তালুকদার, চম্পকনগর সন্ধানে: বিবর্তনের ধারায় চাকমা জাতি, ১৯৯৯, রাঙ্গামাটি, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, পৃ. ১৯।
  2. উপল বড়ুয়া, চম্পকনগরের চাকমা সাহিত্য, প্রতিধ্বনি, ১৪ মার্চ ২০২৩ — নবম শতকের দাবি আর “দ্বিতীয় খণ্ড বিশেষ”।
  3. আহমেদ মুনির, চিরন্তন এক চাকমা প্রেমগাথা, প্রথম আলো, ২৫ জুলাই ২০২৩ — রাধামনের অভিযান, খেংগড়ং ও ধুদক, কুন্তল বড়ুয়ার মত।
  4. চাকমা স্বশাসিত জেলা পরিষদ, Culture & Tradition — গেংখুলি পরিবেশনার সময়সীমা ও তিনটি বাদ্যযন্ত্র।
  5. চাকমা জাতির আদিনিবাস সন্ধানে, জুমজার্নাল — হরিকেল ও চম্পকনগর, রাজারকূল ও চাকমারকূল, ১৬৬৬ ও ১৭১৫।
  6. পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা লেখক সমাজ ও সাহিত্য চর্চা, জুমজার্নাল — কবি সুহৃদ চাকমার পর্বায়ন।
  7. গেংখুলি ও রাধামন-ধনপুদি: চাকমা মৌখিক সাহিত্যের পাঠ, জুমজার্নাল।

সব ব্যক্তির নাম, স্থানের নাম, রাজ্যের নাম ও চাকমা শব্দ উৎসে যেভাবে আছে সেভাবেই রাখা হয়েছে। এই পাতায় কোনো জনগোষ্ঠীর উৎপত্তি-দাবিকে সমর্থন বা খণ্ডন করা হয়নি — কেবল উৎসগুলোতে যা লেখা আছে তা তুলে ধরা হয়েছে, আর কোন দাবি কোথা থেকে এসেছে তা আলাদা করে দেখানো হয়েছে। সর্বশেষ হালনাগাদ: ৮ অক্টোবর ২০২৬।

প্রসঙ্গ:গেংখুলি, চাকমা, চাকমা সাহিত্য, চাদিগাং ছাড়া পালা, লোককাহিনী

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা